কলম্বিয়ায় কোকেনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘর্ষে নিহত ৫২

কলম্বিয়ায় কোকেনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘর্ষে নিহত ৫২

কলম্বিয়ায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘর্ষে নিহত ৫২
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

কলম্বিয়ায় কোকেন উৎপাদন ও পাচারের কৌশলগত অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৫২ জন গেরিলা যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে লড়াইয়ে লিপ্ত রেভোলিউশনারি আর্মড ফোর্সেস অব কলম্বিয়া (এফএআরসি)-এর একটি উপদল।

আগামী রবিবার কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বর্তমান বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর উত্তরসূরি বেছে নিতে ভোট দেবেন দেশটির নাগরিকরা। প্রেসিডেন্ট পেত্রো দেশের একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে শান্তি আলোচনা বাস্তবায়নে বেশ বেগ পোহাচ্ছেন। ঠিক এই নির্বাচনের আগমুহূর্তে সাম্প্রতিক মাসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সহিংস এই সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটল।

কলম্বিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এবং দেশটির সেনাবাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই অঞ্চলে সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে কোনো পক্ষই নিহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী সানচেজ জানান, বেসামরিক জনগণকে সুরক্ষার জন্য ওই এলাকায় ইতিমধ্যে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তবে গেরিলা গোষ্ঠীর দাবি করা ৫২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি রয়টার্স স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংঘর্ষটি ঘটেছে এফএআরসি-এর দুটি ভিন্ন ভিন্ন ভিন্নমতাবলম্বী উপদলের মধ্যে। এক পক্ষের নেতৃত্বে আছেন- নেস্টর গ্রেগোরিও ভেরা (যিনি ইভান মরডিস্কো নামে পরিচিত)। অন্য পক্ষের নেতৃত্বে আছেন- আলেকজান্ডার দিয়াজ মেন্দোজা (যিনি কালারকা কর্ডোবা নামে পরিচিত)।

এই দুই নেতাই ২০১৬ সালের ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, যার অধীনে প্রায় ১৩,০০০ এফএআরসি সদস্য অস্ত্র সমর্পণ করেছিলেন। বর্তমানে দিয়াজ মেন্দোজার নেতৃত্বাধীন দলটি প্রেসিডেন্ট পেত্রোর সরকারের সাথে শান্তি আলোচনায় অংশ নিচ্ছে। অন্যদিকে, ২০২৪ সালে দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্থগিত হওয়ার পর থেকে ইভান মরডিস্কো’র দলটির সাথে সরকারি বাহিনীর সংঘাত চলছে।

দক্ষিণ-পূর্ব কলম্বিয়ার গুয়াভিয়ারে বিভাগের জঙ্গলঘেরা বারাঙ্কো কলোরাডো গ্রামের কাছে এই ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে এফএআরসি-এর সবচেয়ে বড় ভিন্নমতাবলম্বী গোষ্ঠী সেন্ট্রাল জেনারেল স্টাফ ঘোষণা করেছিল যে, তারা আগামী ২০ মে থেকে ১০ জুন পর্যন্ত সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে দেশব্যাপী সামরিক অভিযান স্থগিত রাখবে। তবে তারা সামগ্রিক সামরিক তৎপরতা সম্পূর্ণ বন্ধের ঘোষণা দেয়নি। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সাথে তাদের এই লড়াই অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে, এই নির্বাচনি সপ্তাহান্তকে সামনে রেখে ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি-এর বিদ্রোহীরাও পৃথক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *