নারী অধিকার এবং নারী নেতৃত্ব এগিয়ে নিতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে: দেবাশীষ রায়

নারী অধিকার এবং নারী নেতৃত্ব এগিয়ে নিতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে: দেবাশীষ রায়

নারী অধিকার এবং নারী নেতৃত্ব এগিয়ে নিতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে: দেবাশীষ রায়
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথাগত প্রতিষ্ঠান ও আইনসমূহকে জেন্ডার সংবেদনশীল করার লক্ষ্যে গতকাল মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর ২০২৫) রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় একটি জাতীয় পর্যায়ের পরামর্শ সভা ও সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস)-এর উদ্যোগে এবং প্রোগ্রেসিভ, খাগড়াপুর মহিলা কল্যাণ সমিতি (কেএমকেএস) ও অনন্যা কল্যাণ সংগঠন (একেএস)-এর সহযোগিতায় “পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথাগত আইনসমূহকে জেন্ডার সংবেদনশীল করার জন্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ এবং সার্কেল চিফ মহোদয়দের সাথে জাতীয় পর্যায়ের সংলাপ” শীর্ষক এই সংলাপে সভাপতিত্ব করেন চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়।

তিনি নারী অধিকার নিশ্চিত করতে এবং নারী নেতৃত্ব এগিয়ে নিতে প্রথাগত নেতৃত্বকে আরও স্বউদ্যোগী ও সংবেদনশীল হয়ে ওঠার আহবান জানান। পাশপাশি বিবাহ নথিভুক্ত করনেও তাদের উদ্যোগী ভূমিকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের প্রতিনিধি অ্যাড. চঞ্চু চাকমা এবং উইমেন অ্যাকটিভিস্ট ফোরামের উপদেষ্টা নিরূপা দেওয়ান।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের সহকারী সমন্বয়কারী নিবেদিতা বর্মা শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের সমন্বয়কারী সঞ্জয় মজুমদার।

তিনি ২০১০–২০২৫ সময়কালে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিবাহ নিবন্ধন, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (এইঠ) পরিস্থিতি এবং জেন্ডার সংবেদনশীল নেতৃত্বের অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। এই উপস্থাপনায় দেখা যায় ২০১৩ সালে ৩ সার্কেল মিলিয়ে নারী হেডম্যানের সংখ্যা ছিলো ১১ জন, ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ জন। তবে কারবারির সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমানে বেড়েছ। ২০১৩ সালে মাত্র ৫ জন নারী কারবারি ছিলেন, ২০২৫ সালে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫০ জন। নারীর প্রতি সহিংসতা একটি নীরব সংকট। এটা রিপোর্ট হয় খুব কম।

বিশেষ আলোচনায় অংশগ্রহণ করে উইমেন অ্যাকটিভিস্ট ফোরামের উপদেষ্টা অ্যাড. সুস্মিতা চাকমা বলেন, যেহেতু প্রথাগত আইন লিখিত নয়, তাই অধিকাংশ মানুষের চর্চায় আসলে সেটা প্রথাগত আইন হয়ে উঠতে পারে। সুতরাং নারীদের অধিকারের জায়গাটিকে উপজাতি সমাজের চর্চায় নিয়ে আসতে হবে।

সিএইটি নারী হেডম্যান কারবারি নেটওয়ার্কের খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক এখিন চৌধুরী হেডম্যান হিসেবে তার লড়াইয়ের কথার পাশাপাশি বলেন বিবাহ নিবন্ধনের বিষয়টি প্রথাগত আইনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। নারী নেতৃত্বের প্রতি সমাজের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে।

উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে তিন পার্বত্য জেলার হেডম্যান–কারবারি ও নারী নেতৃবৃন্দ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রথাগত নেতৃত্বের ভূমিকা, আইন সংস্কারের সুযোগ ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন। তারা প্রথাগত আইন ও বিচারব্যবস্থায় নারীর অধিকার নিশ্চিতকরণ, জেন্ডার বৈষম্য হ্রাস এবং সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর সুপারিশ প্রদান করেন। এই পর্বটি সঞ্চালনা করেন রাঙামাটি উইমেন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরামের সভাপতি টুকু তালুকদার।

আলোচনা থেকে প্রাপ্ত সুপারিশসমূহ পরবর্তীতে সংক্ষেপ আকারে উপস্থাপন করা হয় এবং ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা ঘোষণা করা হয়।

প্রোগ্রেসিভের মুখ্য নির্বাহী পরিচালক সুচরিতা চাকমা আয়োজকদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।