রাঙামাটিতে রুটিনে জ্বালানি বিক্রি: শৃঙ্খলা ফিরলেও নৌ-চলাচল বন্ধের শঙ্কা

রাঙামাটিতে রুটিনে জ্বালানি বিক্রি: শৃঙ্খলা ফিরলেও নৌ-চলাচল বন্ধের শঙ্কা

রাঙামাটিতে রুটিনে জ্বালানি বিক্রি: শৃঙ্খলা ফিরলেও নৌ-চলাচল বন্ধের শঙ্কা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

রাঙামাটিতে জ্বালানি তেল সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনের নির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী বিক্রি শুরু হওয়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে। তবে ডিজেলের ঘাটতি অব্যাহত থাকায় কাপ্তাই হ্রদে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল থেকে শহরের চারটি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে তিনটিতে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অকটেন বিক্রি করতে দেখা গেছে। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সপ্তাহে তিন দিন অকটেন এবং তিন দিন ডিজেল সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শৃঙ্খলা রক্ষায় পাম্পগুলোতে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও মোতায়েন রয়েছে।

সকাল থেকে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, গ্রাহকেরা ভোর থেকেই ট্যাংক, গ্যালন ও প্লাস্টিকের বোতল নিয়ে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। নির্ধারিত সময়ের আগেই সিরিয়াল পেতে অনেকেই আগে এসে অবস্থান নেন। তবে কিছু স্থানে তেল নেওয়া নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটছে।

অনেক গ্রাহক সকাল ৯টার পরিবর্তে ৮টা থেকে বিক্রি শুরুর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এতে অফিসগামী মানুষের সময় সাশ্রয় হবে এবং কর্মঘণ্টা কম নষ্ট হবে।

ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন সময়সূচির কারণে বিক্রয় কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। বনরুপা এলাকার মেসার্স হিল ভিউ ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. ইসমাইল বলেন, “নির্ধারিত সময় মেনে বিক্রি করায় ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে, এতে আমরা কিছুটা স্বস্তিতে আছি।”

রাঙামাটিতে রুটিনে জ্বালানি বিক্রি: শৃঙ্খলা ফিরলেও নৌ-চলাচল বন্ধের শঙ্কা

তবে সংকট পুরোপুরি কাটেনি। জেলার ১০ উপজেলায় চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে কৃষি সেচ, নৌ-পরিবহন ও পর্যটন খাতে।

লঞ্চ মালিকদের মতে, কাপ্তাই হ্রদে প্রায় ১০টি রুটে ৩০টি লঞ্চ চলাচল করে, যেগুলোর জন্য দৈনিক ১২০০ থেকে ১৫০০ লিটার জ্বালানি প্রয়োজন। বর্তমানে মজুদ থাকা জ্বালানি দিয়ে সর্বোচ্চ দুই থেকে আড়াই দিন চলাচল সম্ভব হবে। এরপর নতুন করে সরবরাহ না পেলে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল যাত্রী পরিবহন সংস্থা রাঙামাটি জোনের চেয়ারম্যান মঈনুদ্দীন সেলিম বলেন, “বর্তমান মজুদ দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। সময়মতো জ্বালানি না পেলে নৌপথে চলাচল বন্ধ করা ছাড়া উপায় থাকবে না।”

এদিকে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি তদারকিতে প্রশাসন ভিজিল্যান্স টিম গঠন করেছে। জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন জানান, পরীক্ষামূলকভাবে এই রুটিন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হতে পারে। পাশাপাশি পাম্পগুলোতে ট্যাগ অফিসার, পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সাময়িক শৃঙ্খলা ফিরলেও সামগ্রিক সংকট কাটবে না—বিশেষ করে নৌ-নির্ভর দুর্গম এলাকার মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

You may have missed