দীঘিনালায় জন্মাষ্টমীর আলোচনা সভায় সম্প্রীতির বার্তা, প্রশংসিত সেনাবাহিনীর ভূমিকা
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় হিন্দুধর্মাবলম্বীদের ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫৩তম আবির্ভাব তিথি জন্মাষ্টমী উপলক্ষে ধর্মীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চলমান ভূমিকার প্রশংসা করেন স্থানীয়রা।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে দীঘিনালার শ্রীশ্রী সনাতন শিব মন্দিরে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল-আমিন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ ইকবাল বাহার চৌধুরী।
এসময় অনুষ্ঠানে দীঘিনালা জোনের অ্যাডজুটেন্ট লেফটেন্যান্ট আজমাঈন আহনাফ বিন খালেদ, এসএম মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার মো. জয়নুল আবেদীন, জেলা পরিষদের সদস্য শান্তি প্রিয় চাকমা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নুল আবেদীন, জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দীঘিনালা জোনের জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল-আমিন সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।”

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোন এলাকার শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয় করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সেনাবাহিনীর কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়রা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো বৈচিত্র্যপূর্ণ অঞ্চলে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও সম্প্রীতির পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় ও সামাজিক বিভিন্ন আয়োজনে নিরাপত্তা ও সহযোগিতার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সেনাবাহিনীর নিয়মিত যোগাযোগ এ অঞ্চলে পারস্পরিক আস্থা তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
জন্মাষ্টমীর মতো ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনীর জোন অধিনায়কের সরাসরি উপস্থিতি এবং সম্প্রীতির বার্তা প্রদানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন আয়োজক ও উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। তাদের মতে, ধর্মীয় উৎসবে সব সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা পার্বত্য অঞ্চলের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে।

অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে দীঘিনালা জোনের পক্ষ থেকে জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির হাতে শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে নগদ সম্মানি তুলে দেন জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল-আমিন।
আয়োজকরা জানান, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি পারস্পরিক সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই জন্মাষ্টমী উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিপুল মানুষের উপস্থিতি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ স্থানীয় পর্যায়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।