পাকিস্তানে বেসামরিক প্রশাসন ও সামরিক বাহিনী মিলে যৌথ সরকার গঠনের প্রস্তাব
![]()
নিউজ ডেস্ক
পাকিস্তানের মূল সংকট দুর্বল রাষ্ট্রব্যবস্থা নয়, বরং একটি বিভক্ত রাষ্ট্রকাঠামো-যেখানে একদিকে রয়েছে বেসামরিক সরকারের সাংবিধানিক কর্তৃত্ব কিন্তু কার্যকর সক্ষমতার অভাব, অন্যদিকে সামরিক বাহিনীর রয়েছে সক্ষমতা কিন্তু সীমাবদ্ধতা রয়েছে রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা ও বৈধতার। এমনটাই মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানি অর্থনীতিবিদ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. ফারুখ সেলিম।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) সংবাদমাধ্যম জিও নিউজে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানে কার্যত একটি দ্বৈত ক্ষমতার কাঠামো বিদ্যমান-বেসামরিক নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নেয় কাগজে-কলমে, কিন্তু বাস্তবায়নের শক্তি নেই; আবার সামরিক বাহিনীর রয়েছে শক্তি, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় দিকনির্দেশনার কর্তৃত্ব নেই। এই দ্বন্দ্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব, দায় চাপানো এবং নীতিগত অচলাবস্থার জন্ম দিচ্ছে।
ড. সেলিমের মতে, এই বিভক্তির সুযোগ নিচ্ছে রাষ্ট্রবিরোধী গোষ্ঠী যেমন টিটিপি ও বিএলএ, পাশাপাশি মিত্র রাষ্ট্রগুলোও (যেমন সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত) পাকিস্তানকে নিয়ে কৌশলগত অনিশ্চয়তায় ভুগছে।
এই সংকট উত্তরণে তিনি ‘সিভিল–মিলিটারি ফিউশন (সিএমএফ)’ বা বেসামরিক–সামরিক সমন্বিত কাঠামো গঠনের প্রস্তাব দেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি চীন, তুরস্ক, দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্স, জাপান ও সিঙ্গাপুরের কথা উল্লেখ করেন-যেখানে বেসামরিক প্রশাসন, সামরিক বাহিনী, অর্থনীতি ও শিল্পখাতকে একীভূত সিদ্ধান্ত কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।
চীনে কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে সামরিক ও বেসামরিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে বিশাল প্রতিরক্ষা ও দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য শিল্প গড়ে উঠেছে। তুরস্কে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্ব যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, যার ফল হিসেবে দেশীয় ড্রোন, যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় জাতীয় নিরাপত্তা দপ্তর দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে কৌশলগত শিল্প রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে।
ড. সেলিম জোর দিয়ে বলেন, এটি রাষ্ট্রকে সামরিকীকরণ নয়, বরং সাংবিধানিক সমন্বয়-যেখানে পর্যবেক্ষণ, সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নের মধ্যে ঘর্ষণ কমানোই মূল লক্ষ্য। তার ভাষায়, ‘কর্তৃত্ব ও সক্ষমতা যখন এক জায়গায় মিলিত হয়, তখনই রাষ্ট্র শক্তিশালী হয়।’
তিনি উপসংহারে বলেন, ‘পাকিস্তানের সম্পদ, সক্ষমতা বা সাহসের অভাব নেই; অভাব রয়েছে শান্তিকালে সমন্বিতভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যবস্থার, যা সংকটকালে কার্যকরভাবে সমাধান দিতে পারে।’
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।