লন্ডনে প্রশ্নের মুখে ভারতের প্রধান বিচারপতি, ‘ককরোচ’ ইস্যু নিয়ে উত্তেজনা
![]()
নিউজ ডেস্ক
যুক্তরাজ্যের লন্ডনের বার্কবেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারতের প্রধান বিচারপতি (সিজেআই) সূর্য কান্তের একটি বক্তৃতা প্রশ্নোত্তর পর্বে বিতর্কের মুখে পড়ে। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন অংশগ্রহণকারী ভারতে ভিন্নমত দমন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, যার ফলে অনুষ্ঠানটি কিছুটা ব্যাহত হয়।
শুক্রবার (৬ জুন) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৪ জুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আন্তর্জাতিক আইন শীর্ষক বক্তৃতা শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ ঘটনা ঘটে। এক অংশগ্রহণকারী ভারতে গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি ও ভিন্নমত প্রকাশের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার দাবি, এসব বিষয় বিচারপতির বক্তব্যেও প্রতিফলিত হচ্ছে।
অন্য এক অংশগ্রহণকারী বিচারপতির ১৫ মে দেওয়া একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলতে চাইলে মডারেটর জানান, আলোচনার বিষয়বস্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আন্তর্জাতিক আইন হওয়ায় ওই প্রশ্ন গ্রহণযোগ্য নয়।
এ সময় কিছু দর্শক উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং পরিবেশ কিছুটা অস্থির হয়ে পড়ে। পরে আয়োজকরা সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
ঘটনার পর যুক্তরাজ্যে অবস্থিত ভারতের হাইকমিশন এক বিবৃতিতে এ ধরনের আচরণকে ‘অশোভন’ বলে উল্লেখ করে নিন্দা জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, গণতান্ত্রিক সমাজে মতভিন্নতা স্বাভাবিক হলেও তা অবশ্যই শালীন ও শ্রদ্ধাশীলভাবে প্রকাশ করতে হবে।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় ১৫ মে আদালতে বিচারপতি সূর্য কান্তের এক মন্তব্যকে ঘিরে। তিনি তখন বেকার তরুণদের সামাজিক মাধ্যম ও তথ্য জানার অধিকার (আরটিআই) কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে তাদের ‘ককরোচ ও প্যারাসাইটস’ বলে উল্লেখ করেন। এ মন্তব্য ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
পরে তিনি ব্যাখ্যা দেন, তার মন্তব্যটি মূলত ভুয়া ডিগ্রিধারী কিছু ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছিল, সাধারণ বেকার তরুণদের নয়।
এ ঘটনার পর ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামের একটি ব্যঙ্গাত্মক গোষ্ঠী বিষয়টি ঘিরে প্রতিক্রিয়া জানায় এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রচারণা চালায়। সংগঠনটি দিল্লির যন্তর-মন্তরে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।