মিয়ানমার সীমান্তের ৩৯৮ কিলোমিটারের মধ্যে ৫৫ কিলোমিটারে বেড়া সম্পন্ন, ২০২৮ সালের মধ্যে কাজ শেষের লক্ষ্য
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
ভারতের মণিপুর রাজ্যের সঙ্গে মিয়ানমারের ৩৯৮ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্তের মধ্যে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার এলাকায় ইতোমধ্যে সীমান্ত বেড়া নির্মাণ করা হয়েছে। পুরো সীমান্তে বেড়া নির্মাণের কাজ ২০২৮ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে রাজ্য সরকার। মণিপুর বিধানসভায় গত ২ সেপ্টেম্বর এ তথ্য জানিয়েছেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোবিন্দাস কোন্থৌজাম।
কংগ্রেসের বিধায়ক কে রঞ্জিত সিংয়ের উত্থাপিত একটি ‘কলিং অ্যাটেনশন মোশন’-এর জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান। ওই আলোচনায় ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে কথিত ‘ভূমি বিনিময়’ বা ‘ল্যান্ড সোয়াপ’-এর প্রস্তাবের বিষয়টিও উঠে আসে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদার করার অংশ হিসেবে বেড়া নির্মাণের কাজ চলছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্তের যেসব অংশ এখনো চিহ্নিত বা সীমানা নির্ধারণ করা হয়নি, সেসব অংশের সীমা নির্ধারণের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, সীমান্ত পিলার নম্বর ৩২ থেকে ১৩০ পর্যন্ত মণিপুরের অংশে মোট ৩৯৮ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে ৫৫ কিলোমিটার এলাকায় ইতোমধ্যে বেড়া নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণসামগ্রী দুর্গম এলাকায় পরিবহনে নানা সমস্যার কারণে কাজের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
কোন্থৌজাম সীমান্ত পিলার ৭৫ থেকে ৭৯-এর মধ্যবর্তী মোরেহ সেক্টরকে আন্তর্জাতিক সীমান্তের অন্যতম স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে উল্লেখ করেন।
ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে কথিত ভূমি বিনিময়ের প্রস্তাব প্রসঙ্গে মণিপুরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের কাছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কোনো ধরনের যোগাযোগ বা তথ্য আসেনি।
তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে রাজ্য সরকারের কাছে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, মণিপুরের জনগণ রাজ্যের কোনো ভূখণ্ড হারানোর বিরোধিতা করে আসছে। জনগণের এই উদ্বেগের বিষয়টি রাজ্য সরকার কেন্দ্রের কাছে তুলে ধরবে।
তিনি জানান, এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কেন্দ্রীয় সরকার সংশ্লিষ্ট বা প্রভাবিত এলাকার জনগণকে বিষয়টি অবহিত করবে।
মণিপুরের সঙ্গে মিয়ানমারের দীর্ঘ ও অনেকাংশে অরক্ষিত সীমান্তের কারণে রাজ্যটি বিভিন্ন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বলেও বিধানসভায় তুলে ধরেন কোন্থৌজাম।
তিনি বলেন, সীমান্তের কিছু অংশ অরক্ষিত ও দুর্গম হওয়ায় রাজ্যে অস্ত্র, মাদক এবং অবৈধ অভিবাসনের বিস্তার নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘অরক্ষিত সীমান্তের কারণে রাজ্যকে অস্ত্র, মাদক ও অবৈধ অভিবাসনের বিস্তারের সমস্যায় ভুগতে হয়েছে।’
সীমান্তে বেড়া নির্মাণ ও সীমানা চিহ্নিতকরণকে তাই মণিপুরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে রাজ্য সরকার। ২০২৮ সালের মধ্যে পুরো সীমান্তে বেড়া নির্মাণ শেষ হলে সীমান্তপথে অস্ত্র, মাদক ও অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।