মণিপুরে ২৭ কুকি-জো বেসামরিক হত্যার স্বাধীন তদন্ত চায় কুকি নারী সংগঠন
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
ভারতের মণিপুরে নারী, শিশু ও বেসামরিক মানুষ হত্যার অভিযোগের বিচার ও জবাবদিহির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন কুকি-জো সম্প্রদায়ের শত শত নারী। বুধবার কাংপোকপি জেলা সদর এলাকায় আয়োজিত এ বিক্ষোভ থেকে গত ১১ মার্চ ২০২৬ থেকে বিভিন্ন ঘটনায় নিহত ২৭ জন কুকি-জো বেসামরিক মানুষের হত্যাকাণ্ডের স্বাধীন তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
কুকি উইমেন অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসের (কেওডব্লিউএইচআর) কাংপোকপি জেলা শাখা এ কর্মসূচির আয়োজন করে। কুকি উইমেন ইউনিয়ন মণিপুরের সহযোগিতায় রাজ্যব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নারীরা নুতে কাইলহাং থেকে মেজর টি. থমাস গ্রাউন্ড পর্যন্ত মিছিল করেন। সেখানে সংক্ষিপ্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন এবং নিহতদের স্মরণে দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
কেওডব্লিউএইচআরের জেলা মুখপাত্র এনগাহনেইকিম চংলোই বলেন, ১১ মার্চ ২০২৬ থেকে বিভিন্ন ঘটনায় ২৭ জন কুকি-জো নিহত হয়েছেন বলে তাদের সংগঠনের কাছে তথ্য রয়েছে। নিহতদের মধ্যে আটজন নারী এবং দুই অনাগত শিশুও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এসব হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা ও দায়ীদের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের উদ্দেশ্য প্রতিশোধ নেওয়া নয়, বরং সত্য ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
পরে সংগঠনটির নেতারা ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন। কাংপোকপির ডেপুটি কমিশনারের মাধ্যমে দেওয়া ওই স্মারকলিপিতে হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ), সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) অথবা উপযুক্ত অন্য কোনো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে অন্তঃসত্ত্বা নারী, শিশু ও বয়স্ক বেসামরিক ব্যক্তিদের হত্যার অভিযোগসহ বেশ কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় যারাই দায়ী প্রমাণিত হোক, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন, ঝুঁকিপূর্ণ গ্রামগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় বা কোনো সংগঠনের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা বিবেচনা না করে জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কুকি নারী সংগঠনটি কয়েকটি ঘটনার সঙ্গে ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট কাউন্সিল অব নাগাল্যান্ড-ইসাক-মুইভাহ (এনএসসিএন-আইএম) এবং জেডইউএফ (কামসন) গোষ্ঠীর সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগও করেছে। তবে সংগঠনটির পক্ষ থেকেই এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে তদন্ত করে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্যতা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা জানান, তাদের দাবিগুলো আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তাদের মূল দাবি হলো হত্যাকাণ্ডগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।