বন উজাড়ে মানুষ-হাতির দ্বন্দ্ব বাড়ছে, সুরক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান মন্ত্রীর

বন উজাড়ে মানুষ-হাতির দ্বন্দ্ব বাড়ছে, সুরক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান মন্ত্রীর

বন উজাড়ে মানুষ-হাতির দ্বন্দ্ব বাড়ছে, সুরক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান মন্ত্রীর
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেছেন, বন উজাড়ের ফলে হাতিসহ বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ায় মানুষের সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সংঘাত কমিয়ে এনে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দেন তিনি।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বন্যপ্রাণীর আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, “হাতি আমাদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাদের রক্ষায় সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। হাতি অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রাণী—তারা নিজেরা ক্ষতিগ্রস্ত না হলে সাধারণত মানুষের ক্ষতি করে না।” তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে হাতির আবাসস্থল ও চলাচলের পথ কোনোভাবেই ধ্বংস করা যাবে না। এ জন্য মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সহাবস্থান ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বন্য হাতির আক্রমণে নিহত দুই পরিবারের মাঝে মোট ৬ লাখ টাকা এবং বন্যপ্রাণীর আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ৭৬টি পরিবারের মধ্যে ২০ লাখ ৩৬ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়। সর্বমোট ২৬ লাখ ৩৬ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয় ক্ষতিগ্রস্তদের।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী। অনুষ্ঠানে বন বিভাগের পক্ষে বক্তব্য দেন রাঙামাটি অঞ্চলের বন সংরক্ষক মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল সরকার। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রফিকুজ্জামান শাহ এবং দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম সাজ্জাদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে বন উজাড়, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও মানব বসতির সম্প্রসারণের ফলে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে, যা মানুষ-প্রাণী দ্বন্দ্বের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে বন সংরক্ষণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সহায়তা প্রদান জরুরি।

প্রসঙ্গত, পার্বত্য চট্টগ্রামে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed