অবশেষে সীমানা নিয়ে বিরোধের অবসান, ভাসানচর সন্দ্বীপের অংশ

অবশেষে সীমানা নিয়ে বিরোধের অবসান, ভাসানচর সন্দ্বীপের অংশ

অবশেষে সীমানা নিয়ে বিরোধের অবসান, ভাসানচর সন্দ্বীপের অংশ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয়শিবির হিসেবে পরিচিত বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জেগে ওঠা ভাসানচর সন্দ্বীপ না নোয়াখালীর— দীর্ঘদিনের এ বিতর্কের প্রশ্নে অবশেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের মূল ভূখণ্ড থেকে (পানিপ্রবাহে বিচ্ছিন্ন) সাড়ে ছয় কিমি পশ্চিমে এবং নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপ থেকে প্রায় ২০ কিমি (মেঘনা চ্যানেলে বিচ্ছিন্ন) পূর্বে অবস্থিত ভাসানচরের ছয়টি মৌজা চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার অন্তর্গত হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এ চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আলোকে দীর্ঘদিনের সীমানা নির্ধারণের বিরোধ অবসানে বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রামকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সন্দ্বীপবাসী।

দীর্ঘদিন ধরে ভৌগোলিক বাস্তবতার ভিত্তিতে দ্বীপটির মালিকানা দাবি করে আসছিলেন তারা।

এর আগে ভাসানচরের সীমানা নিয়ে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ ও নোয়াখালীর হাতিয়াবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে টানাপড়েন চলছিল। ২০১৭ সালে সরকার এক প্রজ্ঞাপনে ভাসানচরকে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার অন্তর্গত দেখালে সন্দ্বীপের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর পর থেকেই সামাজিক আন্দোলন, মানববন্ধন ও আইনি লড়াই শুরু হয়।

সন্দ্বীপবাসীর দাবির মুখে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় সীমানাবিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করে। কমিটি সরেজমিন পরিদর্শন, ঐতিহাসিক দলিল, সিএস ও আরএস জরিপ পর্যালোচনা এবং স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভাসানচরের ছয়টি মৌজাকে সন্দ্বীপ উপজেলার অন্তর্ভুক্ত বলে প্রতিবেদন দেয়। ভূমি মন্ত্রণালয়ের জরিপ শাখা-২ সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়ে ১৩ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে চিঠি পাঠায়।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৯২ সালের দিকে সন্দ্বীপের ন্যায়ামস্তি ইউনিয়ন পুরোপুরি সাগরে বিলীন হয়ে যায়।

ভাঙনের পরপরই ওই এলাকায় পুনরায় চর জাগতে শুরু করে।

বন বিভাগের তথ্য মতে, সন্দ্বীপের দক্ষিণ উপকূলের কাছাকাছি নব্বইয়ের দশকে নতুন ভূমি জেগে ওঠে এবং কয়েক দশক ধরে এর আয়তন বাড়তে থাকে।

স্থানীয়ভাবে চরটি ‘ঠ্যাঙ্গারচর’ নামে পরিচিত ছিল। এ সময় সন্দ্বীপ থেকে বন বিভাগের উদ্যোগে সেখানে কিছু বনজ চারাগাছ লাগানো হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা পুনর্বাসন নিয়ে আলোচনার সময় এর নামকরণ হয় ভাসানচর এবং এটিকে নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপের আওতায় গণ্য করা হয়।

২০২১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ ভাসানচরে থানা গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেই প্রজ্ঞাপনেও ভাসানচরকে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হলে সন্দ্বীপের ছাত্র, পেশাজীবী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।

সন্দ্বীপবাসীর দাবি, ভাসানচর মূলত ভাঙনে বিলীন হওয়া ন্যায়ামস্তি ইউনিয়নের ভূমিতেই গড়ে উঠেছে। দ্বীপটি সন্দ্বীপ থেকে মাত্র আড়াই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, অথচ হাতিয়া থেকে এর দূরত্ব ২০ কিমি। ন্যায়ামস্তি ছিল সন্দ্বীপের প্রায় সব ইউনিয়নের মানুষের আদি ভিটা। সে কারণেই ভাসানচরকে নোয়াখালীর সঙ্গে যুক্ত করার সরকারি ঘোষণার তীব্র বিরোধিতা করে আসছিলেন তারা।

সন্দ্বীপের বাসিন্দা মাস্টার রিদোয়ানুল বারী বলেন, ‘আমাদের বাড়ি ছিল সাগরে বিলীন হওয়া ন্যায়ামস্তিতে। এখন সেই জায়গাটা ভাসানচরের মধ্যভাগে। তৎকালীন জনৈক রাজনীতিবিদের জোরজবরদস্তির কারণে এটিকে নোয়াখালীর অংশ করা হয়েছিল। বর্তমানে এটিকে সন্দ্বীপের অংশ করায় আমরা খুশি হয়েছি।’

সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মংচিংনু মারমা বলেন, ‘ভাসানচর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সন্দ্বীপবাসীর মধ্যে অসন্তোষ ছিল। ভূমি মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করছেন।’

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed