অপহরণের ৩ দিন পর এক লাখ টাকার বিনিময়ে ছাড়া পেলেন বাঙ্গালি মোটরসাইকেল চালক আজম

অপহরণের ৩ দিন পর এক লাখ টাকার বিনিময়ে ছাড়া পেলেন বাঙ্গালি মোটরসাইকেল চালক আজম

অপহরণের ৩ দিন পর এক লাখ টাকার বিনিময়ে ছাড়া পেলেন বাঙ্গালি মোটরসাইকেল চালক আজম
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার লক্ষীছড়ি উপজেলায় যাত্রী নিয়ে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হওয়া বাঙ্গালি মোটরসাইকেল চালক মো. আজম (২৩) তিন দিন পর মুক্তি পেয়েছেন। পরিবারের দাবি, অপহরণকারীদের এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

মুক্তিপ্রাপ্ত আজম চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুর এলাকার দাঁতমারা একতাপুর গ্রামের বাসিন্দা তোফায়েল আহমেদের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে দাঁতমারা বাজার থেকে এক উপজাতি যাত্রীকে মোটরসাইকেলে নিয়ে ভাড়ায় লক্ষীছড়ি উপজেলার উদ্দেশ্যে রওনা দেন আজম। সকাল ১১টার পর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

পরিবার জানায়, দুপুর ১২টার দিকে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে সন্ধ্যা পর্যন্ত খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ভুজপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

স্বজনদের অভিযোগ, ওই দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে আজমের মোবাইল নম্বর থেকে একটি ফোন আসে। ফোন রিসিভ করলে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি নিজেকে পাহাড়ের একটি আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনের সদস্য পরিচয় দিয়ে জানান, আজমকে খাগড়াছড়ির আলুটিলা পর্যটন এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। পরে তার মুক্তির জন্য ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। রাত ১১টার দিকে আবার ফোন করে একই দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

অবশেষে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে অপহৃত আজমকে খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার একটি দুর্গম এলাকায় অজ্ঞাত স্থানে ছেড়ে দেওয়া হয়।

মুক্তির পর আজম দীর্ঘ সময় হেঁটে একটি গ্রামীণ মসজিদের সামনে পৌঁছান। সেখানে একটি সাইনবোর্ড দেখে তিনি নিজের অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পান। পরে স্থানীয় এক মোটরসাইকেল চালকের সহায়তায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন।

পরবর্তীতে ওই মোটরসাইকেল চালকের সহায়তায় তিনি মানিকছড়ি উপজেলার মহামুনি এলাকায় এসে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মিলিত হন এবং সেখান থেকে স্বজনদের সঙ্গে নিজ বাড়িতে ফিরে যান।

পরিবারের সদস্যরা জানান, আজমকে মুক্ত করার জন্য অপহরণকারীদের এক লাখ টাকা দিতে হয়েছে। তবে অপহরণকারীরা তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ এবং মোটরসাইকেলটি ফেরত দেয়নি।

বর্তমানে অপহরণের ঘটনাটির ধকল কাটিয়ে উঠতে মানসিকভাবে দুর্বল অবস্থায় রয়েছেন আজম। তাকে পরিবারের সদস্যরা নিজ বাড়িতে নিয়ে গেছেন এবং বিশ্রামে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবারের এক সদস্য জানান, অপহরণকারীরা নিজেদের এমএন লারমা সমর্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) বলে পরিচয় দেন।

উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামের সড়কপথে মাঝে মাঝে আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ ওঠায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

You may have missed