জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই: হুমায়ুন কবির
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের দিন-তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ নিয়ে কথাবার্তা চলছে। তবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে দশটার দিকে নগরের দরগা গেইট এলাকায় একটি হোটেল কনফারেন্স রুমে সিলেটের কর্মরত টেলিভিশন সাংবাদিকদের সংগঠন ইমজা নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়ে জাতিসংঘে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা আছে। ভারতের সঙ্গে হাজার সমস্যা থাকলেও আলোচনার পথ বন্ধ নেই। প্রতিবেশি হিসেবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কই থাকা উচিত।’
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দুই দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা-সম্পৃক্ততা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে হবে। বাংলাদেশের জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতার বিষয়গুলোও এ সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের একটি কার্যকর সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একইসঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের প্রত্যাশার বিষয়গুলো ভারতকে উপলব্ধি করতে হবে। ভারতের নীতিনির্ধারকেরা বিষয়টি বুঝতে শুরু করেছেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে তার দুই দফা সাক্ষাৎ হয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আলোচনার মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও ইতিবাচক পর্যায়ে নেয়া সম্ভব।’
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং ক্রয়ের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বোয়িং কিনতে হবে, এটা কেউ চাপিয়ে দিচ্ছে না। চাহিদা আছে বলেই আমেরিকা থেকে বোয়িং কেনা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও কেনা হবে।’
রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, চীন, সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গেও একটি কার্যকর কর্ম সম্পর্ক গড়ে উঠছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার প্রথম দিন থেকেই এমন একটি পররাষ্ট্রনীতির কাঠামো নিয়ে কাজ করছে, যেখানে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ শক্তিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় থাকে। ওয়াশিংটন, বেইজিং, সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গেও সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের নির্বাচনি বৈধতা ও জনগণের সমর্থনের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের দৃশ্যমানতা ও কৌশলগত গুরুত্ব বেড়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের কৌশলগত সম্পর্ক দেশের ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক সম্ভাবনা তৈরি করছে।’
পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পররাষ্ট্রনীতিতে প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয়, পুনর্বিন্যাস ও কৌশল পরিবর্তনের সুযোগ থাকতে হবে। বৈদেশিক সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতাকেও একই কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বৈদেশিক, অর্থনৈতিক, তথ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই এগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কাঠামোকে সমন্বিত ও পরস্পরের পরিপূরক হতে হবে।’
দেশের জ্বালানি খাতের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কীভাবে একটি সাইকোপ্যাথিক দুর্নীতি করা যায়, এনার্জি সেক্টর দেখলে বোঝা যাবে। তবে প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন জ্বালানি খাতকে। জ্বালানি খাতের সংকট সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।’
মক্কা চুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মক্কা চুক্তি নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলতেছে। এতে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের জন্য অস্বাভাবিক নয়। অনেক দেশই এখন একাধিক নিরাপত্তা জোটে থাকছে। জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে যেখানে যাওয়া দরকার, সেখানে যাওয়া হবে।’
মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি রপ্তানির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী আমলের সিন্ডিকেটের কারণে মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। বর্তমান সরকার এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছে। ধাপে ধাপে শ্রমশক্তি রপ্তানি হবে।’
কলকাতায় বাংলাদেশীদের হোটেলে থাকার সুযোগ না দেয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কলকাতায় বাংলাদেশীরা হোটেল না পেয়ে রাস্তায় রাত কাটানোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট উদাহরণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নজরে আনলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগানোর কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়া ও আশপাশের অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই অবস্থান কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমান চলাচল কেন্দ্র বা আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘দেশের পরিবহন ও বিমান যোগাযোগব্যবস্থা এখনো সম্ভাবনার তুলনায় সীমিত। ভৌগোলিক অবস্থান কাজে লাগিয়ে বিমান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে।’
আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভুটান, বাহরাইন ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের চেষ্টা চলছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে অভিন্ন স্বার্থে আঞ্চলিক দেশগুলো যাতে সমন্বিত অবস্থান নিতে পারে, সে বিষয়েও বাংলাদেশ কাজ করছে।’
শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। এ কারণে শান্তিরক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষতার স্বীকৃতি অর্জন করেছে।’
গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য নিতে গিয়ে সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগ উঠে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিএনপির সব অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন সিলেটে কর্মরত টেলিভিশন সাংবাদিকরা। পরে আজ মতবিনিময় করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির।
এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন-ইমজা সিলেটের সভাপতি মাহবুবুর রহমান রিপন, সাধারণ সম্পাদক আনিস রহমানসহ বিভিন্ন টেলিভিশনে কর্মরত সাংবাদিক ও বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।