বিএনআরএ প্রধানের আত্মসমর্পণের পর সাগাইংয়ে বিমান হামলা, অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন
![]()
নিউজ ডেস্ক
মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলে সাবেক সশস্ত্র সংগঠন বার্মা ন্যাশনাল রেভল্যুশনারি আর্মি (বিএনআরএ)-এর প্রধান বো নাগার আত্মসমর্পণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জান্তা বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে এবং অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম Myawaddy বুধবার রাতে জানায়, বো নাগার পালি টাউনশিপে নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা একটি সামরিক ইউনিটের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।
পিপলস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, পালি শহরের কাছে থিত তায়ার গ্রাম থেকে জান্তা বাহিনীর হেলিকপ্টারে করে বো নাগার ও তার পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া হয়। জাতীয় ঐক্য সরকার (এনইউজি)-সমর্থিত পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ)-এর ইউনিটগুলো দ্বারা ঘেরাও অবস্থায় তিনি আত্মসমর্পণ করেন। একটি স্থলবাহিনী ইউনিট আগেভাগে গ্রামে পৌঁছে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে হেলিকপ্টারে তুলে নেয় বলে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের একজন জানিয়েছেন।
বো নাগারকে সরিয়ে নেওয়ার পর জান্তা বাহিনী জাইরোকপ্টার ব্যবহার করে পালি শহর ও পার্শ্ববর্তী ইয়িনমাবিন টাউনশিপে বোমা হামলা চালায়। বৃহস্পতিবারও এ হামলা অব্যাহত ছিল বলে এনইউজির অধীন পালি টাউনশিপ পিপলস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের নেতা কো জাও হ্তেত জানান। তবে এসব হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হেলিকপ্টারে বিপুলসংখ্যক সেনা মোতায়েনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একটি সামরিক ইউনিট পালি টাউনশিপের গ্রামীণ এলাকার দিকে অগ্রসর হয়। অন্যদিকে, মনিওয়া থেকে চিন্দউইন নদী পেরিয়ে স্যালিনজি টাউনশিপে আরও সেনা পৌঁছেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এসব সেনা ইয়িনমাবিনে পাঠানো হতে পারে।
কো জাও হ্তেত বলেন, “বো নাগারের আত্মসমর্পণের পর আমাদের প্রতিরোধ ঘাঁটিগুলো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। সেগুলোতে বিমান হামলা বা স্থল অভিযান চালানো হতে পারে।”
বো নাগারের আত্মসমর্পণের একদিন আগে মঙ্গলবার এনইউজির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ইয়িনমাবিন জেলা পিডিএফ ব্যাটালিয়নগুলো পালি টাউনশিপে বিএনআরএ ঘাঁটিতে অভিযান চালায়। এতে প্রায় ১৫০ জন বিএনআরএ সদস্য পিডিএফের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
এনইউজির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় সচিব উ মাউং মাউং সোয়ে BBC-কে বলেন, যারা অপরাধে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে যারা স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছে এবং অপরাধে জড়িত নয়, তাদের ইচ্ছানুযায়ী সশস্ত্র আন্দোলনে যুক্ত থাকার সুযোগ দেওয়া হবে।
এনইউজির স্বরাষ্ট্র ও অভিবাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেসামরিক নাগরিক, এনইউজি প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও প্রতিরোধ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ পাওয়ার পরই বিএনআরএর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বো নাগার ও বিএনআরএর বিরুদ্ধে ধর্ষণ, প্রতিরোধ সদস্যদের হত্যা বা নির্যাতন, চেকপোস্টে হামলা এমনকি একটি হাতি হত্যার মতো অভিযোগের কথা জানানো হয়েছে।
এনইউজির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও দাবি করেছে, বিএনআরএ জান্তা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে তথ্য আদান-প্রদান করছিল—এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে।
বো নাগার মিয়ানমার রয়্যাল ড্রাগন আর্মি (এমআরডিএ)-এর প্রতিষ্ঠাতা। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পরপরই গড়ে ওঠা প্রাথমিক সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর একটি ছিল এমআরডিএ। পরবর্তীতে তিনি সংগঠনটির নাম পরিবর্তন করে বিএনআরএ করেন। তবে নেতৃত্ব কাঠামো নিয়ে জটিলতার কারণে এনইউজির সঙ্গে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে জান্তাবিরোধী তৎপরতায় সক্রিয় ভূমিকার জন্য পরিচিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিএনআরএকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, তারা টোল আদায়ের চেকপোস্ট স্থাপনসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে এবং জান্তাবিরোধী অভিযানে আগের মতো সক্রিয় ছিল না।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।