মিয়ানমারে শান্তি প্রক্রিয়ায় ‘ফ্রন্টলাইন রাষ্ট্র’ হিসেবে ভূমিকা নিতে চায় থাইল্যান্ড
![]()
নিউজ ডেস্ক
মিয়ানমারে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ‘ফ্রন্টলাইন রাষ্ট্র’ হিসেবে ভূমিকা রাখতে চায় থাইল্যান্ড। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেটকিও বুধবার জান্তা সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের আগে এ কথা জানান।
মঙ্গলবার ফুকেটে পৌঁছে সিহাসাক বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে থাইল্যান্ডের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। ফলে মিয়ানমারের পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ে থাইল্যান্ডে—বিশেষ করে নিরাপত্তা ও সীমান্ত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে। তবে তার এ অবস্থানকে মিয়ানমারের সামরিক সরকারকে স্বীকৃতি হিসেবে দেখা উচিত নয় বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
থাই গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, সিহাসাক বলেন, থাইল্যান্ডের লক্ষ্য হলো মিয়ানমারকে টেকসই শান্তির পথে ফেরাতে উৎসাহিত করা এবং আসিয়ান (অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস)-এর ফাইভ-পয়েন্ট কনসেনসাস অনুযায়ী এগিয়ে যেতে সহায়তা করা।
বুধবার সন্ধ্যায় ফুকেটে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক করেন। জান্তা সরকারের তিন ধাপের নির্বাচনী প্রক্রিয়া জানুয়ারির শেষ দিকে শেষ হওয়ার পর এটিই ছিল নির্বাচন-পরবর্তী ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথরেখা নিয়ে দুই দেশের প্রথম আলোচনা।
সিহাসাক বলেন, এ বৈঠক অনানুষ্ঠানিক এবং ভোট-পরবর্তী শান্তির পথ নিয়ে আলোচনা হবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এ বৈঠককে মিয়ানমারের নির্বাচনের ফলাফলকে থাইল্যান্ডের স্বীকৃতি বা সমর্থন হিসেবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়।”
তিনি বলেন, “এটি সামরিক সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয় নয়। বরং থাইল্যান্ড সম্পর্ক গড়ে তুলে মিয়ানমারকে সংলাপ ও পুনর্মিলন প্রক্রিয়া শুরু করতে উৎসাহিত করছে।”
থাই গণমাধ্যম জানায়, বৈঠকে সীমান্তবর্তী জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর—বিশেষ করে কারেন, কারেননি ও শান জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সংলাপের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে শক্ত বিরোধিতা রয়েছে।
সিহাসাক বলেন, সব পক্ষ আলোচনায় আগ্রহী হলে থাইল্যান্ড মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, “মিয়ানমার সরকারের আয়োজিত নির্বাচন পশ্চিমা দেশগুলো স্বীকৃতি নাও দিতে পারে এবং এটি নিখুঁত ছিল না—এটা স্বীকার করতে হবে। তবে মিয়ানমার সরকার কীভাবে এগোয় তার ওপর নির্ভর করে এটি শান্তি ও সংলাপের পথে একটি রূপান্তরের সূচনা হতে পারে। কিছুই না করলে সহিংসতা আরও বাড়তে পারে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ।”
থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকে বৈঠকে অংশ নেন সিহাসাকের উপদেষ্টা জুকর বুন-লং এবং এশিয়ান পিস অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কাউন্সিলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পিসানু সুবানাজাতা। তারা দুজনই সাবেক রাষ্ট্রদূত হিসেবে মিয়ানমারে দায়িত্ব পালন করেছেন।
উল্লেখ্য, নির্বাচন-পূর্ব সময়ে গত ডিসেম্বরে সিহাসাক নেপিদো সফর করে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। তখন তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন, জান্তার আয়োজিত নির্বাচন মিয়ানমারের রাজনৈতিক রূপান্তরের অংশ হবে এবং শান্তি প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখবে। নভেম্বরে তিনি আটক মিয়ানমার নেত্রী দাউ অং সান সু চির মুক্তির আহ্বানও জানান।
সিহাসাক বলেন, “আমরা জানতে চাই, নির্বাচনের পর নতুন সরকার নিয়ে মিয়ানমার কীভাবে এগোবে এবং তাদের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে। আমরা চাই সংলাপ ও পুনর্মিলনের মাধ্যমে শান্তির পথে অগ্রগতি হোক।”
তিনি আরও বলেন, “সবাই দেখছে থাইল্যান্ড কীভাবে এগোয়। আমাদের ভূমিকা হলো শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়া—যেমন মানবিক সহায়তার পরিসর বাড়ানো, বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা কমানো এবং জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করা।”
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।