সীমান্ত অঞ্চলে স্টারলিংকের ভয়ঙ্কর ফাঁদ!

সীমান্ত অঞ্চলে স্টারলিংকের ভয়ঙ্কর ফাঁদ!

সীমান্ত অঞ্চলে স্টারলিংকের ভয়ঙ্কর ফাঁদ!
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

  • পার্বত্যাঞ্চল, কক্সবাজার ও ত্রিদেশীয় সীমান্তে নিরাপত্তা ঝুঁকি
  •  স্টারলিংকের মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু বানানো সম্ভব
  •  গোয়েন্দা নজরদারি না বাড়ালে সীমান্তে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়বে

জার্নাল প্রতিবেদক

বাংলাদেশে স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংকের কার্যক্রম বিস্তৃত হওয়ার সাথে সাথে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আশঙ্কা তৈরি হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ি এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে। কক্সবাজারের মিয়ানমার সীমান্ত এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল তথা ‘সেভেন সিস্টার্স’-সংলগ্ন সীমান্তে সক্রিয় সশস্ত্র ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী থেকে শুরু করে অস্ত্র ও মাদক চোরাচালানকারীরা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ফাইবার সংযোগের বাইরে থাকা এসব এলাকায় স্যাটেলাইট ইন্টারনেট উন্নয়নের কথা বলে স্টারলিংকের ব্যবহার এখন ভয়ঙ্কর ফাঁদ হিসেবে আশঙ্কা করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেয়ার সময় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের প্রতিনিধি দলকে উপহাস করে একটি স্টারলিংক ডিভাইস উপহার দেয়ার ঘোষণা দেয়ার পর থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এই প্রযুক্তির ব্যবহার বিষয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর হাতে স্টারলিংকের নেটওয়ার্ক ব্যবহৃত হওয়ায় আশঙ্কা বাড়ছে। মিয়ানমারের নেটওয়ার্ক সেবা সঙ্কুচিত হওয়ায় বাংলাদেশে নিবন্ধিত সংযোগ বা সীমান্ত এলাকার তরঙ্গ ব্যবহারের প্রবণতা তৈরি হতে পারে। কক্সবাজার ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে আরাকান আর্মির উপস্থিতি এবং রোহিঙ্গা শিবিরকেন্দ্রিক কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা নিয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এসব গোষ্ঠী স্যাটেলাইট সংযোগ পেলে মাদক ও অস্ত্র পাচার, মুক্তিপণ আদায় এবং সীমান্তের দুই পাশে সমন্বিত তৎপরতা চালানো তাদের জন্য সহজ হবে।

বর্তমানে ইরান, ইউক্রেন, ভারত ও মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমে স্টারলিংকের ব্যবহারের উদাহরণ রয়েছে। সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে স্টারলিংক বিভিন্ন সশস্ত্র ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর দ্বারা ব্যবহৃত হওয়ায় এটি নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হতে পারে। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্টারলিংক সংযোগ চালু জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ এ অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী এই উচ্চগতির, এনক্রিপ্টেড নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে যোগাযাগ সমন্বয় ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করতে পারে।

গোয়েন্দা তথ্য বলছে, পার্বত্য এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ক্যাম্প হতে প্রায়ই অপারেশন, টহল ও এসআরপি পরিচালনা করা হয়ে থাকে। সশস্ত্র দলগুলো সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধি ও চলাচলের তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। স্টারলিংকের দ্রুতগতি সম্পন্ন ইন্টারনেট সুবিধার মাধ্যমে সশস্ত্র দলগুলো যদি নিরাপত্তা বাহিনীর গতিবিধির ওপর নজরদারি করতে পারে তবে সন্ত্রাসী দলগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা সহজতর হবে।

স্টারলিংক কিভাবে কাজ করে: স্টারলিংক হলো ইলন মাস্কের মালিকানাধীন মার্কিন প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট নির্ভর ইন্টারনেট সেবা। প্রচলিত ব্রডব্যান্ড যেখানে সাবমেরিন কেবল, ফাইবার অপটিক ও মোবাইল টাওয়ারের ওপর নির্ভরশীল, স্টারলিংক সেখানে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে (লো আর্থ অরবিট) ঘূর্ণায়মান হাজার হাজার ক্ষুদ্র স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সরাসরি গ্রাহকের কাছে ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়। এসব স্যাটেলাইট ভূপৃষ্ঠ থেকে আনুমানিক ৩৫০ থেকে এক হাজার ২০০ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থান করে। গ্রাহককে শুধু একটি ছোট ডিশ অ্যান্টেনা ও রাউটার বসাতে হয়। এর মাধ্যমে পাহাড়, গভীর বন, দ্বীপ বা সমুদ্রের মতো যেকোনো দুর্গম স্থানেও উচ্চগতির ইন্টারনেট পাওয়া সম্ভব।

পার্বত্য চট্টগ্রাম, দুর্গমতাই বড় ঝুঁকি: রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে। এসব এলাকায় বিভিন্ন সময় সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও আন্তঃগোষ্ঠী সঙ্ঘাতের ঘটনা ঘটেছে। গোয়েন্দারা বলছেন, এত দিন নেটওয়ার্কহীনতা সাধারণ মানুষের জন্য দুর্ভোগ হলেও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সমন্বিত যোগাযোগেও বাধা হিসেবে কাজ করত। স্যাটেলাইট সংযোগ সহজলভ্য হলে গভীর অরণ্যে অবস্থানরত গোষ্ঠীগুলো নিজেদের মধ্যে এবং সীমান্তের ওপারের সহযোগীদের সাথে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রাখতে পারবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে বড় ঝুঁকি বৈধ সংযোগে নয়, বরং অবৈধভাবে আনা ও নিবন্ধনহীন টার্মিনালে। বিদেশে নিবন্ধিত বা চোরাই পথে আসা যন্ত্র দেশের নিয়ন্ত্রক কাঠামোর বাইরে থেকে যায়, ফলে সেগুলোর ব্যবহারকারী শনাক্ত করা কঠিন। এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব:) ফজলে এলাহী আকবর বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে একাধিক জেনারেল নিহত হওয়ার পেছনে স্টারলিংকের প্রভাব রয়েছে। এ ছাড়াও ভারতীয় পারমাণবিক বিজ্ঞানী ও তাদের সামরিক বাহিনীর ক্ষেত্রেও স্টারলিংক ব্যবহারের কারণে একই ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, স্টারলিংকের সংযোগ হাইজ্যাক করে যোগাযোগব্যবস্থাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব, অথচ স্টারলিংকে হস্তক্ষেপ করার মতো কোনো নিজস্ব গেটওয়ে-ব্যবস্থা আমাদের নেই। তার মতে, যেখান থেকে মূল গ্রাউন্ড স্টেশন পরিচালিত হয়, সেখানে কেবল তাদের নিজস্ব লোকবলই কাজ করে; আকাশ থেকে যে বিন্দুতে সঙ্কেত নেমে আসে, তা সম্পূর্ণরূপে স্টারলিংকের নিয়ন্ত্রণাধীন। বাংলাদেশে যেখানে গেটওয়ে স্থাপিত হয়েছে, সেখানে দেশীয় লোকবল থাকলেও মূল গ্রাউন্ড স্টেশনে বাংলাদেশের কোনো প্রবেশাধিকার নেই। ফলে সেখান থেকে তারা কী তথ্য সংগ্রহ করছে বা কী করছে, তা নিশ্চিতভাবে বোঝার সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরো বলেন, ইরানও একই কারণে স্টারলিংক ব্যবহার করতে রাজি নয়। স্টারলিংক সংযোগের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির অবস্থান নির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব। কেউ স্টারলিংক ব্যবহার করলে আকাশপথে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে তাকে সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানোও সম্ভব।

তার উদ্বেগের মূল কারণ ব্যক্ত করে বলেন, দুর্গম ভূখণ্ড থেকেও কাজ করার সক্ষমতা থাকায় স্টারলিংক ব্যবহারকারীরা সরকারের আরোপিত প্রচলিত ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশনাও পাশ কাটিয়ে সংযোগ সচল রাখতে পারেন। ফলে সঙ্ঘাতপ্রবণ এলাকায় যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণের যে কৌশল রাষ্ট্র এত দিন ব্যবহার করে আসছিল, তার কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

মিয়ানমার সীমান্ত ও কক্সবাজার: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বড় অংশ এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। দেশটিতে স্টারলিংকের কোনো লাইসেন্স না থাকলেও সেখানে এর ব্যাপক ব্যবহার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বারবার উঠে এসেছে। মিয়ানমারে স্টারলিংকের লাইসেন্স না থাকলেও বিপুলসংখ্যক টার্মিনাল চোরাইপথে দেশটিতে ঢুকেছে, যা অপরাধমূলক ব্যবহারের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। এশিয়া প্যাসিফিক নেটওয়ার্ক ইনফরমেশন সেন্টারের (এপনিক) তথ্য অনুযায়ী, স্টারলিংক নীরবে মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় ইন্টারনেট সরবরাহকারীতে পরিণত হয়েছিল।

২০২৫ সালের অক্টোবরে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী কেকে পার্ক নামের একটি বড় সাইবার প্রতারণা কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে ৩০ সেট স্টারলিংক টার্মিনাল জব্দ করে এবং প্রায় দুই হাজার ২০০ জনকে আটক করে। একই সময়ে স্পেসএক্স জানায়, সন্দেহভাজন প্রতারণা কেন্দ্রের আশপাশে থাকা আড়াই হাজারের বেশি স্টারলিংক কিট তারা নিজ উদ্যোগে নিষ্ক্রিয় করেছে। পরে প্রতিষ্ঠানটি রোমিং নীতিও কঠোর করে। নতুন নিয়মে কোনো টার্মিনাল নিবন্ধিত দেশের বাইরে টানা ৩০ দিনের বেশি ব্যবহৃত হলে তা সংশ্লিষ্ট দেশে পুনঃনিবন্ধন করতে হবে; বিদ্যমান গ্রাহকদের জন্য এটি ২০২৬ সালের ১৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে। আরাকান রাজ্যে জুনের শুরু থেকেই বহু টার্মিনাল ‘রিজিয়ন রেস্ট্রিক্টেড’ হিসেবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সেভেন সিস্টার্স-মনিপুরের অভিজ্ঞতা: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইতোমধ্যে স্টারলিংকের অপব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মণিপুরের ইমফল পূর্ব জেলার কেইরাও খুনৌ এলাকায় তল্লাশি অভিযানে গ্রেনেডসহ অস্ত্র-গোলাবারুদের সাথে একটি স্টারলিংক রাউটার ও অ্যান্টেনা উদ্ধার করে নিরাপত্তা বাহিনী। যন্ত্রটির গায়ে ‘আরপিএফ/পিএলএ’ লেখা ছিল, যা মনিপুরের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন পিপলস লিবারেশন আর্মিকে নির্দেশ করে। ইলন মাস্ক তখন দাবি করেন ভারতের ওপর স্টারলিংকের বিম বন্ধ রয়েছে। তবে পরে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের অনুসন্ধানে উঠে আসে, মনিপুরের কয়েকটি এলাকায়, বিশেষ করে মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা অঞ্চলে স্টারলিংক কাজ করছিল এবং যন্ত্রগুলো মিয়ানমার থেকে চোরাইপথে আনা হয়েছে বলে নিরাপত্তা সূত্রগুলো মনে করে।

এ বিষয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব:) আশরাফুজ্জামান বলেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকাকে আশ্রয় ও চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। স্যাটেলাইট কভারেজ কোনো সীমান্ত মানে না; ফলে ত্রিদেশীয় সীমান্তের পাহাড়ি অঞ্চলে এসব গোষ্ঠী নতুন করে নেটওয়ার্ক বিস্তারের সুযোগ নিতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে আঞ্চলিক গোয়েন্দা তথ্যবিনিময় এখনই জোরদার না করলে ভবিষ্যতে সীমান্ত নিরাপত্তা জটিল হয়ে উঠতে পারে।

অস্ত্র ও মাদক চোরাচালানে নতুন হাতিয়ার: বঙ্গোপসাগর ও ত্রিদেশীয় সীমান্তপথে চোরাচালানেও স্টারলিংক ব্যবহারের নজির রয়েছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে ভারতের আন্দামান-নিকোবর পুলিশ সমুদ্রে ৪২০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের মেথঅ্যামফেটামিনসহ (এক ধরনের উচ্চমাত্রার মাদক) চোরাকারবারিদের আটক করে, যাদের কাছে একটি স্টারলিংক যন্ত্র পাওয়া যায়। পুলিশের সন্দেহ, নৌপথ খুঁজে নিতে যন্ত্রটি ব্যবহার করা হচ্ছিল। ওই চালানটি একটি মিয়ানমারের নৌযানে ধরা পড়েছিল।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

বাংলাদেশে যাত্রা ও বর্তমান অবস্থা: বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্যানুযায়ী, স্টারলিংক ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল অপারেটিং লাইসেন্স পায় এবং ২০ মে আনুষ্ঠানিকভাবে সেবা চালু করে। শুরুতে মাসিক ছয় হাজার ও চার হাজার ২০০ টাকার দু’টি আবাসিক প্যাকেজ দেয়া হয়। উচ্চমূল্যের কারণে গ্রাহক সংখ্যা এখনো সীমিত; চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে গ্রাহক ছিল তিন হাজার ৪৬৯ জন।

তবে সাম্প্রতিক একটি সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে। মোবাইল অপারেটর বাংলালিংক বিটিআরসির কাছ থেকে সীমিত পরিসরে স্টারলিংক ‘ডাইরেক্ট-টু-সেল’ সেবা চালুর অনুমোদন পেয়েছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় এই প্রযুক্তি চালুকারী প্রথম দেশ হচ্ছে বলে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে। এই প্রযুক্তিতে সাধারণ ৪জি মোবাইল ফোন বিশেষ হ্যান্ডসেট, ডিশ বা বাড়তি যন্ত্র ছাড়াই সরাসরি কক্ষপথের স্যাটেলাইটের সাথে যুক্ত হতে পারবে। শুরুতে এসএমএস, ডেটা মেসেজিং ও হোয়াটসঅ্যাপ কল করা যাবে এবং সেবার আওতায় আসবে সমুদ্র, প্রত্যন্ত দ্বীপ, উপকূলীয় জনপদ ও পাহাড়ি অঞ্চল। অনুমোদনের আগে বান্দরবান ও সন্দ্বীপসহ কয়েকটি এলাকায় দুই মাসব্যাপী পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালানো হয়। এর আগে সরকারি উদ্যোগেও পাহাড়ে স্টারলিংক পৌঁছানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের ১০০টি স্কুলে স্টারলিংক ইন্টারনেট চালুর উদ্যোগের কথা জানানো হয়।

-নয়া দিগন্ত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *