শূন্য রেখায় আটকে থাকা ৪০ জন বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে, দাবি বিএসএফের
![]()
নিউজ ডেস্ক
পশ্চিমবঙ্গের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের চারটি পয়েন্টে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মধ্যে চলা চরম উত্তেজনাপূর্ণ এক অচলাবস্থার অবসান ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে।
ওপার থেকে অবৈধ পুশইনের পর গত শুক্রবার থেকে শূন্য রেখায় আটকে থাকা প্রায় ৪০ জন কথিত ‘বাংলাদেশি’ (মূলত বাংলাভাষী মুসলিম) নাগরিক শনিবার সকালের মধ্যে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন বলে দাবি করেছে বিএসএফ।
ভারতীয় গণমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল কোচবিহারের মেখলিগঞ্জের পানিশালায়, ১৩৪ নম্বর পিলারের কাছে। সেখানে ১০ জন আটকে ছিলেন।
বিজিবি তাদের গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে দাবি করেছিল যে, ভারত থেকে তাদের “অবৈধভাবে পুশইন” করা হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিএসএফ ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের প্রস্তাব দিলেও বিজিবি তা প্রত্যাখ্যান করে। তবে কয়েক ঘণ্টা পর, শনিবারের প্রথম প্রহরে দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে বড় ধরনের এক বাদানুবাদের পর বিজিবি পিছু হটে বলে দাবি গণমাধ্যমটির। বিএসএফের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আটকে পড়া ওই ব্যক্তিরা সবাই এখন বাংলাদেশে ফিরে গেছেন।
কোচবিহারের শীতলকুচি ও দিনহাটা এবং জলপাইগুড়ি সদরের সাকাতি— এই বাকি তিনটি স্থানেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে নারী ও শিশুসহ আরও প্রায় ৩০ জন কথিত ‘বাংলাদেশি’ নাগরিক শুক্রবার দিনভর সীমান্তে আটকে থাকার পর রাতারাতি জিরো পয়েন্ট থেকে গায়েব হয়ে যান। বিএসএফের দাবি, তারা সবাই বাংলাদেশ সীমান্তে ঢুকে পড়েছেন।
সীমান্তে উত্তেজনা চলাকালীন একটি ভিডিও চিত্র সামনে এসেছে, যেখানে আটকে পড়া মানুষদের সামনে বিএসএফ ও বিজিবির কর্মকর্তাদের তর্কাতর্কি করতে দেখা গেছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার মতে, ভিডিওটিতে এক নারীকে বলতে শোনা যায়, তার বাড়ি খুলনায় এবং তিনি তার গ্রামে ফিরে যেতে চান। বিএসএফ সূত্র দাবি করেছে, এই ভিডিও ফুটেজটিকেই হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে তারা বিজিবিকে ওই নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করেছে।
এদিকে বিএসএফের এই দাবির বিপরীতে বিজিবি জানিয়েছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অবৈধ পুশব্যাকের চেষ্টা তারা কঠোরভাবে প্রতিহত করেছে। গতকাল শনিবার বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম এক অফিসিয়াল বিবৃতিতে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফ-এর আটটি পৃথক “পুশইন” চেষ্টা নস্যাৎ করেছে বিজিবি।
বিজিবির বিবৃতিতে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা ও নদীয়ার নিকটবর্তী যাদবপুর সীমান্ত দিয়ে ৩ জনের অবৈধ প্রবেশ ঠেকানো হয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুরের করমুডাঙ্গা সীমান্তে ১৭ জনকে পুশইন চেষ্টা রুখে দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আসামের ধুবড়ির নিকটবর্তী বরখাতা ও পায়শট্টিবাড়ি সীমান্তে ২১ জনের অনুপ্রবেশ রোধ করা হয়েছে। কোচবিহারের দীঘলটারী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টার সময় ৭ জনকে প্রতিহত করেছে বিজিবি।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।