ভারতে এক ধাক্কায় ৯% বাড়ল সোনার আমদানি শুল্ক, অর্ধেক হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী মোদির কনভয়
![]()
নিউজ ডেস্ক
পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে টালমাটাল বিশ্ব অর্থনীতি। এই চরম সংকটকালে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার রক্ষা এবং জ্বালানি সাশ্রয়ে কঠোর ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশবাসীর কাছে আগামী এক বছর সোনা-রুপা না কেনার আবেদন জানানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই দুই মূল্যবান ধাতুর ওপর আমদানি শুল্ক এক ধাক্কায় ৯ শতাংশ বৃদ্ধি করল কেন্দ্র সরকার। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের কাছে কৃচ্ছ্রসাধনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে প্রধানমন্ত্রী নিজের নিরাপত্তার বহর বা কনভয় ৫০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, সোনা ও রুপার ওপর আমদানি শুল্ক আগে ছিল ৬ শতাংশ। আজ বুধবার থেকে তা বাড়িয়ে সরাসরি ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এই ১৫ শতাংশের মধ্যে ১০ শতাংশ মূল আমদানি শুল্ক এবং ৫ শতাংশ কৃষি পরিকাঠামো ও উন্নয়ন সেস হিসেবে ধার্য করা হয়েছে। অর্থাৎ শুল্কের হার রাতারাতি আড়াই গুণ বেড়ে গেছে।
কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত?
ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনা ব্যবহারকারী দেশ। দেশের চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ সোনাই বিদেশ থেকে চড়া দামে আমদানি করতে হয়। মে মাসের প্রথম সপ্তাহের হিসাবে দেখা গেছে, ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৭৭৯ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার কমে গেছে। এই রক্তক্ষরণ রুখতেই প্রধানমন্ত্রী সোনা আমদানিতে রাশ টানতে চাচ্ছেন।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ডলারের তুলনায় ভারতীয় রুপির ধারাবাহিক পতন রুখতে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোই কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য।
যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রাকে বিলাসিতার বদলে জীবনদায়ী পণ্য ও জ্বালানি আমদানিতে অগ্রাধিকার দিতেই সোনার আমদানিতে কৃত্রিম বাধা তৈরি করা হয়েছে।
এদিকে সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপকে (এসপিজি) নির্দেশ দিয়েছেন যেন তাঁর কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে ফেলা হয়। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন যেন নিরাপত্তা প্রোটোকলের সঙ্গে কোনো আপস না করা হয়।
কনভয়ে থাকা পেট্রল-ডিজেলচালিত গাড়ির বদলে উন্নত মানের ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (ইভি) ব্যবহারের ওপর জোর দিতে বলেছেন মোদি।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, কৃচ্ছ্রসাধন করতে গিয়ে নতুন কোনো গাড়ি কেনা যাবে না। বর্তমান সম্পদের মধ্যেই সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
যুদ্ধের প্রভাব থেকে অর্থনীতিকে রক্ষায় মোদির সাতটি বিশেষ আবেদন:
চলতি সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাতটি বিশেষ আবেদন বা ‘সপ্ত শপথ’ দেশবাসীর সামনে রেখেছেন:
১. সোনায় না: আগামী এক বছর বিয়ে বা উৎসবেও সোনা-রুপা কেনা থেকে বিরত থাকা।
২. জ্বালানি সাশ্রয়: ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে মেট্রো বা গণপরিবহন ব্যবহার করা।
৩. বিদেশ ভ্রমণ বর্জন: বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচাতে আগামী এক বছর খুব প্রয়োজন না হলে বিদেশ ভ্রমণ এড়িয়ে চলা।
৪. কারপুলিং: প্রতিবেশী বা সহকর্মীদের সঙ্গে গাড়ি ভাগ করে নেওয়া।
৫. বিদ্যুৎ সাশ্রয়: অফিস ও বাড়িতে বিদ্যুতের অপচয় রোধ।
৬. স্বদেশি পণ্য: আমদানি করা পণ্যের বদলে দেশীয় পণ্য কেনায় অগ্রাধিকার।
৭. জোরদার সঞ্চয়: ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় সঞ্চয় বৃদ্ধি।
প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানকে দেশজুড়ে সাড়া দিতে শুরু করেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, দিল্লির সরকারি কাজেও এখন থেকে ন্যূনতম গাড়ি ব্যবহার করা হবে। মন্ত্রী, বিধায়ক এবং উচ্চপদস্থ আমলারা ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে কারপুলিং এবং পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহারে অগ্রাধিকার দেবেন বলে তিনি ঘোষণা করেছেন।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত প্রতিবছর প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ টন সোনা আমদানি করে। এর বিপরীতে দেশের খনি থেকে মাত্র এক থেকে দুই টন সোনা মেলে। এই বিশাল ফারাক এবং পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ফলে তেলের আকাশছোঁয়া দাম—এই দ্বিমুখী সংকট সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রীর এই ‘কৃচ্ছ্রসাধন মডেল’ ভারতের অর্থনীতিকে দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে সহায়ক হতে পারে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।