পার্বত্য অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধে আমাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে- মীর হেলাল
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
পার্বত্য অঞ্চলের অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধে আমাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে। পাহাড়ে শান্তি আনতে অস্ত্র নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উন্নয়নেই শান্তি আসবে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিষ্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
তিনি বলেন পাহাড়ের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনীতি যোগাযোগ ব্যবস্থা, সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ড, ট্যুরিজম ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা গেলে অবৈধ অস্ত্র এবং এই যে সহিংসতা—এটা আস্তে আস্তে অটোমেটিক কমে আসবে।
তিনি আরও বলেন, আজ গোলাগুলি হলো সাথে সাথে আর্মি পাঠিয়ে দিলাম, বিজিবি পাঠিয়ে দিলাম, পুলিশ পাঠিয়ে দিলাম, কিছু অস্ত্র উদ্ধার করলাম—এটা কিন্তু সাস্টেইনেবল সমাধান হবে না। আমাদের পাহাড়ের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সংঘাত কমাতে হলে আমাদের এই পরিকল্পনা গুলো গ্রহণ করতে হবে। মানুষের মাঝে আত্ম কর্মসংস্থার ও শিক্ষার ব্যবস্থা করা গেলে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনা বন্ধ হয়ে যাবে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলার আইন শৃঙ্খলা, দুর্ণীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতরণ এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যাবলি তদারকি ও সমন্বয়ের লক্ষ্যে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এই কথা বলেন।
রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় রাঙ্গামাটি সংসদ সদস্য ও সাবেক পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান, সেনাবাহিনীর রাঙ্গামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার মোহাম্মদ জেনারেল নাজমুল হক, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের নব নিযুক্ত চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দিপু, রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রকিব, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট নিশাত শারমিন, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ সদস্য ও রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম পনির, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শাকিল সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, ‘আপনারা যদি একটু খেয়াল করেন, কোনো পরিবর্তনই কিন্তু ওভারনাইট হবে না। যেই পরিবর্তনটা ওভারনাইট হবে, এটা সাস্টেইনেবল হবে না। এটা স্থায়ী হবে না। মানে এটা হুট করে যেভাবে হবে, হুট করে আবার চেঞ্জও হবে। আমরা প্রক্রিয়াগতভাবে কিছু ব্যবস্থা নিচ্ছি, যেখানে আস্তে আস্তে এই অবৈধ অস্ত্র এবং এই যে সহিংসতা—এটা আস্তে আস্তে অটোমেটিক কমে আসবে। কিন্তু এটা একটা প্রসেস। প্রসেসটা হচ্ছে আইনি প্রসেস, সামাজিক উন্নয়ন প্রসেস, এডুকেশন প্রসেস, ট্যুরিজম প্রসেস, কর্মসংস্থানের প্রসেস। এটা একটা হোলিস্টিক অ্যাপ্রোচে আমাদের দেখতে হবে।’
তিনি বলেন, গোলাগুলি হয়েছে, আর্মি পাঠিয়ে দিলাম, বিজিবি পাঠিয়ে দিলাম, পুলিশ পাঠিয়ে দিলাম, কিছু অস্ত্র উদ্ধার করলাম—এটা কিন্তু সাস্টেইনেবল সমাধান হবে না। আমরা যে জায়গায় অন্ধকার, ওই জায়গাটাতে আমরা আলো দিতে চাই। এই আলোটা কিভাবে? এই আলোটা শিক্ষার মাধ্যমে দিতে চাই, সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে দিতে চাই, অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে দিতে চাই, কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দিতে চাই। কৃষক যেন তার পণ্যের ন্যায্য মূল্য পায়, এটার ব্যবস্থা আমরা করতে চাই।
এই সামগ্রিকভাবে যখন আমরা কর্মকাণ্ডগুলো ইনশাআল্লাহ পরিচালিত করতে পারবো, আপনার যে অ্যাপ্রিহেনশন—এই যে সশস্ত্র যুদ্ধ হচ্ছে, অস্ত্র আসছে—এগুলো অটোমেটিক বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ কোনো মানুষ যখন সে স্বাবলম্বী থাকে, একটা সুস্থ জীবনে থাকে, কোনো সময় বিচ্ছিন্নতাবাদী আচরণ বা সন্ত্রাসী আচরণের সাথে নিজেকে সংযুক্ত করতে চায়—এটা আমি মনে করি না, এটা আমার ব্যক্তিগত ধারণা।
তো আমরা ওই যে বললাম যে একটা হোলিস্টিক অ্যাপ্রোচে যাচ্ছি, একটা সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল সেট করে আমরা সেদিকে এগোতে চাচ্ছি। হঠকারিতা করে কোনো একটা কথা বলে দিলাম আজকে—এই কালকে থেকেই অপারেশন হবে, পরশুদিনও অপারেশন হবে অনেক অপারেশন হয়েছে, কোনোটা সাকসেসফুল হয় নাই।
তো আমরা যে অ্যাপ্রোচে কাজ করছি, আমরা স্থানীয় আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্যসহ আমাদের জেলা পরিষদের, সকল সংস্থা প্রতিনিধিসহ আমরা যেভাবে কাজ করছি—আমি বিশ্বাস করি এবং আমি শতভাগ বিশ্বাস করি, এবার আমরা ইনশাআল্লাহ সাকসেসফুল হবো। কারণ যতো আলোর ছটাটা বাড়বে, অন্ধকারের জায়গাটা অতো কমে আসবে—এটা আমি বিশ্বাস করি।’
এক প্রশ্নের জবাবে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বলেন আমাদের দলের যিনি আদর্শিক নেতা, আমাদের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, উনি বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা। উনি বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ওপেন করে দিয়েছিলেন। তার মানে উনি সরকার বিরোধীদেরকে সরকারের যুক্তি সমালোচনা করার পথ খুলে দিয়েছেন এবং আমি মনে করি এটা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এটা সমালোচনা করবে, এটা ডিবেট হবে, আমরা এটা নিয়ে জবাব দিব।
সকল মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, আমরা এটাকে উৎসাহিত করি। করুন। যতক্ষণ না পর্যন্ত দেশে অস্থিতিশীলতা হবে, বেআইনি কোনো কিছু হবে, সবকিছু অ্যালাউড। কিন্তু জনগণের জানমালের ক্ষতি হবে, জনগণকে দুর্ভোগে ফেলবে, এখানে সরকারের যা প্রয়োজন সরকার তা অবশ্যই করবে।”
রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য ও সাবেক পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের সময়ে সময়ে দুর্ঘটনা ঘটে তা খুবই অনাকাঙ্খিত। এই দুর্ঘটনা গুলোর বিচার অবশ্যই প্রশাসন করবে। ইতোমধ্যে জনগণের যে ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে।
তিনি বলেন, আজকে আমাদের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নির্দেশে পার্বত্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী তিন পার্বত্য জেলা সফর করছেন। বিশেষ সভার মধ্যে অনেক আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের এখানে অনেক গুলো ডাক্তার সংকট, শিক্ষক সংকট রয়েছে। এ গুলো দ্রুত সমাধান করা হবে বলে তিনি জানান।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।