কাপ্তাই হ্রদে পানি সংকট: বন্ধ তিন ইউনিট, বিদ্যুৎ উৎপাদন নেমেছে ৬০ মেগাওয়াটে

কাপ্তাই হ্রদে পানি সংকট: বন্ধ তিন ইউনিট, বিদ্যুৎ উৎপাদন নেমেছে ৬০ মেগাওয়াটে

কাপ্তাই হ্রদে পানি সংকট: বন্ধ তিন ইউনিট, বিদ্যুৎ উৎপাদন নেমেছে ৬০ মেগাওয়াটে
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে পানি দ্রুত কমে যাওয়া এবং দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পানির সংকটে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে তিনটি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

বুধবার সকালে কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পর্যাপ্ত পানির অভাবে বর্তমানে কেন্দ্রের মাত্র দুটি ইউনিট চালু রয়েছে। এ দুটি ইউনিট থেকে বর্তমানে প্রায় ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, এ সময়ে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর থাকার কথা ছিল ৭৮ দশমিক ০৮ মিন সি লেভেল (এমএসএল)। কিন্তু বর্তমানে পানির স্তর নেমে দাঁড়িয়েছে ৭৩ দশমিক ৯৯ এমএসএলে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর ৬৮ এমএসএলে নেমে গেলে তা বিপজ্জনক সীমা হিসেবে বিবেচিত হয় এবং তখন বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। অন্যদিকে হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ এমএসএল।

পানি সংকটের প্রভাব শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নয়। হ্রদের পানির স্তর কমে যাওয়ায় রাঙামাটির হ্রদনির্ভর বিভিন্ন এলাকার মানুষের দুর্ভোগও বাড়ছে। বিশেষ করে বিলাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলার নৌপথে যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হ্রদের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে চর জেগে উঠতে শুরু করেছে। ফলে নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে এবং যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে ভোগান্তি বাড়ছে। অনেক এলাকায় নৌপথে চলাচলের সময় বিকল্প রুট ব্যবহার করতে হচ্ছে।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, “গত দুই মাস ধরে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় হ্রদে পানির প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এ কারণে পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে তিনটি ইউনিট বন্ধ রাখতে হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে দুটি ইউনিট চালু রেখে প্রায় ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট। তবে সব ইউনিট একসঙ্গে চালু থাকলে প্রায় ২৪০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।”

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হলে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর আরও কমে যেতে পারে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের নৌ যোগাযোগ ও জনজীবনে আরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *