পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানে আশার আলো: সুংসুয়াং পাড়ায় সেনাবাহিনীর সহায়তায় ইকো রিসোর্টের যাত্রা

পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানে আশার আলো: সুংসুয়াং পাড়ায় সেনাবাহিনীর সহায়তায় ইকো রিসোর্টের যাত্রা

পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানে আশার আলো: সুংসুয়াং পাড়ায় সেনাবাহিনীর সহায়তায় ইকো রিসোর্টের যাত্রা

প্রস্তাবিত রিসোর্টের নকশা।

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

বান্দরবান পার্বত্য জেলার রুমা উপজেলার কেওক্রাডং সংলগ্ন দুর্গম সুংসুয়াং পাড়ায় বসবাসরত বম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অর্থায়ন ও সহায়তায় একটি ইকো রিসোর্ট নির্মাণ প্রকল্পের প্রাথমিক উদ্বোধন করা হয়েছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মালিকানা ও পরিচালনায় গড়ে ওঠা এ রিসোর্ট, প্রত্যাবর্তনকারী বম পরিবারগুলোর জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

সুংসুয়াং পাড়া এলাকায় বম সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষের বসবাস দীর্ঘদিনের। তবে ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাস থেকে শুরু হওয়া কুকি ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ)-এর সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘাতের ফলে রুমা উপজেলায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে কেএনএফের অত্যাচার থেকে বাঁচতে বম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কিছু পরিবার নিজ পাড়া ছেড়ে ভারতের মিজোরাম ও সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।

পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানে আশার আলো: সুংসুয়াং পাড়ায় সেনাবাহিনীর সহায়তায় ইকো রিসোর্টের যাত্রা

পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর চলমান বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রুমা উপজেলায় কেএনএ সশস্ত্র সদস্যদের প্রভাব বহুলাংশে হ্রাস পায়। এর ফলে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আগ্রহ প্রকাশ করে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সেনাবাহিনী নিজস্ব ব্যবস্থাপনা ও অর্থায়নে এসব বম পরিবারকে নিজ নিজ পাড়ায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করে। ইতোমধ্যে প্রত্যাবর্তনকারী পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশন থেকে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ সহায়তায় গত বছরের ১৮ নভেম্বর থেকে বম পরিবারগুলোর নিজ আবাসভূমিতে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হয়। অদ্যাবধি মোট ২০২টি পরিবারের ৫০৩ জন সদস্য সুংসুয়াং পাড়ায় প্রত্যাবর্তন করেছেন বলে জানা গেছে।

পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানে আশার আলো: সুংসুয়াং পাড়ায় সেনাবাহিনীর সহায়তায় ইকো রিসোর্টের যাত্রা

এদিকে প্রত্যাবর্তনকারী পরিবারগুলোর টেকসই কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে চলতি বছরের ৫ জুন থেকে পর্যায়ক্রমে রুমা উপজেলার বিভিন্ন পর্যটন সম্ভাবনাময় স্থান পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ১০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত সুংসুয়াং পাড়াকে কেন্দ্র করেই এই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত রূপ পাচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর ২০২৫) সুংসুয়াং পাড়ায় ইকো রিসোর্ট নির্মাণ প্রকল্পের প্রাথমিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।

সেনাবাহিনীর ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড ও বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম রাকিব ইবনে রেজওয়ান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন।

পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানে আশার আলো: সুংসুয়াং পাড়ায় সেনাবাহিনীর সহায়তায় ইকো রিসোর্টের যাত্রা

‘দি ম্যাজিস্টিক টাইগার্স’ খ্যাত ১৬ ই বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেনাসদস্যরা পরিকল্পনা প্রণয়ন থেকে শুরু করে দুর্গম এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণে স্থানীয় জনগণকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে আসছেন। ২৪ পদাতিক ডিভিশনের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ইকো রিসোর্ট স্থাপনের ফলে প্রত্যাবর্তনকৃত বম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যদের জন্য সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং তাদের জীবনযাত্রার মানে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। রিসোর্ট থেকে অর্জিত আয়ের সম্পূর্ণ অংশ সুংসুয়াং পাড়াবাসীর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হবে।

সেনাবাহিনী জানিয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র দলগুলির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানের পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সেনাবাহিনীর এই ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

প্রসঙ্গত, পিছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উন্নয়ন ও পুনর্বাসনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

You may have missed