সাজেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে শাহবাগে বিক্ষোভ

সাজেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে শাহবাগে বিক্ষোভ

সাজেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে শাহবাগে বিক্ষোভ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

পার্বত্য চট্টগ্রামের সব অবৈধ ও সশস্ত্র সংগঠন নিষিদ্ধ, পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি), ঢাকা মহানগর শাখা।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) শাহবাগে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পিসিসিপি ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি রাসেল মাহমুদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সহ-সভাপতি মিজান উদ্দিন।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা দমনে সরকার কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। সাধারণ পাহাড়ি-বাঙালি, পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে সেনাবাহিনী ও যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান পরিচালনা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা। পাশাপাশি পাহাড়ে সেনা ক্যাম্প বৃদ্ধি ও যৌথ বাহিনীর কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানান বক্তারা।

সাজেকের পর্যটন পরিস্থিতি তুলে ধরে বক্তারা বলেন, তথাকথিত হরতাল ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতার কারণে পর্যটকেরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। আসন্ন দুর্গাপূজার ছুটিতে সাজেকে ভ্রমণের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলছে বলে দাবি করেন তাঁরা। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সাজেকে ভ্রমণের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানান সমাবেশের বক্তারা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির প্রসঙ্গ তুলে বক্তারা বলেন, চুক্তিতে অবৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার শর্ত থাকলেও তাঁদের অভিযোগ অনুযায়ী, পাহাড়ে এখনো অবৈধ অস্ত্র ও সশস্ত্র তৎপরতা রয়েছে। তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, আঞ্চলিক পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কোটা সুবিধা ও সরকারি অর্থ ব্যবহার করে অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহের অভিযোগও করেন বক্তারা। এসব অভিযোগের বিষয়ে সমাবেশে কোনো স্বতন্ত্র প্রমাণ উপস্থাপনের তথ্য পাওয়া যায়নি।

বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তিকে বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানান। তাঁদের মতে, পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সব জনগোষ্ঠীর সমান অধিকার, সুযোগ-সুবিধা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সমাবেশ থেকে পিসিসিপি ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি রাসেল মাহমুদ তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—পার্বত্য চট্টগ্রামের সব অবৈধ ও সশস্ত্র সংগঠনকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ করা; সাজেকে পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ভ্রমণের ওপর আরোপিত সরকারি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার; এবং পাহাড়ে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী ও যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান পরিচালনা।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান। প্রধান বক্তা ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের (পিসিএনপি) কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য শেখ আহমেদ রাজু।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পিসিসিপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শাহাদাৎ ফরাজী শাকিব, স্টুডেন্ট ফর সভরেন্টির আহ্বায়ক জিয়াউল হক, পিসিসিপির কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন কায়েশ, জনজোট বিপ্লবী মঞ্চের মুখপাত্র মুজাম্মেল মিয়াজী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ইউনাইটেড ইয়ং ফোর্সের আহ্বায়ক মো. শাকিল মিয়া, শিক্ষার্থী সৌরভ ইসলাম, স্বাধীনতা সুরক্ষা মঞ্চের সদস্যসচিব সামসুদ্দিন এবং পিসিসিপি ঢাকা মহানগর শাখার প্রচার সম্পাদক মেহেদী হাসান জাকিরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed