স্বাবলম্বিতার পথে ম্রো জনগোষ্ঠী: আলীকদমে সেনাবাহিনীর বহুমুখী মানবিক কার্যক্রম

স্বাবলম্বিতার পথে ম্রো জনগোষ্ঠী: আলীকদমে সেনাবাহিনীর বহুমুখী মানবিক কার্যক্রম

স্বাবলম্বিতার পথে ম্রো জনগোষ্ঠী: আলীকদমে সেনাবাহিনীর বহুমুখী মানবিক কার্যক্রম
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

বান্দরবান পার্বত্য জেলার দুর্গম আলীকদম ও তার আশপাশের পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসরত ম্রো জনগোষ্ঠীর স্বাবলম্বিতা ও জীবনমান উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একের পর এক প্রশংসনীয় উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী জানুয়ারি থেকে সেনাবাহিনীর ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড ও বান্দরবান রিজিয়নের সরাসরি তত্ত্বাবধানে কম্পিউটার, সেলাই ও ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু হতে যাচ্ছে।

আলীকদম জোনের মাধ্যমে বাস্তবায়িত এই বহুমুখী কর্মসূচি পাহাড়ি অঞ্চলে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন।

স্বাবলম্বিতার পথে ম্রো জনগোষ্ঠী: আলীকদমে সেনাবাহিনীর বহুমুখী মানবিক কার্যক্রম

গতকাল রবিবার (১৬ নভেম্বর ২০২৫) আলীকদম ম্রো কল্যাণ ছাত্রাবাসে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম রাকিব ইবনে রেজওয়ান এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, “দুর্গম এলাকায় কমিউনিটি ট্যুরিজম বিকাশে স্থানীয় ম্রো জনগোষ্ঠীকেই মালিকানা নিতে হবে; বাইরের বিনিয়োগ দিয়ে স্থায়ী উন্নয়ন সম্ভব নয়। তবে যেকোনো উদ্যোগের আগে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করে সমন্বিতভাবে কাজ করাই হবে উত্তম।”

স্বাবলম্বিতার পথে ম্রো জনগোষ্ঠী: আলীকদমে সেনাবাহিনীর বহুমুখী মানবিক কার্যক্রম

সভায় তিনি আরও বলেন—“শিক্ষা, ভোকেশনাল ট্রেনিং, আইন-শৃঙ্খলা এবং ট্যুরিজম—এই চারটি খাত শক্তিশালী হলে ম্রো জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হবে। স্বাধীনতার পর থেকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে ম্রো জনগোষ্ঠীর অবদান অমূল্য। তাই তাদের কল্যাণে সেনাবাহিনীর সহায়তা অব্যাহত থাকবে।”

রিজিয়ন কমান্ডার সীমান্ত এলাকায় সন্ত্রাসী তৎপরতা, অস্ত্র, মাদক ও বনজদ্রব্য চোরাচালান রোধে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে ম্রো জনগোষ্ঠীকে আহ্বান জানান। তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বলেন—“এই পাহাড়ে অস্ত্র শুধুই রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে থাকবে। কোনো অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী সংগঠনকে এখানে টিকতে দেওয়া হবে না।”

শিক্ষা ও মানবিক সহায়তায় সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের ভূমিকা

জানা যায়, ২০০৮ সাল থেকে সেনা তত্ত্বাবধানে পরিচালিত আলীকদম ম্রো কল্যাণ ছাত্রাবাস ম্রো শিক্ষার্থীদের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে কাজ করছে। আবাসন সুবিধার কারণে পাহাড়ের এই শিক্ষার্থীরা শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে এবং নিয়মিত পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করছে।

স্বাবলম্বিতার পথে ম্রো জনগোষ্ঠী: আলীকদমে সেনাবাহিনীর বহুমুখী মানবিক কার্যক্রম

সেনাবাহিনীর মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে একই দিন ‘ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, শুভেচ্ছা উপহার প্রদান ও শিক্ষা-সামগ্রী বিতরণ’ কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হয়। মেডিকেল ক্যাম্পে সেনাবাহিনীর চিকিৎসক দল শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য, ডেন্টাল সেবা এবং সাধারণ রোগের চিকিৎসা প্রদান করে। শতাধিক ম্রো নারী-পুরুষ ও শিশুরা এ ক্যাম্পে চিকিৎসা সেবা পায়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার এমন সুবিধা স্থানীয়দের কাছে বিশেষ আশীর্বাদ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

এ সময় রিজিয়ন কমান্ডার ম্রো শিক্ষার্থীদের হাতে বই ও খেলাধুলার সামগ্রী তুলে দেন। পাশাপাশি ম্রো কল্যাণ ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের জন্য শুভেচ্ছা উপহার এবং স্থানীয় ম্রো পরিবারগুলোর মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। উপস্থিত স্থানীয়দের মুখে তখন স্বস্তি ও আনন্দের স্পষ্ট ছাপ লক্ষ্য করা যায়।

সভা এবং পুরো দিনের কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম জোন অধিনায়ক লেঃ কর্নেল শওকাতুল মোনায়েম, নবাগত জোন অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আশিকুর রহমান আশিক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম, ইউপি চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রোসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

উল্লেখ্য, পাহাড়ি এলাকায় সন্ত্রাস দমন, সীমান্ত সুরক্ষা এবং জনকল্যাণের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান তৈরিতে সেনাবাহিনীর অব্যাহত প্রচেষ্টা পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সম্প্রীতি ও উন্নয়নকে আরও শক্তিশালী করছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *