জাতিসংঘ ফোরামে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে “বিভ্রান্তিমূলক তথ্য” উপস্থাপনের অভিযোগে পিসিসিপির বিক্ষোভ
![]()
নিউজ ডেস্ক
জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরাম (UNPFII)-এর ২৫তম অধিবেশনে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে “বিভ্রান্তিমূলক ও অসত্য তথ্য” উপস্থাপন করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ এনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটি।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
সমাবেশে পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আসিফ ইকবালের সভাপতিত্বে এবং চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. গিয়াস উদ্দিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মজিবর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য মো. হাবীব আজম, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের স্থায়ী কমিটির সদস্য এডভোকেট পারভেজ তালুকদার, খাগড়াছড়ি জেলা পিসিএনপি সভাপতি আব্দুল মজিদ, চট্টগ্রাম মহানগর পিসিএনপি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক আল আমিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা অভিযোগ করেন, জাতিসংঘের ফোরামে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে দেওয়া কিছু বক্তব্যে সরকার, নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় বাস্তবতাকে “একপাক্ষিক ও বিকৃতভাবে” উপস্থাপন করা হয়েছে। তারা দাবি করেন, এসব বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভুল ধারণা সৃষ্টি করতে পারে।
তারা আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে পাহাড়ে জেএসএস, ইউপিডিএফ ও কেএনএফ-এর মতো সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সহিংসতার অভিযোগও তুলে ধরা হয়।
সমাবেশে বক্তারা জাতিসংঘ ফোরামে বক্তব্য প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে “রাষ্ট্রবিরোধী বিভ্রান্তি ছড়ানোর” অভিযোগ এনে তাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের জনগোষ্ঠীকে “আদিবাসী” না বলে “উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সংবিধান ও শান্তি চুক্তির আলোকে এই পরিচয়ই সঠিক।
সমাবেশে আরও দাবি করা হয়, পার্বত্য অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় অস্ত্র উদ্ধার, ভূমি কমিশন পুনর্গঠন এবং বৈষম্যহীন নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি।
শেষে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে “মিথ্যাচার” অব্যাহত থাকলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।