দীঘিনালায় সেনা–পুলিশের যৌথ অভিযানে পরিত্যক্ত জুমঘর থেকে ইয়াবা তৈরির সরঞ্জামসহ যুবক আটক

দীঘিনালায় সেনা–পুলিশের যৌথ অভিযানে পরিত্যক্ত জুমঘর থেকে ইয়াবা তৈরির সরঞ্জামসহ যুবক আটক

দীঘিনালায় সেনা–পুলিশের যৌথ অভিযানে পরিত্যক্ত জুমঘর থেকে ইয়াবা তৈরির সরঞ্জামসহ যুবক আটক
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ইয়াবা তৈরির একটি মেশিন, ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক প্রস্তুতের বিভিন্ন উপকরণসহ এক যুবককে আটক করা হয়েছে। এ অভিযানের মাধ্যমে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গড়ে ওঠা একটি গোপন মাদক তৈরির কেন্দ্র উচ্ছেদ করা হয়।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেল আনুমানিক ৪টা ৫০ মিনিটে দীঘিনালা থানাধীন ১নং মেরুং ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ৯ মাইল গোলছড়িতে অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত জুমঘরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অংশ নেয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোনের একটি টিম এবং দীঘিনালা থানার পুলিশের একটি দল।

দীঘিনালা থানার এসআই (নিঃ) মোস্তাক আহামদের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে সবুজ কুমার দে (২৯) নামের এক যুবককে আটক করা হয়। তিনি চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি থানার পূর্ব ফটিকছড়ি এলাকার বাসিন্দা এবং মধু সুদন দে ও তরু বালা দে দম্পতির ছেলে।

অভিযানকালে পরিত্যক্ত জুমঘরটি তল্লাশি করে ইয়াবা তৈরির কাজে ব্যবহৃত একটি লোহার তৈরি মেশিন, হালকা গোলাপি রঙের ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেট (যার একটি ভাঙা অবস্থায় ছিল) এবং ইয়াবা প্রস্তুতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপাদান উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত সরঞ্জাম ও মাদকদ্রব্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, পাহাড়ি এই দুর্গম এলাকাকে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে গোপনে মাদক উৎপাদনের চেষ্টা চলছিল।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি বলেন, “পার্বত্য অঞ্চলে মাদকের বিস্তার রোধে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের অভিযান এলাকায় মাদক কারবারিদের জন্য শক্ত বার্তা দেবে।”

নিরাপত্তা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাহাড়ি দুর্গম অঞ্চলকে ব্যবহার করে মাদক উৎপাদন ও পাচারের যে অপচেষ্টা চলছে, তা প্রতিহত করতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও যৌথ অভিযান জোরদার করেছে। স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানানো হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পার্বত্য এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের এ ধরনের সমন্বিত অভিযান শুধু মাদক কারবারিদের নেটওয়ার্ক ভাঙতেই সহায়ক নয়, বরং যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা এবং সামগ্রিকভাবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *