৫৮ বছরেও সংস্কার হয়নি কাপ্তাইয়ের বাঁশকেন্দ্র জামে মসজিদ, দুর্ঘটনার শঙ্কা

৫৮ বছরেও সংস্কার হয়নি কাপ্তাইয়ের বাঁশকেন্দ্র জামে মসজিদ, দুর্ঘটনার শঙ্কা

৫৮ বছরেও সংস্কার হয়নি কাপ্তাইয়ের বাঁশকেন্দ্র জামে মসজিদ, দুর্ঘটনার শঙ্কা

কাপ্তাইয়ের দ্বীপাঞ্চলে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে ৫৮ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত বাঁশকেন্দ্র জামে মসজিদ।

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

দেয়ালে ফাটল, ছাদ চুইয়ে পড়ে পানি; ঝুঁকিতে মুসল্লি ও মক্তমের শিশুরা

জার্নাল প্রতিবেদক

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার দ্বীপাঞ্চলে অবস্থিত বাঁশকেন্দ্র জামে মসজিদটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত মসজিদটি ৫৮ বছরেও পূর্ণাঙ্গ সংস্কার করা হয়নি। এতে ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে, ছাদ চুইয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে। ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনে নামাজ আদায় করতে গিয়ে আতঙ্কে থাকেন মুসল্লিরা। একই সঙ্গে প্রতিদিন সকালে মক্তবে কোরআন শিখতে আসা শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।

মসজিদটি রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ৪ নম্বর কাপ্তাই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশকেন্দ্র এলাকায় অবস্থিত। চারপাশে কাপ্তাই লেকের পানি থাকায় দ্বীপের মতো বিচ্ছিন্ন এ এলাকায় প্রায় ৬০০ পরিবারের বসবাস। তাঁদের অধিকাংশই লেকে মাছ শিকার, নৌকা বা সাম্পান চালানো, দিনমজুরি এবং মৌসুমি ছোটখাটো ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষে নিজেদের উদ্যোগে মসজিদটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয় মুসল্লিদের অভিযোগ, মসজিদটির অবকাঠামো অত্যন্ত দুর্বল এবং প্রয়োজনীয় পিলারেরও অভাব রয়েছে। ভবনের চারপাশের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদ দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ায় বর্ষাকালে নামাজ আদায় করতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। মসজিদের ওজুখানার অবস্থাও নাজুক।

বিশেষ করে প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজে মুসল্লিদের উপস্থিতি বেড়ে যায়। কিন্তু জায়গার সংকুলান না হওয়ায় অনেককে মসজিদের পেছনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। অন্যদিকে, প্রতিদিন সকালে শিশু-কিশোরেরা এখানে মক্তবে কোরআন পড়তে আসে। জরাজীর্ণ ভবনে তাদের পাঠদান করাতে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকেন শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।

মসজিদের মুসল্লি জয়নাল আবেদীন বলেন, “আমি কাপ্তাই লেকে নৌকা বা সাম্পান চালিয়ে সংসার চালাই। মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে সব সময় ভয় কাজ করে। চারপাশে ফাটল ধরেছে, ওজুখানার অবস্থাও ভালো নয়। কোনো সহৃদয় ব্যক্তি এগিয়ে এসে মসজিদটি নতুন করে নির্মাণ বা পূর্ণাঙ্গ সংস্কার করে দিলে আমরা নিরাপদে নামাজ আদায় করতে পারতাম।”

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. মনসুর মাস্টার বলেন, অনেক আগে দ্বীপের মধ্যে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। এখানকার অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। তাঁরা দিন এনে দিন খেয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। নিজেদের সংসার চালাতেই তাঁদের হিমশিম খেতে হয়। এ অবস্থায় মসজিদ সংস্কার করা তো দূরের কথা, ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বেতন জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়ে। অর্থাভাবে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় মসজিদটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি মসজিদটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কারে বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

মসজিদের ইমাম হাফেজ মোশাররফ হোসেন বলেন, “মসজিদটির চারপাশে ফাটল রয়েছে। অবকাঠামোও দুর্বল। এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে গিয়ে সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়—কখন কী ঘটে যায়। পার্বত্য অঞ্চল ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকায় এ ধরনের দুর্বল ভবন নিয়ে আমরা আরও উদ্বিগ্ন। তাই দ্রুত মসজিদটি সংস্কার করা প্রয়োজন।”

মসজিদের মুয়াজ্জিন মামুন হোসেন বলেন, সকালে ছোট ছোট শিশু ও কিশোরেরা কোরআন শিখতে মসজিদে আসে। তাদের নিয়ে সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। ঝড় বা ভূমিকম্পের মতো কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই মসজিদটি নিরাপদ করতে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

এ বিষয়ে ৪ নম্বর কাপ্তাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আবদুল লতিফ বলেন, মসজিদটি যে জায়গায় অবস্থিত, সেটি কর্ণফুলী পেপার মিলস লিমিটেডের। তাঁরাই মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে বাজেট পাওয়া গেলে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্থানীয় মুসল্লিদের দাবি, ধর্মীয় উপাসনালয়টির বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করা হোক। প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে মসজিদটি পূর্ণাঙ্গ সংস্কার অথবা নতুন করে নির্মাণ করা হলে ছয় শতাধিক পরিবারের মানুষ নিরাপদে নামাজ আদায় করতে পারবেন। পাশাপাশি শিশুদের কোরআন শিক্ষার জন্যও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *