মিয়ানমারে জ্বালানি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে ভারতের মিজোরামের দুই জেলায় কড়াকড়ি
![]()
নিউজ ডেস্ক
মিজোরামের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী সিয়াহা ও লুংলে জেলায় মিয়ানমারে পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহ ও পরিবহনে কড়াকড়ি আরোপ করেছে প্রশাসন। সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ২৫ মার্চ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতজনিত সরবরাহ অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে জ্বালানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত রাখা এবং সরবরাহে কোনো বিঘ্ন না ঘটাতে প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে।
সিয়াহা জেলায় ডেপুটি কমিশনার ভি এল হ্রুয়াইজেলা খিয়াংতে এক আদেশে মিয়ানমারসহ অন্য দেশে অননুমোদিতভাবে পেট্রোল ও ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছেন। একই সঙ্গে মজুদদারি ও কালোবাজারি ঠেকাতে বড় পরিসরে জ্বালানি বিক্রিতেও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সিয়াহার জ্বালানি বিক্রয়কেন্দ্রগুলোকে কঠোরভাবে লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ৫০০ লিটারের বেশি পেট্রোল বা ১,০০০ লিটারের বেশি ডিজেল বিক্রি করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বৈধ সংরক্ষণ লাইসেন্স থাকতে হবে।
একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে লুংলে জেলাতেও। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাভনিত মান মিয়ানমারে বিক্রির উদ্দেশ্যে জ্বালানি পরিবহন নিষিদ্ধ করেছেন, কারণ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে জ্বালানি পাচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কর্মকর্তারা জানান, বৈধ অনুমতি ছাড়া পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবহন করা ২০০২ সালের পেট্রোলিয়াম বিধিমালার লঙ্ঘন।
জেলা প্রশাসন সতর্ক করে জানিয়েছে, এসব নির্দেশনা অমান্য করলে ১৯৩৪ সালের পেট্রোলিয়াম আইনসহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, মিজোরামের ছয়টি জেলার সঙ্গে মিয়ানমারের প্রায় ৫১০ কিলোমিটার দীর্ঘ ছিদ্রযুক্ত সীমান্ত রয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বেসরকারি পরিবহনকারী ও ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে জ্বালানি পাচারের ঘটনা প্রায়ই ঘটে বলে জানা গেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার এই সময়ে রাজ্যের অভ্যন্তরীণ চাহিদা নির্বিঘ্ন রাখতে এবং প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ সুরক্ষিত রাখতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।