বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মুষ্টিযুদ্ধ প্রতিযোগিতা-২০২৬’র সমাপনী অনুষ্ঠান
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মুষ্টিযুদ্ধ প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিযোগিতায় ২৪ পদাতিক ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন এবং ৬৬ পদাতিক ডিভিশন রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) যশোর সেনানিবাসে সদর দপ্তর ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমান।
সেনাবাহিনীর বিভিন্ন অঞ্চলের বাছাই করা মুষ্টিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় শুরু থেকেই ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। দক্ষতা, শারীরিক সক্ষমতা, ক্ষিপ্রতা ও কৌশল প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রতিযোগীরা নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরেন।

গত ২২ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মুষ্টিযুদ্ধ প্রতিযোগিতা-২০২৬-এ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন অঞ্চলের মোট ১৪টি দল অংশ নেয়। কয়েক দিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই শেষে ২৪ পদাতিক ডিভিশন সেরা নৈপুণ্য প্রদর্শন করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। আর ৬৬ পদাতিক ডিভিশন রানারআপ হয়।
প্রতিযোগিতায় ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের জন্য ১৯ পদাতিক ডিভিশনের ল্যান্স কর্পোরাল মো. হোসেন আলী শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন।
অন্যদিকে ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের এনসি(ই) শান্ত সাহেব শ্রেষ্ঠ নবীন খেলোয়াড় হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন।
তাদের অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রতিযোগিতায় আলাদাভাবে প্রশংসিত হয়। ব্যক্তিগত দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস, শারীরিক সক্ষমতা ও রিংয়ে কৌশলগত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে তারা এ পুরস্কার লাভ করেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে আয়োজিত মুষ্টিযুদ্ধ প্রতিযোগিতাটি সেনাসদস্যদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তা, আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মুষ্টিযুদ্ধ এমন একটি ক্রীড়া, যেখানে শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আত্মনিয়ন্ত্রণ, কৌশল এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দৃঢ় থাকার সক্ষমতা প্রয়োজন। ফলে সেনাসদস্যদের পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব রয়েছে।
সেনাবাহিনীর বিভিন্ন অঞ্চলের ১৪টি দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বাহিনীর প্রতিভাবান মুষ্টিযোদ্ধাদের নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ইউনিট ও ফরমেশনের খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধিরও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ দলের খেলোয়াড়দের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে কৃতিত্ব অর্জনকারী খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এ সময় বিজয়ী দল ও খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানানো হয় এবং ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও ভালো করার জন্য উৎসাহিত করা হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ও যশোর এরিয়া কমান্ডার, সেনাসদর ও যশোর এরিয়ার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া খেলোয়াড়বৃন্দ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সেনাসদস্যরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ ধরনের নিয়মিত ক্রীড়া আয়োজন সেনাসদস্যদের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাহিনীতে ক্রীড়াচর্চার পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করছে। মুষ্টিযুদ্ধ প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর সফল আয়োজনও সেনাবাহিনীর ক্রীড়া ও শারীরিক সক্ষমতা উন্নয়নে চলমান প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।