বিরোধীদের আন্দোলনে বাধা নয়, তবে জনদুর্ভোগ বরদাশত করা হবে না: পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের গঠনমূলক সমালোচনার সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরকার কোনো ধরনের বাধা দেবে না। তবে আন্দোলনের নামে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি কিংবা জনগণের জানমালের ক্ষতি করা হলে তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
বুধবার রাতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর সভা-সমাবেশ ও আন্দোলন করার অধিকার রয়েছে। সরকার বিরোধীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দিতে চায় না। তবে রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়া কিংবা জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়টি মেনে নেওয়া হবে না। এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
বিরোধী দলগুলোর লংমার্চ কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বড় ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করলে জ্বালানি ব্যবহার ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ে। তবে আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কেউ যদি জনজীবনে অশান্তি সৃষ্টি করে বা মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোরভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং পাহাড়ে সহিংসতা বন্ধের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, রাতারাতি এ ধরনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
তিনি বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে পাহাড়ের সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার, পর্যটনের বিকাশ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটিয়ে তাদের স্বাবলম্বী করে তুলতে পারলে সহিংস ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়ানোর প্রবণতা কমে আসবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জন্য স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবনযাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি উন্নয়নমূলক কার্যক্রমকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ সভায় রাঙামাটির সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি প্রতিরোধ, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকি, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, জেলা পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রকিবসহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।