ত্রিপুরায় ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার, বিশেষ বিধিনিষেধ জারি

ত্রিপুরায় ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার, বিশেষ বিধিনিষেধ জারি

ত্রিপুরায় ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার, বিশেষ বিধিনিষেধ জারি
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের সম্ভাব্য চলাচলের তথ্যের পর ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের গোমতি জেলার ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের কয়েকটি অংশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও টহল বাড়ানো হয়েছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের আলোকে গোমতি জেলা প্রশাসন ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস), ২০২৩-এর ১৬৩ ধারা অনুযায়ী বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

ত্রিপুরার সঙ্গে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় ৮৫৬ কিলোমিটার। জেলা প্রশাসনের এক আদেশে বলা হয়, সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)–এর ১৫৯ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্টের কাছ থেকে পাওয়া প্রতিবেদনে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)–এর সদস্যদের সম্ভাব্য চলাচল নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশি নাগরিক, রোহিঙ্গা ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের গোপন অনুপ্রবেশের ঝুঁকির কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত সীমান্ত অংশটি কারবুক মহকুমার আওতাধীন বর্ডার আউট পোস্ট (বিওপি) লাবোকান্ত পাড়া থেকে বিওপি চ্যাপলিন চেরা পর্যন্ত বিস্তৃত। এই এলাকায় অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং জনশান্তি বিঘ্নিত করার তৎপরতার আশঙ্কা রয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিঙ্কু লাথার স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, জননিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে এবং রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা প্রতিরোধে ১৬৩ ধারার অধীনে বিধিনিষেধ আরোপের যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

এই বিধিনিষেধ ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। নির্ধারিত সীমান্ত অংশের ভেতরে আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে ৩০০ মিটার পর্যন্ত এলাকার গ্রামগুলো এই নির্দেশনার আওতায় থাকবে।

আদেশ অনুযায়ী, প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া চারজনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সময়ে সাধারণ জনগণের চলাচলও সম্পূর্ণভাবে সীমিত থাকবে, যদি না কারবুকের উপবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (এসডিএম) লিখিত অনুমতি দেন। এ ছাড়া লাঠি, আগ্নেয়াস্ত্র বা যেকোনো ধরনের অস্ত্র বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ, বিএসএফ, সিআরপিএফ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবেন।

সরকারি কাজে নিয়োজিত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সীমান্তের ৩০০ মিটারের ভেতরে বসবাসকারী স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষেত্রেও আদেশের কিছু বিধান শিথিল রাখা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমান্তে অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *