বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক সহায়তায় প্রাণে বাঁচলেন ভাল্লুকের আক্রমণে আহত খাইংডং ম্রো

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক সহায়তায় প্রাণে বাঁচলেন ভাল্লুকের আক্রমণে আহত খাইংডং ম্রো

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক সহায়তায় প্রাণে বাঁচলেন ভাল্লুকের আক্রমণে আহত খাইংডং ম্রো
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মানবিক সহায়তা ও চিকিৎসা সেবায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আবারও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আলীকদম উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বন্য ভাল্লুকের আক্রমণে গুরুতর আহত এক স্থানীয় বাসিন্দাকে দ্রুত উদ্ধার, চিকিৎসা ও উন্নত সেবায় প্রেরণের মাধ্যমে সেনাবাহিনী যে পেশাদারিত্ব ও মানবিকতা প্রদর্শন করেছে, তা স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক সহায়তায় প্রাণে বাঁচলেন ভাল্লুকের আক্রমণে আহত খাইংডং ম্রো

গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর ২০২৫) আলীকদম উপজেলার কাইক্ষন মুরং পাড়ার বাসিন্দা খাইংডং ম্রো (৫২) ঝুম চাষকালে বন্য ভাল্লুকের আক্রমণের শিকার হন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এই ধরনের দুর্ঘটনায় দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া প্রায়ই চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে। তবে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় আহত ব্যক্তিকে অল্প সময়ের মধ্যেই আলীকদম উপজেলার বলাইপাড়া সেনাবাহিনী ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সেনাবাহিনীর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয় এবং অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে বান্দরবান সেনানিবাসের সেনাবাহিনী হাসপাতাল (এমডিএস)-এ পাঠানো হয়।

আগাম প্রস্তুতির কারণে হাসপাতালে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই কর্তব্যরত চিকিৎসক দল উন্নত চিকিৎসা শুরু করেন। চিকিৎসকদের নিরলস প্রচেষ্টায় আহত ব্যক্তিকে গুরুতর ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছেন—যা সেনাবাহিনীর চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার সক্ষমতার স্পষ্ট প্রমাণ।

ভাল্লুকের হামলায় আহত পাহাড়ি ঝুমচাষিকে চিকিৎসা দিয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করল সেনাবাহিনী

শুধু এই ঘটনাই নয়, মানবিক দায়িত্ববোধের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী সম্প্রতি আরও দুটি গুরুতর আহত শিশুর চিকিৎসা নিশ্চিত করেছে। গত ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ম্রো সম্প্রদায়ের দুই শিশু—পাওঙি ম্রো (৫) ও তর্ম ম্রো (৫ মাস)—অগ্নিদগ্ধ হয়ে বান্দরবান সেনাবাহিনী হাসপাতালে ভর্তি হয়। বর্তমানে তাদের চিকিৎসা চলমান রয়েছে এবং চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ যত্নে চিকিৎসা প্রদান করে যাচ্ছেন।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে আগত রোগী ও তাদের স্বজনদের কষ্ট লাঘবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড ও বান্দরবান রিজিয়ন মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে থাকা ও খাওয়ার সুব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি শীত মৌসুম বিবেচনায় প্রত্যেককে কম্বল ও জ্যাকেট প্রদান করা হয়েছে—যা সেনাবাহিনীর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ।

ভাল্লুকের হামলায় আহত পাহাড়ি ঝুমচাষিকে চিকিৎসা দিয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করল সেনাবাহিনী

সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি’র নির্দেশনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলের প্রত্যন্ত জনগোষ্ঠীর পাশে মানবিক সহায়তা ও চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দুর্গম ভৌগোলিক বাস্তবতা ও সীমিত যোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্যেও দ্রুত সাড়া দিয়ে জীবন রক্ষা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের আস্থা ও কৃতজ্ঞতা আরও দৃঢ় করেছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই ধারাবাহিক মানবিক কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে—দেশের প্রতিটি প্রান্তে, প্রতিটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাদের অঙ্গীকার। ভবিষ্যতেও পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে এমন সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed