দেরাদুনে জাতিগত বিদ্বেষে চাকমা যুবককে হত্যা, অমিত শাহকে চিঠি দিয়ে বিচার দাবি সিডিএফআই’র
![]()
নিউজ ডেস্ক
ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের দেরাদুনে ত্রিপুরার তফসিলি জনজাতিভুক্ত ছাত্র অ্যাঞ্জেল চাকমাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দ্রুত বিচার ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে চাকমা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিয়া (সিডিএফআই)। গত শুক্রবার সংগঠনটি ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে লিখিতভাবে এই দাবি জানায়।
চিঠিতে সিডিএফআই অভিযোগ করে, অ্যাঞ্জেল চাকমা জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
সংগঠনটির দাবি, উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের বিরুদ্ধে ভারতে যে বর্ণবিদ্বেষমূলক সহিংসতা বাড়ছে, এই হত্যাকাণ্ড তারই একটি ভয়াবহ উদাহরণ। এ কারণে মামলাটি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে বিচার করে দ্রুত দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গুরুতর আহত অবস্থায় প্রায় দুই সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বৃহস্পতিবার দেরাদুনের একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান অ্যাঞ্জেল চাকমা।
সিডিএফআই জানায়, গত ৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় অ্যাঞ্জেল চাকমা ও তাঁর ছোট ভাই মাইকেল চাকমা দেরাদুনের সেলাকুই বাজারে গেলে ছয়জন স্থানীয় ব্যক্তি কোনো উসকানি ছাড়াই তাঁদের শারীরিক গঠন ও চেহারার ভিত্তিতে জাতিগতভাবে হয়রানি শুরু করে। হামলাকারীরা ‘নেপালি’, ‘চাইনিজ’, ‘চিঙ্কি’ ও ‘মোমোস’-এর মতো অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করে। প্রতিবাদ জানালে দুই ভাইয়ের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে মাইকেল চাকমার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয় এবং অ্যাঞ্জেল চাকমার গলা ও পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়।
সংগঠনটির অভিযোগ, ঘটনার পর উত্তরাখণ্ড পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করেনি এবং এফআইআর নথিভুক্ত করতেও গড়িমসি করেছে। মামলা নিতে তিন দিন সময় নেওয়া হয় এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার প্রাসঙ্গিক ধারা ও তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হয়নি। এর ফলে মূল অভিযুক্ত পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে বলে অভিযোগ করেন সিডিএফআই-এর প্রতিষ্ঠাতা সুহাস চাকমা।
সিডিএফআই আরও দাবি করেছে, উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের বিরুদ্ধে জাতিগত বিদ্বেষ ও সহিংসতা রোধে একটি পৃথক বর্ণবিদ্বেষ-বিরোধী আইন প্রণয়ন করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে দিল্লিতে অরুণাচল প্রদেশের ছাত্র নিডো তানিয়ার হত্যাকাণ্ডের পর গঠিত বেজবরুয়া কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, অ্যাঞ্জেল চাকমা হত্যার ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর হত্যা সংক্রান্ত ধারা এবং তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইন প্রয়োগ, মূল অভিযুক্তকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার, দেরাদুনে উত্তর-পূর্ব ভারতের নাগরিকদের জন্য বিশেষ হেল্পলাইন চালু এবং নিহতের পরিবারকে এক কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, অ্যাঞ্জেল চাকমা হত্যাকাণ্ড ভারতে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও জাতিগত বিদ্বেষ মোকাবিলায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।