মণিপুরে একদিনে তিন জেলায় বিপুল অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, নিরাপত্তা অভিযান জোরদার

মণিপুরে একদিনে তিন জেলায় বিপুল অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, নিরাপত্তা অভিযান জোরদার

মণিপুরে একদিনে তিন জেলায় বিপুল অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, নিরাপত্তা অভিযান জোরদার
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ভারতের মণিপুর রাজ্যে চলমান নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনী একদিনে বড় ধরনের সাফল্যের দাবি করেছে। শুক্রবার রাজ্যের চুরাচাঁদপুর, ইম্ফল পশ্চিম ও ইম্ফল পূর্ব—এই তিন জেলায় পৃথক সমন্বিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।

সরকারি সূত্র জানায়, চুরাচাঁদপুর জেলার চুরাচাঁদপুর থানা এলাকার লয়লামকোট ও নালোন গ্রামের মধ্যবর্তী এলাকায় পরিচালিত অভিযানে ভারী ও ঘরোয়া অস্ত্রের বড় মজুত উদ্ধার হয়। এ সময় তিনটি আরপিজি গোলা, পাঁচটি ৩০ মিলিমিটার গ্রেনেড, একটি বোল্ট-অ্যাকশন .৩০৩ ক্যালিবার রাইফেল, দুটি মাঝারি পাল্লার স্থানীয়ভাবে তৈরি ‘পাম্পি’ কামান, তিনটি পাম্পি শেল, দুটি একনলা রাইফেল এবং ১০টি এসবিবিএল কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া এসব অস্ত্র ওই এলাকায় ভারী ও তাৎক্ষণিকভাবে তৈরি অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছে নিরাপত্তা বাহিনী।

একই দিনে ইম্ফল পশ্চিম জেলার ওয়াংগোই থানার আওতাধীন ওয়াহেং খুমান মামাং লেইকাই এলাকায় আরেকটি অভিযানে আরও উদ্বেগজনক অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার করা হয়। এ অভিযানে দুটি পরিবর্তিত .৩০৩ রাইফেল, ম্যাগাজিনসহ তিনটি পিস্তল, বিভিন্ন অস্ত্রের ছয়টি ম্যাগাজিন, তিনটি নম্বর–৩৬ উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গ্রেনেড, বিভিন্ন ক্যালিবারের ২৩ রাউন্ড তাজা গুলি, একটি ডেটোনেটর, চারটি মর্টার বোমার শেল, একটি আইইডি এবং প্রায় এক কেজি ওজনের বিস্ফোরক জব্দ করা হয়।

অন্যদিকে, ইম্ফল পূর্ব জেলার সাগোলমাং থানার আওতাধীন নাওত্রোক পাহাড়ি এলাকার পাদদেশে চালানো অভিযানে একটি ডাবল ব্যারেল ব্রিচ-লোডিং বন্দুক, একটি দেশীয়ভাবে তৈরি ৯ মিলিমিটার পিস্তল (খালি ম্যাগাজিনসহ), দুটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন হ্যান্ড গ্রেনেড, একটি প্র্যাকটিস রাইফেল গ্রেনেড, দুটি ইনসাস রাইফেলের ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড তাজা গুলি, একটি বুলেটপ্রুফ হেলমেট, দুটি বুলেটপ্রুফ কভার ও দুটি বুলেটপ্রুফ লোহার প্লেট উদ্ধার করা হয়।

নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব উদ্ধার চলমান বিশেষ নিরাপত্তা অভিযানের অংশ, যার লক্ষ্য রাজ্যে সহিংসতা প্রতিরোধ, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার রোধ এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও বিস্ফোরকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠী শনাক্তে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে এবং আশপাশের এলাকায় তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে জাতিগত সংঘাত ও নিরাপত্তাজনিত অস্থিরতায় ভুগছে মণিপুর। এ প্রেক্ষাপটে একদিনে রাজ্যের তিনটি জেলায় এত বিপুল অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা পরিস্থিতির গভীরতা ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মাত্রা নতুন করে সামনে আনছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।