অবৈধ দখল উচ্ছেদ ঘিরে আসামে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ২; ইন্টারনেট বন্ধ, ১৬৩ ধারা জারি
![]()
নিউজ ডেস্ক
অবৈধ দখলদার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে ভারতের আসাম রাজ্যের পশ্চিম কার্বি আংলং জেলা। গতকাল মঙ্গলবার সংঘটিত এ সহিংসতায় অন্তত দুইজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন বহু মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।
প্রশাসন জানিয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারার অধীনে বেআইনি জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে গুজব ও উত্তেজনা ছড়ানো রোধে কার্বি আংলং ও পশ্চিম কার্বি আংলং—এই দুই জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, খেরোনি এলাকায় শান্তি ফেরাতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। তিনি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পশুচারণের জন্য সংরক্ষিত সরকারি জমি বহিরাগতদের মাধ্যমে অবৈধভাবে দখল হয়ে আছে—এমন অভিযোগ তুলে স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিল। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের দাবিতে তারা গত ১৫ দিন ধরে অনশন কর্মসূচি পালন করছিলেন। সোমবার থেকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ওইদিন আন্দোলনকারীরা কার্বি আংলং অটোনোমাস কাউন্সিল (কেএএসি)-এর প্রধানের বাসভবন এবং খেরোনি বাজারের অন্তত ১৫টি দোকানে আগুন ধরিয়ে দেন।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানায়, এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার ক্ষতিগ্রস্তরা রাস্তায় নামেন। একই সময়ে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের দাবিতে খেরোনি বাজার এলাকায় জড়ো হন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আন্দোলনকারীরা। হঠাৎ দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। পরিস্থিতি শান্ত করতে মোতায়েন নিরাপত্তা বাহিনী চেষ্টা চালালেও উভয় পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
বর্তমানে পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী টহল জোরদার করেছে।
প্রসঙ্গত, আসামের পাহাড়ি ও সংরক্ষিত এলাকায় ভূমি দখল ও উচ্ছেদ ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে, যা মাঝেমধ্যে সহিংস রূপ নিচ্ছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।