ভারতের জ্বালানি সিলেট হয়ে গেলো ত্রিপুরায় - Southeast Asia Journal

ভারতের জ্বালানি সিলেট হয়ে গেলো ত্রিপুরায়

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের জ্বালানিবাহী একটি চালান সে দেশের ত্রিপুরা রাজ্যে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) বাংলাদেশের সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সঙ্গে ভারতের ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেডের (আইওসিএল) মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চুক্তির আওতায় সিলেট ও মৌলভীবাজারের সড়ক ব্যবহার করে আসাম থেকে মেঘালয় হয়ে ১০টি জ্বালানিবাহী ট্যাংকার ত্রিপুরা যায়।

ভারতীয় জ্বালানিবাহী ওই ১০টি ট্যাংকারের মধ্যে সাতটি ট্যাংকারে ৮৩ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল ও তিনটি ট্যাংকারে ২১ দশমিক ১৯ মেট্রিক টন তরলীকৃত গ্যাস (এলপিজি) রয়েছে। এর মধ্যদিয়ে ভারতের আসাম থেকে মেঘালয় হয়ে ত্রিপুরায় জ্বালানি তেল ও তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নেওয়া শুরু করলো ভারত।

চলতি বছর ভারী বর্ষণে উত্তর-পূর্ব ভারতে রাস্তার অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফলে আসামের মধ্যদিয়ে পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। এ অবস্থায় ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্য ত্রিপুরা, দক্ষিণ আসাম এবং মিজোরামে পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখতে একটি জরুরি বিকল্প পথের প্রয়োজন হয়।

এ বিষয়ে গত ৩ আগস্ট বাংলাদেশ সরকারের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সঙ্গে ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেডের (আইওসিএল) একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকালে ১০টি পেট্রোলিয়ামবাহী ট্যাংকার একত্রে একটি কনভয় হিসেবে বাংলাদেশের সিলেট-তামাবিল-ফেঞ্চুগঞ্জ-রাজনগর-মৌলভীবাজার-শমসেরনগর-চাতলাপুর পথ দিয়ে ত্রিপুরার কৈলাস্বরে রওনা দেয়।

তামাবিল শুল্ক স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, পেট্রোলিয়াম বা তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বহনকারী ট্যাংকারগুলো বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহারের জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আইওসিএল প্রশাসনিক মাশুল, চার্জ, স্থানীয় টোল এবং স্থানীয় ভূখণ্ড ও সড়ক ব্যবহারের ফিসহ অন্যান্য খরচ বহন করেই তারা দেশের সড়ক ব্যবহার করেছে।

পরীক্ষামূলক ট্রানজিট কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে বন্ধুপ্রতীম উভয় দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে যেমন নতুন মাত্রা পাবে, তেমনি দেশের রাজস্বখাত সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তামাবিল ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতীয় জ্বালানি পরিবহনকারী গাড়ি প্রবেশকালে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের উপ-কমিশনার মো. আল আমিন, তামাবিল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক মাহফুজুল ইসলাম ভূইয়া, রাজস্ব কর্মকর্তা সালেহ আমদ, গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এক এম নজরুল ইসলাম, জৈন্তাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রব, তামাবিল বিজিবির কোম্পানি কমান্ডার নায়েক সুবেদার মো. সুরুজ আলী ও তামাবিল ইমিগ্রেশন পুলিশের ইনচার্জ উপ পরিদর্শক (এসআই) রুনু মিয়া। ভারতীয়দের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় অয়েল করপোরেশনের কান্ট্রি ম্যানেজার মাজহারুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারা।

এরআগে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসে আসাম থেকে ত্রিপুরার রাস্তা (এনএইচ ৪৪) নষ্ট হওয়ায় আসাম থেকে বাংলাদেশ হয়ে ত্রিপুরায় জ্বালানি তেল পাঠিয়েছিল ভারত। সেবার বাংলাদেশ দুই মাসের জন্য জ্বালানি পরিবহনে ভারতকে ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিয়েছিল