দুই একে-৪৭ ও বিপুল গোলাবারুদসহ মিজোরামে ৩ ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী আটক

দুই একে-৪৭ ও বিপুল গোলাবারুদসহ মিজোরামে ৩ ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী আটক

দুই একে-৪৭ ও বিপুল গোলাবারুদসহ মিজোরামে ৩ ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী আটক
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ভারতের মিজোরাম রাজ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (বিএসএফ) ও স্পেশাল ব্রাঞ্চ-সিআইডির যৌথ অভিযানে প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর তিন সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও অত্যাধুনিক অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, আটককৃতরা ডাম্পা টাইগার রিজার্ভ (ডিটিআর) করিডোর ব্যবহার করে বাংলাদেশে প্রবেশের পরিকল্পনা করছিল।

গতকাল রবিবার (২৪ মে ২০২৬) পরিচালিত এ অভিযানে আটককৃতদের আপন চাকমা, নিহার রঞ্জন চাকমা এবং মনি কার্বারি চাকমা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মিজোরামের আইজল জেলার সায়রাং থানার অধীন সায়রাং এলাকা থেকে আটক করা হয়।

জানা গেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তা বাহিনী আটকস্থল থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরের একটি জঙ্গল এলাকায় অভিযান চালিয়ে লুকিয়ে রাখা ১ হাজার ৭৯৯ রাউন্ড ৭.৬২ এমএম গোলাবারুদ উদ্ধার করে। পরে আরও জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে মামিত জেলার পশ্চিম ফাইলেং থানার অন্তর্গত সাইথাহ গ্রাম থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে ডিটিআর সেক্টরে আরেকটি গোপন অস্ত্রের চালানের সন্ধান পাওয়া যায়।

সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় দুটি একে-৪৭ রাইফেল, দুটি ম্যাগাজিন এবং আরও ১২ রাউন্ড গুলি।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আটককৃতরা একটি সুপরিকল্পিত রসদ সংগ্রহ ও সীমান্ত অতিক্রম অভিযানের অংশ ছিল। তাদের পরিকল্পনা ছিল প্রথমে সায়রাং এলাকা থেকে বিপুল গোলাবারুদের চালান সংগ্রহ করা, এরপর ডাম্পা টাইগার রিজার্ভ সেক্টরে গিয়ে একে-৪৭ রাইফেলসম্বলিত দ্বিতীয় চালানটি উদ্ধার করা। পরে অস্ত্র ও গোলাবারুদ একত্রিত করে বনাঞ্চলঘেরা ডিটিআর রুট ব্যবহার করে গোপনে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবেশের পরিকল্পনা ছিল তাদের।

জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা আরও জানিয়েছে, আইজলে বসবাস করা ডা. প্রীতি চাকমা নামের এক ব্যক্তি তাদের এসব গোপন চালান উদ্ধার এবং বাংলাদেশে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছিলেন।

নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশিতে আটককৃতদের কাছ থেকে খালি চালের বস্তা, কালো ও সাদা পলিথিন শিট, তারপোলিন (ত্রিপল), চাল, বিস্কুট এবং অন্যান্য রেশন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এসব সরঞ্জাম উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ পুনরায় প্যাকিং ও গোপনে বহনের কাজে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল, যাতে দুর্গম জঙ্গল ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম সহজ হয়।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, জঙ্গলে গোপন অস্ত্র মজুদ, বিচ্ছিন্ন উদ্ধার পয়েন্ট এবং ডাম্পা টাইগার রিজার্ভ করিডোর ব্যবহার করে সীমান্ত পারাপারের পরিকল্পনা—সবকিছু মিলিয়ে এটি একটি সুসংগঠিত আন্তঃসীমান্ত গোপন রসদ ও ট্রানজিট নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষ করে মিজোরাম-বাংলাদেশ সীমান্ত অক্ষকে ব্যবহার করে উগ্রপন্থী তৎপরতা চালানোর বিষয়টি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এ অভিযান প্রমাণ করে যে, উগ্রপন্থী-সংযুক্ত সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো এখনো ডাম্পা টাইগার রিজার্ভের দুর্গম বনপথকে ব্যবহার করে অস্ত্র পরিবহন, আন্তঃসীমান্ত জঙ্গি তৎপরতা এবং বাংলাদেশভিত্তিক অপারেটিভদের সঙ্গে সমন্বয়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামকেন্দ্রিক বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সীমান্তবর্তী ভারতের বিভিন্ন এলাকায় গোপন যোগাযোগ ও রসদ নেটওয়ার্ক ব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক এই অভিযান সেই অভিযোগকে আরও জোরালোভাবে সামনে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *