সুযোগ হাতছাড়া করেছে ভারত, পাকিস্তানের জেএফ–১৭ হয়ে উঠেছে গেমচেঞ্জার
![]()
নিউজ ডেস্ক
ভারতের জন্য যে সুযোগ একসময় হাতছাড়া হয়েছিল, সেটিই আজ পাকিস্তানের জন্য বড় সামরিক সুবিধায় পরিণত হয়েছে। চীনের সহায়তায় তৈরি জেএফ–১৭ যুদ্ধবিমান এখন আন্তর্জাতিক বাজারে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে শীর্ষে। তুলনামূলক কম খরচে আধুনিক সক্ষমতা থাকায় একের পর এক দেশ এই যুদ্ধবিমান কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। আর এটি দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ভারসাম্যে তৈরি করছে নতুন বাস্তবতা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জি নিউজ বলছে, ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান জেএফ–১৭ এখন একাধিক দেশের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে। পাকিস্তান নিজ দেশে এই যুদ্ধবিমান উৎপাদন করছে এবং নিজেদের বিমানবাহিনীতেও মাঝারি সংখ্যায় ব্যবহার করছে।
তুলনামূলক কম দামে কার্যকর যুদ্ধবিমান খুঁজছে— এমন ছোট ও উন্নয়নশীল দেশগুলো জেএফ–১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমানের দিকে ঝুঁকছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সৌদি আরব ঋণের বিনিময়ে পাকিস্তান থেকে এই যুদ্ধবিমান কিনতে পারে।
চীনের যুদ্ধবিমান উন্নয়ন কর্মসূচির সূচনা হয়েছিল ১৯৭০–এর দশকে। ১৯৭৯ সালে প্রথম উড্ডয়ন করে জে–৮ যুদ্ধবিমান। ১৯৯০–এর দশকে রাশিয়ার সুখোই–২৭ সংগ্রহের মাধ্যমে চীন তার বিমানবাহিনী আধুনিকায়ন করে। আর এটিই পরবর্তীতে দেশীয় জে–১১ ফাইটার জেট প্রকল্পের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
রাশিয়ার সুখোই–৩৫ একটি এক আসনবিশিষ্ট দ্বৈত ইঞ্জিনের মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান। এতে ৪.৫ প্রজন্মের সক্ষমতার পাশাপাশি কিছু পঞ্চম প্রজন্মের বৈশিষ্ট্যও রয়েছে। এই বিমান ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪০০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারে, প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূর থেকে লক্ষ্য শনাক্ত করতে পারে এবং একই সঙ্গে ৩০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এতে আর–৩৭এম ক্ষেপণাস্ত্রসহ প্রায় ৮ হাজার কেজি অস্ত্র বহনের ক্ষমতা রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে এই বিমান ব্যাপকভাবে ব্যবহার হচ্ছে।
২০১৫ সালে চীন প্রায় ২০০ কোটি ডলারে রাশিয়া থেকে ২৪টি সুখোই–৩৫ যুদ্ধবিমান কিনে নেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের একটি বড় উদ্দেশ্য ছিল ভারত যেন এই যুদ্ধবিমানটি তথা প্ল্যাটফর্মটি কিনতে না পারে, তা নিশ্চিত করা। চীন এই যুদ্ধবিমানের প্রযুক্তি ব্যবহার করে জেএফ–১৭ যুদ্ধবিমানের উন্নয়নে এগিয়ে যায় এবং পাকিস্তানকে এর উৎপাদন অধিকার দেয়।
বর্তমানে পাকিস্তান জেএফ–১৭ যুদ্ধবিমান আরব দেশসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রের কাছে বাজারজাত করছে, যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। যদিও প্রযুক্তি হস্তান্তর নিয়ে রাশিয়া উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল, তবে পশ্চিমা শক্তির বিপরীতে চীনের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্বের কারণে মস্কো সতর্ক অবস্থান নেয়। চীন নিজে সীমিত সংখ্যক সুখোই–৩৫ কেনায় ভারত একই ধরনের যুদ্ধবিমান সংগ্রহের সুযোগ হারায়।
অন্যদিকে ভারত এখনও নিজস্ব তেজস যুদ্ধবিমান প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। ১৯৮০–এর দশকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের প্রায় চার দশক পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি স্কোয়াড্রন কার্যকরভাবে মোতায়েন করা হয়েছে।
এছাড়া উন্নত সংস্করণ তেজস এমকে–১এ তৈরি হলেও এবং ১৮০টি যুদ্ধবিমানের অর্ডার থাকলেও এখনও সরবরাহ শুরু হয়নি। পাশাপাশি তেজস এমকে–২ ও এমকেএ প্রকল্পের কাজও চলমান রয়েছে। আর সেগুলো বাস্তবায়নে আরও সময় লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।