ভারত–মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতার: সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান মিজোর ছাত্র ও সামাজিক সংগঠনের
![]()
নিউজ ডেস্ক
ভারত–মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে মিজোরামের শীর্ষ ছাত্র সংগঠন মিজো জিরলাই পাল (এমজেডপি) এবং সামাজিক সংগঠন জো রিইউনিফিকেশন অর্গানাইজেশন (জোরো)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে পাঠানো এক যৌথ স্মারকলিপিতে সংগঠন দুটি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, এই উদ্যোগ সীমান্তের দুই পাশে বসবাসকারী আদিবাসী জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে গুরুতরভাবে ব্যাহত করতে পারে।
মিজোরামের গভর্নর বিজয় কুমার সিংয়ের মাধ্যমে জমা দেওয়া স্মারকলিপিতে বলা হয়, মিজো জনগোষ্ঠীর মানুষের উৎস, ভাষা, ইতিহাস ও সামাজিক কাঠামো ঔপনিবেশিক আমলে টানা সীমান্তের দুই পাশেই বিস্তৃত। প্রশাসনিক বিভাজন সত্ত্বেও এই সম্পর্কগুলো যুগের পর যুগ শান্তিপূর্ণভাবে টিকে রয়েছে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
সংগঠনগুলোর দাবি, সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়া হলে ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্য, কৃষিকাজ, পারিবারিক যোগাযোগ এবং সামগ্রিক সামাজিক জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা স্বীকার করে যে সীমান্ত নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ, তবে সে ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনব্যবস্থা ও অধিকারকে সম্মান জানিয়ে বিকল্প, মানবিক ও সংবেদনশীল পন্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এমজেডপি ও জোরো তাদের আবেদনে জাতিসংঘের আদিবাসী জনগণের অধিকারবিষয়ক ঘোষণায় (ইউএনডিআরআইপি) ভারতের অঙ্গীকার এবং ভারতের সংবিধানের ৩৭১জি অনুচ্ছেদের অধীনে মিজোরামের বিশেষ সাংবিধানিক সুরক্ষার কথাও তুলে ধরেছে।
এর আগে এই দাবিকে সামনে রেখে আইজলে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে সংগঠন দুটি। এমজেডপি ও জোরো মূলত ভারত, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে বসবাসরত চিন-কুকি-মিজো-জোমি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে। উল্লেখ্য, মিজোরামের সঙ্গে মিয়ানমারের চিন রাজ্যের প্রায় ৫১০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যেখানে জাতিগত সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। ২০২১ সালে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা প্রায় ৩০ হাজার চিন শরণার্থী বর্তমানে মিজোরামে আশ্রয় নিয়েছেন। এরই মধ্যে মণিপুরে প্রায় ১০ কিলোমিটার ভারত–মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, উত্তর-পূর্ব ভারতের সীমান্ত অঞ্চলগুলোতে নিরাপত্তা, মানবিক বাস্তবতা ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যগত জীবনযাপনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা দীর্ঘদিন ধরেই নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি জটিল চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।