পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোট আজ: মোদি ও মমতার অগ্নিপরীক্ষা শুরু

পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোট আজ: মোদি ও মমতার অগ্নিপরীক্ষা শুরু

পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোট আজ: মোদি ও মমতার অগ্নিপরীক্ষা শুরু
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের গুরুত্ব এতটাই বেশি যে, গোটা দেশের নজর এই রাজ্যের দিকে। মোদি-অমিত শাহ জুটি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা দখলে মরিয়া হয়ে প্রচার চালিয়েছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস নিশ্চিত জয়ের লক্ষ্যে প্রত্যয়ী। আজ প্রথম দফায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। প্রথম দফা নির্বাচনেই মোদি ও মমতার অগ্নিপরীক্ষার শুরু। প্রথম দফায় বিজেপি’র শক্তভূমি বলে পরিচিত উত্তরবঙ্গে ভোট হচ্ছে। ভোট হচ্ছে দক্ষিণবঙ্গেরও কিছু অংশে।

তবে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি’র ভোট লুটের আশঙ্কা প্রকাশ করে সকলকে সতর্ক থাকার কথা বলেছেন। সেই সঙ্গে ভোটের আগে ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ করেছেন।

অন্যদিকে বিজেপি নেতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, টাটা, বাই-বাই দিদি, আপনার সময় শেষ। জনতার উদ্দেশ্যে অমিত শাহ ঘোষণা করেন, আপনারা (ব্যানার্জি ও তৃণমূল কংগ্রেস) বাংলার মানুষকে অনেক কষ্ট দিয়েছেন। এখন আপনাদের বিদায় নেয়ার এবং বিজেপি’র প্রবেশের সময় হয়েছে।

প্রথম দফার ১৫২টি আসনে মোট প্রার্থী রয়েছেন ১৪৭৮ জন। এর মধ্যে এক হাজারের বেশি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী। বাকিরা নির্দল প্রার্থী। নারী প্রার্থী রয়েছেন ১৬৭ জন। মোট ৪৪ হাজার ৩৭৬টি বুথে ভোট নেয়া হবে। ৩ কোটি ৬০ লাখ ভোটার প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন। প্রতিটি বুথে থাকছে ওয়েবকাস্টিং ব্যবস্থা।

এগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা সমর্থিত এবং এটি অতিরিক্ত ভিড় বা বুথ জ্যামিংয়ের জন্য তাৎক্ষণিক সতর্কতা জারি করবে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা মনোজ কুমার আগরওয়াল একটি “জিরো টলারেন্স” নীতি ঘোষণা করেছেন এবং জানিয়েছেন যে এই “এ আই আইজ”-এর চোখে ধরা পড়া যেকোনো অনিয়মের ফলে অবিলম্বে পুনঃনির্বাচন করা হবে।

প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের জন্য থাকছে দ্বিস্তরীয় পরিচয়পত্র যাচাই প্রক্রিয়া। প্রথম ধাপে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা যাচাই করবেন এবং দ্বিতীয় ধাপে সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) পরিচয় নিশ্চিত করবেন।

প্রথম দফায় উত্তরবঙ্গের সবক’টি জেলা এবং দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় ভোট হবে। উত্তরে কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কালিম্পং, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদা জেলায় ভোট হবে। দক্ষিণবঙ্গে মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং ঝাড়গ্রামে ভোটগ্রহণ হবে।

প্রথম দফার ভোটগ্রহণকে ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ২৪৫০ কোম্পানি (২ লাখ ৪৫০ জন অফিসার ও জওয়ান) আধা সামরিক বাহিনীকে নিরাপত্তার কাজে লাগানো হয়েছে। এ ছাড়া রয়েছেন কয়েক হাজার পুলিশও। মোট ১৬টি জেলার মধ্যে সাতটি জেলার সমস্ত কেন্দ্রকে বিশেষ নিরাপত্তা নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে। এই সাতটি জেলা হলো মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর, কোচবিহার, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পশ্চিম বর্ধমান। এর মধ্যে মালদা, কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুর উত্তরবঙ্গে অবস্থিত, বাকি চারটি জেলা দক্ষিণবঙ্গের অন্তর্গত। এ ছাড়া ৫৪টি স্পর্শকাতর সীমান্ত সংলগ্ন আসনে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর দপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ বছরে (২০১১ সাল থেকে) ভোটকেন্দ্রের সংবেদনশীলতা, ভোট-সহিংসতার ইতিহাস এবং হতাহতের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করেই এই জেলাগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোটের দিন এই জেলাগুলোতে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) মোতায়েন থাকবে সবচেয়ে বেশি। অধিকাংশ বুথকেই ‘ক্রিটিক্যাল’ বা ‘হাইপারসেনসিটিভ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

কুইক রেসপন্স টিম

বিধানসভা নির্বাচনে কোনো অশান্তি বা অভিযোগ পেলে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে। বার বার এমনই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে সম্পূর্ণভাবে হিংসামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর কোনো সুযোগ না থাকে সেজন্য কাজ করবে ‘কুইক রেসপন্স টিম। জানা গেছে, প্রথম দফার ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য মোট ২,১৯৩টি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ কাজ করবে। সবচেয়ে বেশি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ থাকবে মুর্শিদাবাদ জেলায়। তার পরেই রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর।

সীমান্ত সিলের নির্দেশ

উত্তরবঙ্গ সহ রাজ্যের ১৫২টি আসনে প্রথম দফার নির্বাচনের আবহে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে সোমবার বিকাল থেকেই আন্তর্জাতিক সীমান্ত এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোর সীমানা সম্পূর্ণ ‘সিল’ করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। উত্তরবঙ্গের বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল সীমান্তের পাশাপাশি আসাম, বিহার ও ঝাড়খণ্ড সীমান্ত বরাবর জারি হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা। বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভুটানে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিক ও পর্যটকদের দেশে ফিরতে পারছেন না। সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুরু হয়েছে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নাইট ভিশন ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। মঙ্গলবার থেকে তিনদিনের জন্য কোচবিহার সীমান্তের বাংলাবান্ধা ও ফুলবাড়ি চেকপোস্ট দিয়ে কোনোরকম পণ্য পরিবহন ও যাত্রী আনাগোনা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সীমান্ত পেরিয়ে দুষ্কৃতদের আনাগোনা এবং আগ্নেয়াস্ত্র পাচার রুখতে এসএসবি ও আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফায় ২৯শে এপ্রিল বাকি ১৪২টি আসনে ভোট নেয়া হবে। দুই দফার ভোট একসঙ্গে ৪ঠা মে গণনা করা হবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *