পর্যটকের পদচারণায় প্রাণ ফিরেছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে

পর্যটকের পদচারণায় প্রাণ ফিরেছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে

পর্যটকের পদচারণায় প্রাণ ফিরেছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ঈদুল আজহার ছুটি ঘিরে শুরুতে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ফিরতে শুরু করেছে প্রাণচাঞ্চল্য।
শনিবার (৩০ মে) বিকেলের দিকে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা গেছে দর্শনার্থীদের ঢল। সমুদ্রের গর্জন, শীতল বাতাস আর অপরূপ সূর্যাস্ত উপভোগ করতে পরিবার-পরিজন নিয়ে সৈকতে ভিড় করছেন দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা মানুষ।
সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে মানুষের উপস্থিতি। কেউ সমুদ্রস্নানে মেতেছেন, কেউবা বালুচরে হেঁটে সময় কাটাচ্ছেন। অনেকে আবার স্মার্টফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ঈদের আনন্দের মুহূর্তগুলো স্মরণীয় করে রাখছেন।
পর্যটনসংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘ ছুটি থাকা সত্ত্বেও এবার আগাম বুকিং প্রত্যাশার তুলনায় কম ছিল। কারণ ঈদের সরকারি ছুটির বড় অংশ সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলে যাওয়ায় অনেকেই সংক্ষিপ্ত সফরের পরিকল্পনা করেন। তবে ঈদের দিন পেরিয়ে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। বর্তমানে হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে বুকিং বাড়ছে এবং আগামী কয়েক দিনে আরও বেশি পর্যটক আসার আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেলে নানা ধরনের জুস, ফুড ফেস্টিভ্যাল আয়োজন করেছে। সেখানে মৌসুমি নানা ফল দিয়ে তৈরি বিশেষ সব খাবার ও ডেজার্ট উপভোগের সুযোগ পাচ্ছেন পর্যটকরা।
ঢাকার মিরপুর থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটক মাহমুদ মিঞা বলেন, “শহরের কর্মব্যস্ত জীবন থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে এসেছি। বিকেলের সমুদ্র আর পরিবেশ সত্যিই মনকে প্রশান্ত করে।”
পর্যটকের পদচারণায় প্রাণ ফিরেছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে
রাজশাহী থেকে আসা কলেজশিক্ষার্থী শশী জান্নাত বলেন, “বন্ধুদের সঙ্গে প্রথমবার কক্সবাজারে ঈদের ছুটি কাটাচ্ছি। সৈকতের পরিবেশ এবং মানুষের উচ্ছ্বাস দেখে খুব ভালো লাগছে।”
গাজীপুর থেকে আসা ব্যবসায়ী সিরাজ হাসান বলেন, “আগে ভেবেছিলাম পর্যটক কম থাকবে। কিন্তু বিকেলে সৈকতে এসে দেখি মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি। ঈদের আমেজটা এখানেই বেশি অনুভব করছি।”
সৈকতে দায়িত্ব পালনরত সি-সেইফ লাইফগার্ডের সুপারভাইজার মুহাম্মদ ওসমান বলেন, “পর্যটকদের নিরাপদ সমুদ্রস্নান নিশ্চিত করতে আমাদের সদস্যরা বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সবাইকে নির্ধারিত এলাকার মধ্যে থেকে গোসল করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”
ট্যুরস অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টুয়াক)-এর সভাপতি আনোয়ার মোস্তফা বলেন, “আগাম বুকিং খুব বেশি না থাকলেও ঈদের পর থেকে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। আগামী কয়েক দিনে পর্যটন খাতে আরও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আমরা আশা করছি।”
কক্সবাজার হোটেল-গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, “ছুটির কাঠামোর কারণে এবার পর্যটক আসার সময় কিছুটা সীমিত হয়েছে। তারপরও কক্সবাজারে কয়েক দিনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পর্যটকের সমাগম ঘটবে বলে আমরা মনে করছি। অধিকাংশ আবাসিক হোটেলেই এখন বুকিং বাড়ছে।”
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের সদ্য বদলি আদেশ পাওয়া পুলিশ সুপার নাহিদ আদনান তাইয়ান বলেন, “ঈদ উপলক্ষে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। সৈকতের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ছাড়াও ইনানী, হিমছড়ি ও পাটোয়ারটেক এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।”
  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *