রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে প্রসূতিকে হয়রানির অভিযোগ

রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে প্রসূতিকে হয়রানির অভিযোগ

রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে প্রসূতিকে হয়রানির অভিযোগ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর বিরুদ্ধে এক প্রসুতিকে হয়রানির অভিযোগ করে ফেসবুক পোষ্ট করেছেন ভূক্তভোগীর স্বামী সোহেল।

মহিলার স্বামী সোহেলের দাবী স্ত্রীকে নিয়ে চার বার রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান প্রতিবারই কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নাসরা হয়রানি করেছে কালক্ষেপন করে তার প্রসূতি স্ত্রীকে কষ্ট দিয়ে। একেকবার একেক ধরনের বিভ্রান্তকর তথ্য দিয়ে রুগী ও স্বজনদের আতংকিত করেছে। হাসপাতালে অক্সিজেনে সংকট তাও তারা বলেনি। হাসপাতালে এত দক্ষ ডাক্তার এবং অভিজ্ঞতা সম্পন্ন নার্স থাকা সত্ত্বেও ও তারা নরমাল ডেলিভারির জন্য নুন্যতম চেষ্টা ও করে নাই পরে তারা অন্যত্র রেপার করলে স্থানীয় একটি বেসরকারী হাসপাতালে নিয়ে নরমাল ডেলিভারী করাতে সক্ষম হন ডাক্তারগণ।

প্রসূতি সাদিয়া আক্তার রামগড় পৌরসভার গর্জনতলী এলাকার মো: ইউনুস সোহেলের স্ত্রী। সোহেল স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন।

প্রসূতির স্বামী সোহেল এর ফেসবুক পোষ্টি হুবহু তুলে ধরা হলো- আমার স্ত্রীর ডেলিভারির ডেইট ছিলো ২১/১০/২০২৬ ইং তারিখ।কিন্তু পেইন উঠে ১৮/১০/২০২৬ ইং সকাল থেকে।শুরু থেকেই সরকারি স্বাস্থ্য সেবার উপর অগাধ আস্থা নিয়ে রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্ত্রীকে নিয়ে যাই সকাল ৮ টা বাজে।ওখানে দুপুর পর্যন্ত থাকার পর ওনার রিলিজ দিয়ে দেয় ফলস পেইন বলে।এবং ওখানকার সবচেয়ে বড় গাইনি ডাক্তার জানায় ২২ তারিখ হাসপাতালে নিয়ে যাইতে।

বাসায় আসার পর বিকাল থেকে ব্যাথা আরো বাড়তে থাকে। তাই দেরি না করে আবারও নিয়ে যাই রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।তারা চেক করে বলে জরায়ু মুখ খুলে নাই অপেক্ষা করতে।অপেক্ষা করতে করতে রাত প্রায় ১০ টার দিকে বলে বাচ্চার হার্টবিট কম দ্রুত চিটাগং বা ফেনী নিয়ে যাইতে।

তারপর আমরা সিদ্ধান্ত নি রামগড় মেমোরিয়াল হাসপাতাল একবার নিয়ে গিয়ে ওখানকার গাইনি ডাক্তারকে দেখাই।ডাক্তার আল্ট্রা এবং চেক-আপ করার পর বলে সবকিছু নরমাল। হার্টবিট কম দেখাচ্ছে।এবং জানায় আমার স্ত্রীকে অক্সিজেন দিয়ে দেখবে বাচ্চার হার্টবিট বাড়ে কিনা। বাড়লে বলসে সবকিছু নরমাল।

অক্সিজেন দেয়ার পর আমার বাচ্চার হার্টবিট স্বাভাবিক হয়। তখন ডাক্তার বলেন আমরা চাইলে মেমোরিয়ালে/সরকারি হাসপাতাল/বাসায় যেকোন জায়গায় নিয়ে যেতে পারবো।

তিনি পোষ্টে আরো লিখেন, অথচ সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোন ডাক্তার এই সামান্য বিষয় আমাদের জানায় নাই। এমন না হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাব। তারপরও সরকারি স্বাস্থ্য সেবার উপর বিশ্বাস এবং নরমাল ডেলিভারির আশায় আবারও রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। এরপর ওখানে সারারাত রাখার পরও ওরা কোন কিছুর সদুত্তর দিতে পারে নাই।ওরা তখনও বলে জরায়ু মুখ খুলে নাই।বাচ্চা ডেলিভারি হতে সময় লাগবে।

সোহেল লিখেন, তারপর ১৯/১০/২০২৬ ইং সকালে আমরা আবারও ও বাসায় চলে আসি।এরপর ১১ টার দিকে আমার স্ত্রীর পানি ভাঙে এবং ডেলিভারির প্রচন্ড পেইন উঠে।আমি সাথে সাথে তারপরও রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। ওখানে নেয়ার পর ওনারা দেখে বলে এই রোগী এখানে ডেলিভারি সম্ভব না। পানি ভেঙে গেসে জরায়ু মুখ খুলে নাই। বাচ্চা ক্ষতি হবে।আমরা যেন বাহিরে নিয়ে যাই বা সিজারের কথা চিন্তা করি।

তারপর আবার আসি রামগড় রামগড় মেমোরিয়াল হাসপাতাল।ওখানে নিয়ে আসার পর ওখানকার গাইনি ডাক্তার চেক-আপ করার পর বলে বাচ্চার হার্টবিট ঠিক আছে। পানিও মোটামুটি আছে। ওনারা আমাদের কাছে ২ ঘন্টার সময় চায়। এরমধ্যে ওনারা নরমাল ডেলিভারির সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। এরপর ওখানকার নার্স এবং ডাক্তার এবং কর্মচারীরা যথেষ্ট পরিমাণ সাহায্য এবং নরমাল ডেলিভারির জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে এবং আলহামদুলিল্লাহ নরমাল ডেলিভারিতে আমার সন্তান দুনিয়াতে আগমন করে। মা এবং বাচ্চা আলহামদুলিল্লাহ সুস্থ আছে।

অথচ যেটা আমি সরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবার প্রতি আসা করেছি সেটা আমি পাইনি। বরং তারা তাদের দায়সারা কাজ সেরে ফেলসে। ওরা চাইলে নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করতে পারতো। তারা না করে আমাদের আরো ভয় দেখিয়ে চিটাগং/ফেনীতে রেফার্ড করে দিলো। এই হলো সরকারি স্বাস্থ্য সেবার নমুনা। আমি খুব আশা ভরসা করে আমার স্ত্রীকে রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ বার নিয়ে যাই।তারপর ও চরম হাতাশা নিয়ে ফিরে আসি।

রামগড় মেমোরিয়াল হাসপাতাল নরমাল ডেলিভারি করতে পারলে রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কেন পারলো না? হাসপাতালে এত দক্ষ ডাক্তার এবং অভিজ্ঞতা সম্পন্ন নার্স থাকা সত্ত্বেও ও তারা নরমাল ডেলিভারির জন্য নুন্যতম চেষ্টা ও করে নাই।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবিএম মোজাম্মেল হক বলেন, এমন কোন অভিযোগ পাইনি। ডেলিভারীতে আসা প্রসূতিদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তার ও নাসদের নির্দেশনা রয়েছে। তারপরও ফেসবুক পোষ্টে অভিযোগটি তিনি গুরুত্বের সাথে দেখবেন বলে জানান।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *