খেলাধুলার মাধ্যমে সম্প্রীতি জোরদারে সেনাবাহিনীর উদ্যোগ, লামায় জমজমাট ফুটবল আয়োজন

খেলাধুলার মাধ্যমে সম্প্রীতি জোরদারে সেনাবাহিনীর উদ্যোগ, লামায় জমজমাট ফুটবল আয়োজন

খেলাধুলার মাধ্যমে সম্প্রীতি জোরদারে সেনাবাহিনীর উদ্যোগ, লামায় জমজমাট ফুটবল আয়োজন
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করা, পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে লামা উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সম্প্রীতির বান্দরবান ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ টুর্নামেন্ট ঘিরে স্থানীয় তরুণ ও ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে লামা উপজেলায় অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচের মধ্য দিয়ে শেষ হয় প্রতিযোগিতাটি।

সেনাবাহিনীর ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড ও বান্দরবান রিজিয়নের তত্ত্বাবধানে ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ ফুটবল টুর্নামেন্টে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চারটি দল অংশ নেয়।

টুর্নামেন্টটি নকআউট পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতার ফাইনালে মুখোমুখি হয় লামা সদর ইউনিয়ন একাদশ ও ফাইতং ইউনিয়ন একাদশ। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে লামা সদর ইউনিয়ন একাদশকে ১-০ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে ফাইতং ইউনিয়ন একাদশ। আর রানার্সআপ হয় লামা সদর ইউনিয়ন একাদশ।

ফাইনাল ম্যাচে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খেলা উপভোগ করেন ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ আতীকুল করিম। এ

এসময় গাজালিয়া আর্মিক্যাম্প কমান্ডার মেজর তারেক এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

খেলাধুলার মাধ্যমে সম্প্রীতি জোরদারে সেনাবাহিনীর উদ্যোগ, লামায় জমজমাট ফুটবল আয়োজন

ফাইনাল ম্যাচ দেখতে মাঠে জড়ো হন বিপুলসংখ্যক স্থানীয় দর্শক। খেলাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তরুণ খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য উপভোগ করেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে মাঠজুড়ে ছিল দর্শকদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও করতালি।

চ্যাম্পিয়ন ফাইতং ইউনিয়ন একাদশ

ফাইনাল ম্যাচে শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ফাইতং ইউনিয়ন একাদশ একটি গোল করে লামা সদর ইউনিয়ন একাদশকে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত করে।

ম্যাচ শেষে বিজয়ী ফাইতং ইউনিয়ন একাদশকে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি এবং রানার্সআপ লামা সদর ইউনিয়ন একাদশকে রানার্সআপ ট্রফি তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় ও সেরা গোলরক্ষকের হাতে ব্যক্তিগত ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান অতিথি লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ আতীকুল করিম।

খেলাধুলার মাধ্যমে সম্প্রীতি জোরদারে সেনাবাহিনীর উদ্যোগ

স্থানীয়দের মতে, পার্বত্য এলাকার তরুণদের মধ্যে খেলাধুলার চর্চা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখার পাশাপাশি তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও দলগত চেতনা গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

‘সম্প্রীতির বান্দরবান ফুটবল টুর্নামেন্ট’ নামের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে ক্রীড়াঙ্গনের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতির বার্তাও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মাঠে বিভিন্ন ইউনিয়নের তরুণরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ।

স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা সেনাবাহিনীর এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিভাবান তরুণদের জন্য নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। এ ধরনের আয়োজন তরুণদের মাদক ও বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপনে উৎসাহিত করতে পারে।

খেলাধুলার মাধ্যমে সম্প্রীতি জোরদারে সেনাবাহিনীর উদ্যোগ, লামায় জমজমাট ফুটবল আয়োজন

জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় সুযোগ পাচ্ছে লামার খেলোয়াড়রা

টুর্নামেন্টের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলো লামা উপজেলা পর্যায়ের খেলোয়াড়দের মধ্য থেকে জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতার জন্য খেলোয়াড় বাছাই করা। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া লামা উপজেলা দলের খেলোয়াড়দের মধ্য থেকে যোগ্য ও প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের প্রাথমিকভাবে জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

ফলে স্থানীয় পর্যায়ে একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের পাশাপাশি প্রতিভা অন্বেষণেরও সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে এসব খেলোয়াড় জেলা পর্যায়ে লামার প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেতে পারেন।

উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হলো আয়োজন

বিপুলসংখ্যক স্থানীয় দর্শকের উপস্থিতিতে ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় উৎসবমুখর পরিবেশে। পুরো টুর্নামেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তত্ত্বাবধানে টুর্নামেন্টটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আয়োজনের শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের মধ্যে ট্রফি এবং সেরা খেলোয়াড় ও সেরা গোলরক্ষকের মধ্যে ব্যক্তিগত ক্রেস্ট বিতরণ করা হয়।

পার্বত্য বান্দরবানে শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ ধরনের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, নিরাপত্তা ও দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তরুণদের সুস্থ বিনোদন, ক্রীড়া বিকাশ এবং সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সেনাবাহিনীর এমন উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা ও সৌহার্দ্য আরও বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed