টেকনাফ-উখিয়ার সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন রামু সেক্টর কমান্ডার
![]()
সীমান্তে ৬টি মণ্ডপে বিজিবির বিশেষ নিরাপত্তা, দেশজুড়ে দায়িত্বে থাকবে ২ হাজার ৭২৭টি মণ্ডপে
জার্নাল প্রতিবেদক
শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রামু সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আনোয়ার। এ সময় তিনি পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও পুরোহিতদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদ্যাপনে নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং এলাকার একটি এবং হ্নীলা এলাকার দুটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মো. মাসুদ রানাসহ বিজিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে সেক্টর কমান্ডার পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা, আশপাশের পরিবেশ ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি মণ্ডপের সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় তিনি পুরোহিতদের উপহার দেন এবং পূজার আনুষ্ঠানিকতা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফ ও উখিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত ছয়টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি সদস্যরা নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম।
এদিকে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়েছে বিজিবি। পরিকল্পনার আওতায় নিয়মিত টহল জোরদার, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদ্যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ৪২৫টি মণ্ডপ। এ ছাড়া ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে থাকা ১ হাজার ১১৯টি এবং দুর্গম এলাকায় অবস্থিত ১৮৩টি পূজামণ্ডপও নিরাপত্তার আওতায় থাকবে। নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৮টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় বিজিবি সদস্যরা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন। নিরাপত্তাব্যবস্থার পাশাপাশি গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানি প্রতিরোধেও বিশেষ নজরদারি রাখা হবে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
বিজিবির পক্ষ থেকে যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা কার্যক্রম নজরে এলে দ্রুত নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপন নিশ্চিত করতে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নিয়মিত টহল ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।