দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনীর মানবিক সহায়তা: শিক্ষা উপকরণ, সৌরবিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ

দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনীর মানবিক সহায়তা: শিক্ষা উপকরণ, সৌরবিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ

দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনীর মানবিক সহায়তা: শিক্ষা উপকরণ, সৌরবিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

“সবার জন্য সেনাবাহিনী” এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে বান্দরবানের দুর্গম ও প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রুমা জোন (৩৬ বীর)। শিক্ষা, বিদ্যুৎ সুবিধা ও সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

শুক্রবার (৬ জুন) সকাল ১০টায় রুমা জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে রুমা উপজেলার রাইংখিয়াং পুকুর পাড়া আর্মি ক্যাম্পের আওতাধীন বিভিন্ন পাড়ায় শিক্ষা উপকরণ, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় পুকুর পাড়া, প্রংজং পাড়া, চার্জিং পাড়া, সেপ্রু পাড়া ও সূরাহা পাড়ার শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে গীর্জার জন্য সৌরবিদ্যুৎ (সোলার) সিস্টেম, স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য ছাতা, ব্ল্যাকবোর্ড, সাউন্ড সিস্টেম, নিরাপত্তা লাইট এবং জেনারেটর উল্লেখযোগ্য।

স্থানীয়রা জানান, দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমিত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এসব এলাকায় শিক্ষা ও মৌলিক সেবার সুযোগ এখনও অনেকাংশে সীমিত। ফলে সেনাবাহিনীর এ ধরনের সহায়তা স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সহায়তা পাওয়া স্থানীয় বাসিন্দা সাধু ত্রিপুরা বলেন, “আমাদের এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা কঠিন হওয়ায় অনেক সময় প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া যায় না। সেনাবাহিনীর দেওয়া সোলার সিস্টেম ও শিক্ষা উপকরণ আমাদের জন্য অনেক উপকার বয়ে আনবে। আমরা তাদের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।”

জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই দায়িত্ব শেষ করে না, বরং দুর্গম অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষা, বিদ্যুৎ সুবিধা ও সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনী সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই মানবিক উদ্যোগ শিক্ষার প্রসার, জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একইসঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জানিয়েছে, পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি, সম্প্রীতি ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *