সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু ও জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারে থাইল্যান্ড–মিয়ানমার আলোচনা

সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু ও জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারে থাইল্যান্ড–মিয়ানমার আলোচনা

সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু ও জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারে থাইল্যান্ড–মিয়ানমার আলোচনা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু এবং জ্বালানি সহযোগিতা গভীর করার বিষয়ে আলোচনা করেছে বলে জানিয়েছেন থাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেটকিও। বুধবার ফুকেটে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থান শোয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।

সিহাসাক জানান, তার সরকার মিয়ানমারকে আবারও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ান (এএসইএএন)-এ পূর্ণাঙ্গ অংশগ্রহণে ফিরিয়ে আনতে চায়। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর জান্তা সরকারকে আসিয়ানের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলো থেকে বাদ দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “থাইল্যান্ড মিয়ানমারকে আবার আসিয়ানের সঙ্গে যুক্ত করার সেতু হতে চায়। আমরা চাই মিয়ানমার আসিয়ান পরিবারের অংশ হোক। পুনঃসম্পৃক্ততার জন্য কাজ করাই আমাদের নীতি।” তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ক্ষেত্রে মিয়ানমারকে আঞ্চলিক জোট ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগের বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দেখাতে হবে।

উল্লেখ্য, আসিয়ান মিয়ানমারের সাম্প্রতিক জান্তা-আয়োজিত নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেয়নি এবং কোনো পর্যবেক্ষক দলও পাঠায়নি।

বুধবার সন্ধ্যায় প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠকে দুই দেশের মন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। জান্তা-আয়োজিত ধাপে ধাপে নির্বাচন জানুয়ারির শেষ দিকে শেষ হওয়ার পর এটিই ছিল দুই দেশের মধ্যে প্রথম এমন বৈঠক।

সিহাসাক জানান, থান শোয়ে তাকে বলেছেন যে এপ্রিলের ঐতিহ্যবাহী নববর্ষ উৎসবের আগে মিয়ানমারে নতুন সরকার গঠন করা হবে এবং দেশের স্থিতিশীলতা হবে তাদের অগ্রাধিকার।

থাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনে সীমান্তবর্তী জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগ সহজতর করতে থাইল্যান্ড সহায়তা দিতে প্রস্তুত, যাতে মিয়ানমারে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অগ্রগতি হয়।

তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, এ বৈঠককে মিয়ানমারের নির্বাচনের ফলাফল স্বীকৃতি বা সমর্থন হিসেবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। তার মতে, পরিস্থিতির অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে এটি শান্তি ও সংলাপের পথে সহায়ক হতে পারে।

সিহাসাক বলেন, মিয়ানমারে টেকসই শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা হলে তা থাইল্যান্ডের জাতীয় নিরাপত্তা ও দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্যও ইতিবাচক হবে।

যদিও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে, দেশজুড়ে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে জান্তা বাহিনীর নির্বিচার হামলা বন্ধ হয়নি। মঙ্গলবার সাগাইং অঞ্চলের খিন-উ এলাকায় একটি স্কুলের কাছে বিমান হামলায় তিনজন বেসামরিক নিহত ও আটজন আহত হন। গত সপ্তাহে রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকতাউ ও ম্রাউক-উ টাউনশিপে বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্র ও বাড়িঘরে বোমা হামলায় সাতজন নিহত হন, যার মধ্যে সাত মাস বয়সী এক শিশুও ছিল।

দুই দেশের ২ হাজার ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত বিবেচনায় সীমান্ত স্থিতিশীলতা বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল। সিহাসাক বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু করা উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হবে।

তিনি বলেন, “আমরা যত দ্রুত সম্ভব সীমান্ত বাণিজ্য চালু করতে একমত হয়েছি। তবে এর জন্য স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। তাই থাই সীমান্তবর্তী জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংলাপ সহজতর করতে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছি।”

দুই পক্ষ মিয়ানমারে পরিচালিত থাই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ—বিশেষ করে বিনিময় হার ও কাঁচামাল আমদানিসংক্রান্ত নিয়ম—শিথিল করার বিষয়েও আলোচনা করেছে।

জ্বালানি সহযোগিতাও ছিল আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সিহাসাক জানান, থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি পিটিটি (পিটিটি) মিয়ানমারের সমুদ্র উপকূলবর্তী গ্যাসক্ষেত্রে নতুন অনুসন্ধান ও উৎপাদনে আগ্রহী। পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় ব্যাংকক।

থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশ প্রতিবেশী হিসেবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা, সীমান্ত বাণিজ্য পুনরুজ্জীবন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজতর করার বিষয়ে একমত হয়েছে। মিয়ানমারে কার্যরত থাই বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে সহায়তার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

এ ছাড়া অনলাইন প্রতারণা চক্র, মাদক পাচারসহ সীমান্তপারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থার সহযোগিতা বাড়ানো এবং আন্তঃসীমান্ত বায়ু ও পানি দূষণ মোকাবিলায় যৌথভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।