রাঙামাটির বিনোদন কেন্দ্রগুলো এখন পর্যটকদের দখলে
![]()
নিউজ ডেস্ক
ঈদুল আজহার ছুটিতে হ্রদ ও পাহাড়ে শহরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো মুখর হয়ে উঠছে পর্যটকদের পদচারণায়। ঈদের দ্বিতীয় দিনই পাহাড়ি জেলা রাঙামাটিতে নেমেছে পর্যটকের ঢল। রাঙামাটির বিনোদন কেন্দ্রগুলো এখন পর্যটকদের দখলে।
খাত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এবারের ঈদের ছুটিতে রাঙামাটিতে প্রায় এক লাখ পর্যটকের আগমন ঘটবে। পর্যটন খাতের এই ব্যস্ততা যেমন স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙা করছে, তেমনি দেশের অন্যতম এই পর্যটন গন্তব্য হয়ে উঠছে আরও সমৃদ্ধ।
শুক্রাবার সকাল থেকে সারাদিন দলে দলে পর্যটকরা ভ্রমণ করছেন ঝুলন্ত সেতু সহ শহরের সব বিনোদন কেন্দ্রে। তবে আশা করা হচ্ছে আগামী দিনে এই ভীড় আরও বাড়বে।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাত দিনের ছুটিতে ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকবে রাঙামাটি ও মেঘের উপত্যকা সাজেক। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ কাপ্তাই লেক আর রাঙামাটির পাহাড়ি আঁকাবাঁকা উঁচুনিচু সড়ক, দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ অরণ্য পর্যটকদের কাছে সারা বছরই আকর্ষনীয়। বিশেষ করে রাঙামাটি শহরে পর্যটন ঝুলন্ত সেতু, কাপ্তাই হ্রদে নীল জলরাশিতে নৌভ্রমণ, পলওয়েল পার্ক, আরণ্যক, সুবলং, আসামবস্তি কাপ্তাই সড়ক, সাজেক ভ্যালি ও কাপ্তাইয়ে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা।

ঝুলন্ত সেতু এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, কেউ আসছেন পরিবার নিয়ে, কেউ আসছেন দম্পতি আবার কেউ আসছেন বন্ধুদের সাথে দল বেঁধে। ঝুলন্ত সেতু ঘুরে-ফিরে আনন্দ উপভোগ করছেন আবার কেউ কেউ স্মৃতিমানসে ধরে রাখার লক্ষ্যে সেলফিবন্দী হচ্ছেন।
শুধুই ঝুলন্ত সেতুতেই তাদের ভ্রমণ সীমাবদ্ধ নয়। পর্যটন নৌ ঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে কাপ্তাই হ্রদে নৌ ভ্রমণ করছেন পর্যটকরা। হ্রদ, পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করে যান্ত্রিক জীবনের এক গেঁয়েমি দূর করছেন। শুধু রাঙামাটি শহরের নয়, ভূস্বর্গ খ্যাত সাজেক ভ্যালি, পলওয়েল পার্ক, কাপ্তাইসহ জেলার বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রেই পর্যটকরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা সোমা আক্তার ও মো. সরোয়ার আলম জানান, ঈদের এই ছুটিতে বাসায় বসে খেয়ে দেয়ে সময় কাটানোর চেয়ে পরিবার নিয়ে প্রকৃতি মাঝে ছুটে এসেছি। আমি চেষ্টা করি বছরের একবার হলেও পাহাড়ে আসতে। বিশেষ করে রাঙামাটি। রাঙামাটির হ্রদ ও পাহাড় একসাথে দেখার সুযোগ থাকে।
চট্টগ্রাম থেকে ঝুলন্ত সেতু পর্যটন এলাকায় বেড়াতে এসেছেন নব দম্পতি নাজমা আক্তার ও মো. জয়নাল আবেদীন। মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, আমাদের বিয়ে হয়েছে মাত্র কয়েক মাস। ঈদের লম্বা ছুটি। তাই বউকে নিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে চলে এসেছি। ভালোই লাগছে এখানকার শান্ত পরিবেশ।

পর্যটকদের ঘিরে রাঙামাটি শহর, সাজেক ও কাপ্তাই এই তিন পর্যটনকেন্দ্রে ব্যস্ততা বেড়েছে ব্যবসায়ীদের। পর্যটকদের কেনাকাটার সুবিধার্থে স্থানীয় দোকানদাররাও নতুন পোশাক, হস্তশিল্প ও পাহাড়ি ডিজাইনের পণ্যে সাজিয়ে তুলেছেন দোকানপাট।
পর্যটন নৌ ঘাট টোল আদায়কারী ফখরুল আলম জানান, দ্বিতীয় দিনে ঝুলন্ত সেতুর নৌ ঘাটে পর্যটক আসতে শুরু করেছে। এখান থেকে বোট নিয়ে পর্যটকরা হ্রদ, পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ বের হচ্ছেন। সুবলংসহ আশে পাশের পাহাড়ি গ্রামড়গুলো ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কেউ যাচ্ছেন সুবলং ঝর্নায়।
তবে পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করা ট্যুারিস্ট পুলিশের কাউকে চোখে পড়েনি বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে। কাপ্তাই হ্রদ ও পাহাড়ঘেরা রাঙামাটি শহরে রয়েছে হোটেল-মোটেল। এ ছাড়া দ্বীপকেন্দ্রিক কটেজ ও কাপ্তাই হ্রদে রাত্রিযাপনের জন্য রয়েছে হাউজবোট। অন্যদিকে মেঘের উপত্যকা সাজেকে রয়েছে রিসোর্ট ও কটেজ। সব মিলিয়ে পর্যটকদের ধারণক্ষমতা পাঁচ হাজারেরও বেশি। আবাসিক হোটেল ও রিসোর্টে-কটেজে এরইমধ্যে ৭০ ভাগেরও বেশি বুকিং হয়েছে।
রাঙামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স এর ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, ঝুলন্ত সেতুতে ঘুরাঘুরি কিংবা কাপ্তাই হ্রদে নৌ বিহারের পাশাপাশি পর্যটকরা ছুটে যাচ্ছেন শহরের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় স্পট পলওয়েল পার্কেও। ঝুলন্ত সেতু এলাকায় প্রায় তিন হাজার পর্যটক এসেছে আজ। মোটেলে ইতিমেধ্যে ৫০ শতাংশ বুকিং রয়েছে। আশা করছি বাকী দিনগুলো ছুটিতে আশানুরূপ পর্যটকেল ঢল নামবে পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সর এলাকায়।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।