বান্দরবানের জনশূন্য এলাকায় ৭ কোটির সংযোগ সড়ক, কী বলছে এলজিইডি?

বান্দরবানের জনশূন্য এলাকায় ৭ কোটির সংযোগ সড়ক, কী বলছে এলজিইডি?

বান্দরবানের জনশূন্য এলাকায় ৭ কোটির সংযোগ সড়ক, কী বলছে এলজিইডি?
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বান্দরবানের সদর উপজেলার টাইগারপাড়া এলাকায় প্রায় ৪ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জনশূন্য এলাকায় ৭ কোটির সেতু নির্মাণে পাথর, বালির পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে পাহাড়ের মাটিসহ নিম্নমানের সামগ্রী। এতে চরম শঙ্কা দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। তবে এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) দাবি, নিয়ম মেনেই কাজ করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বান্দরবানের সদরে টাইগারপাড়া হয়ে রূপালী ঝরনা পর্যন্ত এলাকার সংযোগ সড়ক নির্মাণে নির্ধারিত মানদণ্ড ও নকশা মানা হচ্ছে না। বেস ও সাব-বেসে প্রয়োজনীয় মানের খোয়া ব্যবহারের পরিবর্তে নিম্নমানের ইটের খোয়া ও অপর্যাপ্ত পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে।

এ ছাড়াও বালুর পরিবর্তে দেয়া হচ্ছে পাহাড়ের মাটি। জনমানবহীন এলাকায় কোনো বসতি ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত না থাকায় এবং এলজিইডি কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে যেনতেনভাবে উন্নয়ন কাজ সম্পাদন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়াও অভিযোগ রয়েছে অফিসকে ম্যানেজ করেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে সম্পন্ন হচ্ছে সড়ক নির্মাণ কাজ। এতে সড়কের স্থায়িত্ব ও গুণগতমান নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মাঝে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত পুরাতন ইট একটু চাপ দিলেই ভেঙে যাচ্ছে, বালুর পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে পাহাড়ের মাটি, এ ছাড়াও নিম্নমানের পাথর দিয়ে সড়ক নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, কাজ চলাকালীন সময়ে এলজিইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও তদারকি কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ছিল নামমাত্র। যার কারণে যেনতেনভাবে কাজ চালিয়ে যেতে সুযোগ পাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

বান্দরবান জেলার বাসিন্দা রায়হান উদ্দিন বলেন, ‘যেভাবে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে তা এক বছরও টেকসই হবে না। সামনের বর্ষার মৌসুমে ভেঙে যাবে সড়ক।’
 তিনি বলেন, ‘যে সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে এর আশপাশের তেমন কোনো বসতি নাই এবং জনসাধারণের তেমন চলাচল নেই বললেই চলে। অথচ এর পাশে যৌথ খামার থেকে নীলাচল সড়কটি অতি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে থাকেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় রাস্তাটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে প্রায় চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। তাই সংযোগ সড়কটি নির্মাণের চেয়ে নীলাচল সড়কটি সংস্কার করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

টাইগারপাড়ার বাসিন্দা মংসাপ্রু বলেন, আমাদের এলাকায় যে সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে সেখানে ব্যবহার করা হচ্ছে পুরাতন ইট। এ ইটগুলো হালকা হাতের চাপেই ভেঙে গুঁড়া হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়াও এ রাস্তার আশপাশে কোনো বসতি নেই। শুধুমাত্র বড় বড় বাগান রয়েছে, বাগানে যাতায়াতের সুবিধার্থে হয়তো এ রাস্তাটি করা হচ্ছে। তারপরও যেহেতু কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে, সেহেতু সড়কের গুণগতমান ঠিক রেখে কাজ করার জোর দাবি জানান তিনি।

অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক নির্মাণ কাজে নিয়োজিত ইমু কনস্ট্রাকশনের প্রতিনিধি ঠিকাদার মিলন বলেন, ‘সড়ক করতে গেলে পাহাড় কাটতেই হবে, পাহাড় না কাটলে তো উন্নয়ন হবে না। এ ছাড়াও সাইডে বিভিন্ন ধরনের সাংবাদিক যাবে, নিউজও করবে তাতে আমার কিছু যায় আসে না। নির্মাণ কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম করা হচ্ছে না। নিয়ম মেনেই কাজ করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।’

এ বিষয়ে বান্দরবান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী পারভেজ রায়হান বলেন, ‘টাইগারপাড়া এলাকায় যে সংযোগ সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে, এটি নির্মিত হলে অল্প সময়ে রেইছা চেক পোস্ট রূপালী ঝরনা হয়ে সহজেই পর্যটকরা নীলাচলে আসতে পারবেন। এ ছাড়াও আশপাশের স্থানীয়দের জীবনমান উন্নয়ন হবে।’

অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা নিয়মিত তদারকি করতেছি। যদি সড়ক নির্মাণ কাজে কোনো ধরনের অনিয়মের সত্যতা পাই, তাহলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান এলজিইডির এই কর্মকর্তা।

এলজিইডির তথ্যমতে, ২০২৪ সালে ৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটি নির্মাণের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইমু কনস্ট্রাকশন।
  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

You may have missed