ভারতে বিশ্ববিদ্যালয়ে কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা সভায় হিন্দুত্ববাদী মবের বর্বরতা

ভারতে বিশ্ববিদ্যালয়ে কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা সভায় হিন্দুত্ববাদী মবের বর্বরতা

ভারতে বিশ্ববিদ্যালয়ে কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা সভায় হিন্দুত্ববাদী মবের বর্বরতা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ে কাশ্মীরি মজলুমদের নিয়ে আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন এবিভিপি’র একদল ক্যাডার। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর ঢুকে এই হামলা, ভাঙচুর ও তান্ডব চালায় তারা। এই ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত ২০ জন হিন্দুত্ববাদী কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্র সংগঠন ১৯৯১ সালে কাশ্মীরের ‘কুনান পোশপোরা’য় ভারতীয় বাহিনীর দ্বারা সংঘটিত বর্বরোচিত গণধর্ষণের ঘটনা নিয়ে একটি আলোচনার আয়োজন করেছিল। এই আয়োজনকে ‘দেশবিরোধী’ তকমা দিয়ে প্রায় ১০০ জনের একটি উন্মত্ত হিন্দুত্ববাদী মব লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাণ্ডব শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা জোরপূর্বক ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ে এবং ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে।

বিক্ষোভের নামে এই হিন্দুত্ববাদী মব বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইনবোর্ডে কালো কালি লেপে দেয় এবং ক্যাম্পাসের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। নিরাপত্তারক্ষীরা তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের ওপর নৃশংসভাবে হামলা চালানো হয়। এই বর্বরতায় জগদীশ ও চন্দন মালিকসহ বেশ কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষী গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া মোহাম্মদ আলী আহমেদ নামে প্রথম বর্ষের এক মুসলিম ছাত্রকে টার্গেট করে হামলা চালানো হলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপক এস. উইলসনের অভিযোগের ভিত্তিতে বেঙ্গালুরু গ্রামীণ পুলিশ ২০ জন দাঙ্গাবাজকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে দাঙ্গা হাঙ্গামা, অবৈধ সমাবেশ, অপরাধমূলক অনুপ্রবেশ এবং শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। তবে দুঃখজনকভাবে স্থানীয় আদালত থেকে পরে তারা শর্তসাপেক্ষ জামিনে মুক্তি পেয়েছে।

অন্যদিকে, হিন্দুত্ববাদীদের চাপের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও ‘স্পার্ক এপিইউ’ নামক ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছে। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া সংবেদনশীল বিষয়ে আলোচনার অভিযোগে ছাত্রদের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে।

উগ্রবাদীদের এই তাণ্ডবের নিন্দা জানিয়েছেন কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি. পরমেশ্বর। তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘আলোচনার বিষয়বস্তু যাই হোক না কেন, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। ছাত্রদের ওপর হামলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।’’

এদিকে, ভারতের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও ছাত্র সমাজ এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এখন বাকস্বাধীনতা হরণ করে হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন চালানো হচ্ছে। কাশ্মীরের নিপীড়িত মানুষের পক্ষে কথা বলাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার এই প্রবণতা ভারতের তথাকথিত গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য এক অশনি সংকেত।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।