রাঙামাটি ও বান্দরবানে বন্যায় ১৪ জনের মৃত্যু
![]()
নিউজ ডেস্ক
টানা বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ধসে পাহাড়ি জেলা রাঙামাটি ও বান্দরবানে ১৪ জনের মৃত্যু মৃত্যু হয়েছে। স্ব স্ব জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, টানা বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ধসে বান্দরবানে আট জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ জন পুরুষ ও তিন জন নারী। বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক শাহ্ মোজাহিদ উদ্দিন।
তিনি জানিয়েছেন, ‘বন্যা ও পাহাড়ধসে জেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে। আট জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার তালিকা এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। পানি কমে গেলে তালিকা করা হবে।’
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘জেলায় এবার রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধস ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে গত কয়েকদিনে পানিতে ভেসে গিয়ে এবং ডুবে আট জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে বুধবার বিকাল থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বৃষ্টি কমে যাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে জেলা সদরের কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সেবা চালু হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে জেলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ ছিল না।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ২ আগস্ট রাত থেকে শুরু হয় টানা বর্ষণ। লাগাতার আট দিনের টানা বর্ষণের ফলে ডুবে যায় জেলার প্রধান বাজার, ডিসির বাসভবন, এসপি অফিস ও বাসভবন, এলজিইডি অফিস, নির্বাচন অফিস, জজ কোর্ট, মেম্বারপাড়া, আর্মিপাড়া, হাফেজ ঘোনা, ইসলামপুর, কালাঘাটা এবং বালাঘাটাসহ শহরের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকার বাড়িঘর। মঙ্গলবার রাত থেকে বৃষ্টি কিছুটা কমতে থাকে। বুধবার বিকাল থেকে ধীরে ধীরে নেমে যায় নিচু এলাকার পানি।
এদিকে, রাঙামাটিতে তিন শিশুসহ ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ৫ আগস্ট থেকে বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে বাঘাইছড়ি উপজেলার চার, নানিয়ারচরের একজন এবং বরকলের একজন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাদের লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আক্তার বলেন, ‘৮ আগস্ট বন্যার পানিতে নিখোঁজ বাঘাইছড়ির মুসলিমব্লক গ্রামের জুয়েলের (৭) লাশ বৃহস্পতিবার বিকালে উদ্ধার করা হয়েছে। একইদিন বিকালে সাজেকের মাচালং থেকে কাওলা চাকমা (৪০), বঙ্গলতলী ইউনিয়নের করেঙ্গাতলী থেকে রাহুল বড়ুয়া (১০) ও খেদারমারা ইউনিয়নের হীরারচর এলাকা থেকে জনি চাকমার (৭) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।’
বরকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমা বিনতে আমিন বলেন, ‘গত ৭ আগস্ট বরকল উপজেলার বরকল ইউনিয়নের মাইসছড়ি গ্রামে নৌকা ডুবে নিখোঁজ হন সুমেন চাকমা (১৯)। পরদিন তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।’

নানিয়ারচর থানার ওসি সুজন হালদার বলেন, ‘৫ আগস্ট ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের ধার্যাছড়া এলাকায় ছড়া পার হতে গিয়ে বন্যার পানিতে ভেসে যান এক্ক্যোইয়া চাকমা (৮০)। পরদিন তার লাশ উদ্ধার করা হয়।’
এদিকে, জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বৃষ্টিপাত কমায় প্লাবিত এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে এখনও জেলার দুর্গম বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি, বরকল ও জুরাছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে আছে। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হয়ে উঠছে বন্যায় ভয়াবহতা। এখনও নৌকায় চলাচল করছেন স্থানীয়রা। তবে দুর্গম এলাকায় ত্রাণ সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন বন্যাদুর্গতরা।
বিলাইছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীরোত্তম তঞ্চগ্যা বলেনন, ‘উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের সাত-আট গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। যে ক্ষতি হয়েছে, তা অপূরণীয়। বুধবার ২০০ প্যাকেট শুকনো খাবারসহ ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। নতুন করে আজ আবার খাবার পাঠানো হয়েছে। তবু আমার মনে হয়, এগুলো পর্যাপ্ত নয়। যারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত আগে তাদের খাবার দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে স্থানীয় মেম্বারদের।’
বাঘাইছড়ির ইউএনও রুমানা আক্তার বলেন, ‘উপজেলার ওসব এলাকায় পানি কমলেও আশ্রয়কেন্দ্রের লোকজনের বাড়ি ফেরার মতো পরিস্থিতি নেই। তবে বৃষ্টি আর না হলে পানি নেমে যাবে। যারা আশ্রয়কেন্দ্রে আসেনি তাদের বাড়ি বাড়ি চাল, ডাল, তেল, আলু ও শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি আমরা।’
রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘জেলায় ২৮টি ইউনিয়ন ও বাঘাইছড়ি পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছিল। এর মধ্যে পাঁচ হাজার ১০০ জন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। বৃষ্টি না হওয়ায় কিছু এলাকার পানি নামতে শুরু করেছে। বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে।’