শান্তিরক্ষা মিশনে শহিদ সবুজ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাবার কবরের পাশে শায়িত
![]()
নিউজ ডেস্ক
সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘের (ইউএন) শান্তিরক্ষা মিশনের আওতাধীন ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী ড্রোন হামলায় শহিদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষী সবুজ মিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হয়েছে।
আজ রবিবার (২১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার নিজ গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে দুপুর ২টার দিকে সেনাবাহিনীর বহনকারী হেলিকপ্টারে শহিদ সবুজ মিয়ার মরদেহ গাইবান্ধার তুলসীঘাট হেলিপ্যাডে পৌঁছে। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে মরদেহ নেওয়া হয় পলাশবাড়ী উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের আমলাগাছি (ছোট ভবনপুর) গ্রামের তার নিজ বাড়িতে। নামাজে জানাজা শেষে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান ও রাষ্ট্রীয় সম্মাননা সম্পন্ন করা হয়।
রাষ্ট্রীয় মর্যাদা শেষে বিকেলে গ্রামের বাড়িতে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
শহিদ সবুজ মিয়া পলাশবাড়ী উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের আমলাগাছি (ছোট ভবনপুর) গ্রামের মৃত হাবিদুল ইসলামের ছেলে। তিনি সুদানের আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতাধীন কাদুগলি লজিস্টিক বেসে লন্ড্রি কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এর আগে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিট থেকে ৩টা ৫০ মিনিটের মধ্যে কাদুগলি লজিস্টিক বেসে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন শান্তিরক্ষী শহিদ হন এবং আটজন আহত হন।
শহিদ সবুজ মিয়ার বাড়িতে সকাল থেকেই নেমে আসে শোকের ছায়া। মা ছকিনা বেগম ছেলের কফিন জড়িয়ে ধরে বারবার জ্ঞান হারান। স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এদিকে নিহতের স্ত্রী, উচ্চ মাধ্যমিক শেষ বর্ষের ছাত্রী নূপুর আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘বিয়ের মাত্র এক বছর আট মাসের মাথায় স্বামীকে হারালাম। সব স্বপ্ন এক মুহূর্তে শেষ হয়ে গেল।’
রংপুর সেনানিবাসের ক্যাপ্টেন মো. আলভী জানান, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে শহিদ সবুজ মিয়ার জানাজা ও দাফন সর্বোচ্চ মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছে।’
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।