রাষ্ট্রীয় কাঠামোর শীর্ষপদে বসে অসাংবিধানিক ‘আদিবাসী’ শব্দের অনধিকার চর্চা ডেপুটি স্পিকারের
![]()
নিউজ ডেস্ক
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা এবং অভ্যন্তরীণ স্থায়িত্বের প্রশ্নে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোর পরিচয়গত সংজ্ঞা একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কৌশলগত রাজনৈতিক ইস্যু। দেশের সর্বোচ্চ আইন ও পবিত্র সংবিধান যেখানে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও দ্ব্যর্থহীনভাবে দেশের মূল বাঙালি জনগোষ্ঠী ব্যতীত অন্যান্য ভিন্ন সংস্কৃতি ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারীদের আইনি পরিচয় সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে, সেখানে রাষ্ট্রীয় অত্যন্ত দায়িত্বশীল পদের একজন ব্যক্তির মুখ থেকে অসাংবিধানিক ‘আদিবাসী’ শব্দটির বারবার ব্যবহার এক গভীর জাতীয় সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।
গত রবিবার (১৪ জুন, ২০২৬) জাতীয় সংসদে ২০২৬/২০২৭ বাজেট অধিবেশনে ৩১৯ নং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আন্না মিনজ অত্যন্ত সচেতনভাবে ও দৃঢ়তার সাথে নিজেকে ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ এবং ‘সমতলের নৃ-গোষ্ঠী’র প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ওঁরা সম্প্রদায়ের একজন সচেতন নারী। সমতলের প্রান্তিক নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধির ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি যখন নিজের বক্তব্য শেষ করেন, ঠিক তখনই সংসদের সভাপতিমণ্ডলীর শীর্ষ আসনে বসা ডেপুটি স্পিকারের এক অসাংবিধানিক ও অদূরদর্শী মন্তব্য সমগ্র রাষ্ট্রকে হতবাক করে।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিজে যেখানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিচয়ে স্বাচ্ছন্দ্য ও গর্ববোধ করছেন, সেখানে সংসদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদাধিকারী ডেপুটি স্পিকার সম্পূর্ণ অযাচিতভাবে ‘আদিবাসী’ শব্দটি টেনে এনে বলেন, “এটা আসলে আমরা সকলে জানি আদিবাসী যারা আছেন তারা পিছিয়ে পড়েছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্যার যখন বিডিআর গঠন করেন, তখন বিডিআরে অনেক ছিল গারো, হাজং আদিবাসীরা। তার পরবর্তীতে প্রাইমারি স্কুলে অনেক ছিল। কালের পরিবর্তনে তাদের অংশগ্রহণটা কমে গেছে। এই বিষয়টা এড্রেস করেছেন অসংখ্য ধন্যবাদ।”
একজন সচেতন নারী সংসদ সদস্যের নিজের আইনি ও সাংবিধানিক পরিচয়কে ছাপিয়ে ডেপুটি স্পিকারের এমন আগ বাড়িয়ে আদিবাসী শব্দ প্রয়োগ কেবল অজ্ঞতা নয়, বরং এর পেছনে গভীর কোনো গোষ্ঠীগত এজেন্ডা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
সাংবিধানিক নীতি ও আইনি প্রজ্ঞাপনের প্রকাশ্য অবমাননা
জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদাধিকারী এবং একজন উচ্চশিক্ষিত আইনজ্ঞের মুখ থেকে আসা এই ধরনের অসংবিধানিক বক্তব্য দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রশ্নে মারাত্মক আঘাত। দেশের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত হওয়া ২৩ (ক) অনুচ্ছেদে অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে রাষ্ট্র কর্তৃক বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়-এর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের ব্যাপারে সুস্পষ্ট সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। এখানে ‘আদিবাসী’ শব্দের কোনো স্থান নেই।
রাষ্ট্রীয় পরিমণ্ডলে আদিবাসী শব্দ ব্যবহারের কুফল ও এর আন্তর্জাতিক আইনি জটিলতা অনুধাবন করে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন বিভাগ সময়ে সময়ে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। ২০২২ সালের ১৯ জুলাই সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত বিশেষ নির্দেশনায় (স্মারক নং-১৫.০০.০০০০.০২৪.১৮.১৪.৫৯৬) দেশের সকল গণমাধ্যম, বুদ্ধিজীবী এবং সুশীল সমাজকে টেলিভিশন টকশো, সেমিনার ও আলোচনা সভায় আদিবাসী শব্দের পরিবর্তে সংবিধান সম্মত শব্দ ব্যবহারের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
এমনকি ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির খ খণ্ড এবং জেলা পরিষদ আইনে সুনির্দিষ্টভাবে উপজাতি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে এবং চুক্তির শুরুতে পার্বত্য চট্টগ্রামকে উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চল হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে, যা জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) প্রধান সন্তু লারমা এবং চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় নিজেরা স্বাক্ষর করে মেনে নিয়েছিলেন। পাশাপাশি, ২০১৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর জারিকৃত পত্রে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো স্পষ্ট করে যে, আদিবাসী শব্দটি বর্তমান পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক ভয়াবহ হুমকি। ফলে আদিবাসী নামধারী সকল এনজিওর নাম পরিবর্তন বাধ্যতামূলক করা হয়। ডেপুটি স্পিকারের এই বক্তব্য প্রকারান্তরে সরকারের এই সকল আইনি প্রজ্ঞাপন ও সাংবিধানিক বিধিনিষেধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের শামিল।
ঐতিহাসিক সত্য ও নৃ-তাত্ত্বিক বাস্তবতার বিকৃতি
ডেপটি স্পিকারের এই বিতর্কিত ভূমিকার সূত্রপাত মূলত আরও পূর্বে, যখন তিনি নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নিজ এলাকায় গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নের জবাবে এক দীর্ঘ ইতিহাস-বিবর্জিত ও রাষ্ট্রবিরোধী তত্ত্ব প্রদান করেন। সে সময় তিনি দাবি করেছিলেন, আদিবাসী বলছেন, প্রকৃত অর্থে ওনারা কিন্তু আদিবাসী, আর এই অঞ্চলে মানব সভ্যতার ইতিহাস যদি দেখেন তাদের পদচারণা প্রথম হয়েছে, সে হিসেবে আমরা তাদেরকে আদিবাসী বলি। তিনি আরও বলেন, ওনারাই আসলে একসময় সম্পদের মালিক ছিল, আমরা বাঙ্গালরা একসময় এসে একটু একটু করে নিয়ে তাদের জায়গায় বসবাস করছি।
একজন আইন প্রণেতার এই বক্তব্য কেবল ঐতিহাসিক মিথ্যাচারই নয়, বরং এই বদ্বীপের মূল মালিক কোটি কোটি বাঙালি জনগোষ্ঠীকে ভূমিদস্যু বা অবৈধ বহিরাগত হিসেবে চিত্রায়িত করার এক ঘৃণ্য অপচেষ্টা। প্রখ্যাত নৃ-তত্ত্ববিদ লুই মর্গানের বৈজ্ঞানিক সংজ্ঞানুযায়ী আদিবাসী বলতে বোঝায়, কোনো স্থানে বসবাসকারী আদিমতম জনগোষ্ঠী যাদের উৎপত্তি, ছড়িয়ে পড়া এবং বসতি স্থাপন সম্পর্কে বিশেষ কোনো ইতিহাস জানা নেই।
প্রত্নতাত্ত্বিক ও নৃতাত্ত্বিক সুনির্দিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, এই বাংলা অঞ্চলে আদিম মানুষের জীবনযাত্রা ও সভ্যতার বিকাশ শুরু হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ২৫০০ থেকে ৩০০০ বছর আগে, যার অকাট্য প্রমাণ মেলে উয়ারী-বটেশ্বর বা পুণ্ড্রবর্ধনের খননকার্যে। এর বিপরীতে, পার্বত্য ও সমতলের ক্ষুদ্র উপজাতিসমূহের এ দেশে বসবাসের নথিবদ্ধ ইতিহাস কোনোভাবেই ৩০০ থেকে ৩৫০ বছরের বেশি পুরোনো নয়। তারা মূলত সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দীতে মায়ানমার, তিব্বত ও ভারতের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে যুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ নিপীড়ন থেকে বাঁচতে শরণার্থী হিসেবে এ দেশে এসে তৎকালীন শাসকদের মানবিক ঔদার্যে আশ্রয় লাভ করেছিল। এমনকি উপজাতিদের নিজস্ব আইনি কবজ হিসেবে পরিচিত পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০-এর ৫২ ধারাতেও এই অঞ্চলের উপজাতিদের স্পষ্টাক্ষরে অভিবাসী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
যেখানে প্রতিবেশী ভারত ও মায়ানমারের সংবিধানে এদের যথাক্রমে তফসিলি উপজাতি ও জাতীয় জাতিগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, আদিবাসী হিসেবে নয়; সেখানে বাংলাদেশের মাটিতে তাদের প্রথম পদচারণাকারী হিসেবে ডেপুটি স্পিকারের দেওয়া সার্টিফিকেট চরম ধৃষ্টতা ছাড়া আর কিছুই নয়।
জাতীয় নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের হাতিয়ার; এক সুদূরপ্রসারী হুমকি
ডেপুটি স্পিকারের এই অদূরদর্শী ও অসাংবিধানিক বক্তব্য কেবল একটি শব্দ চয়নের ভুল নয়; এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব খণ্ড-বিখণ্ড করার আন্তর্জাতিক নীল-নকশার এক শক্তিশালী হাতিয়ার। পার্বত্য চট্টগ্রামের উগ্র, বিচ্ছিন্নতাবাদী ও স্বাধিকারকামী সশস্ত্র গ্রুপগুলো ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডেপুটি স্পিকারের এই বক্তব্যকে রাষ্ট্রীয় দলিল বা স্টেট রেফারেন্স হিসেবে হইহুল্লোড় করে প্রচার করছে।
আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের ২০০৭ সালের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক ঘোষণা পত্রের ধারাগুলো বিশ্লেষণ করলে এই ষড়যন্ত্রের ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়। যদি কোনোভাবে এই আদিবাসী তকমা প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে এর অনুচ্ছেদ ৩ অনুযায়ী তারা স্ব-নির্ধারণের অধিকার পাবে, যার মাধ্যমে তারা নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণ এবং সার্বভৌম রাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের আইনি ভিত্তি পেয়ে যাবে। অনুচ্ছেদ ৪ অনুযায়ী তারা স্বায়ত্তশাসন ও স্বশাসন প্রতিষ্ঠা করবে, যার ফলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বা সমতলের একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চলে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক, আইনি ও বিচারিক কাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে। সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো, এর অনুচ্ছেদ ২৬ অনুযায়ী ঐতিহ্যগত ভূমির মালিকানার সূত্রে দেশের মোট ভূখণ্ডের এক-দশমাংশ অর্থাৎ সমগ্র পার্বত্য অঞ্চল থেকে মূল জনগোষ্ঠী বাঙালি এবং রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনীকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে রাষ্ট্র বাধ্য হবে। একই সাথে অনুচ্ছেদ ৩০ অনুযায়ী, আদিবাসীদের ভূখণ্ডে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেও রাষ্ট্রীয় সামরিক বাহিনীর কোনো প্রকার কার্যক্রম বা সেনানিবাস স্থাপন করা আদিবাসীদের অনুমতি ছাড়া সম্পূর্ণ বেআইনি গণ্য হবে।
বিগত ২০১১ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. দীপু মনি আন্তর্জাতিক diplomatic চাপ মোকাবিলা করে ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সংজ্ঞানুযায়ী বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী নেই। অথচ বর্তমান ডেপুটি স্পিকারের এই বক্তব্যকে ভবিষ্যতে জাতিসংঘের আদিবাসী সংশ্লিষ্ট ফোরামে বা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাউন্সিলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নীতির বিরুদ্ধে এক অকাট্য প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হলো। যদি কোনোভাবে এই দাবি মেনে নেওয়া হয়, তবে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে একটি স্বাধীন জুম্মল্যান্ড বা খ্রিস্টান কুকি ল্যান্ড রাষ্ট্র গঠনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে গণভোট আয়োজনের আইনি পথ সুগম হবে। এই বিচ্ছিন্নতাবাদের আগুন তখন সমতলের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতেও, যেখানে গারো, সাঁওতাল, হাজং ও অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর এলাকা রয়েছে, সেখানে পৃথক ভূখণ্ডের দাবি হিসেবে ছড়িয়ে পড়বে, যা বাংলাদেশের মানচিত্রকে খণ্ড-বিখণ্ড করে তুলবে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও পরবাসী তত্ত্বের প্রাসঙ্গিকতা
আদিবাসী বিতর্কের এই জাতীয় সংকটের মুখে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল ও বর্তমান নীতিনির্ধারণী মহলের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। বর্তমান সরকারের প্রভাবশালী উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এক ঐতিহাসিক বক্তব্যে এই সংকটের মূল রূপটি উন্মোচন করে প্রশ্ন তুলেছিলেন, ওরা আদিবাসী হলে আমরা কি পরবাসী?
২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, এক শ্রেণীর মানুষ যখন একটি বিশেষ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীকে আদিবাসী বানানোর জন্য উঠেপড়ে লাগে, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, তবে আমরা যারা এ দেশের কোটি কোটি মূল জনগোষ্ঠী, তারা কি তবে এই বাংলার মাটিতে পরবাসী বা বিদেশি? আবহমানকাল ধরে এই মহান বাঙালি জনগোষ্ঠীই এই মাটির সন্তান এবং এই সভ্যতার প্রকৃত নির্মাতা। আমাদের তো এ দেশে আসার কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ বা সময় উল্লেখ নেই যে আমরা অমুক শতাব্দীতে বাইরে থেকে এসেছি। এই ঐতিহাসিক সত্যকে আড়াল করে এক শ্রেণীর সাম্রাজ্যবাদী এনজিও, উগ্র মিশনারি ও করপোরেট সুশীল সমাজ পাহাড় ও সমতলের সরল উপজাতিদের মগজধোলাই করছে এবং তাদের পেছনে বিপুল অর্থ ও আন্তর্জাতিক মদদ জুগিয়ে যাচ্ছে, যার চূড়ান্ত পরিণতি হবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিনাশ।
একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে আসীন থেকে, রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে, দেশের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে এমন সুদূরপ্রসারী মারাত্মক স্থায়ী হুমকি তৈরি করা কোনোভাবেই সাধারণ বা ক্ষমার যোগ্য অপরাধ নয়। এর পূর্বে ডেপুটি স্পিকারের এমন বক্তব্যকে সাধারণ জনগণ অজ্ঞতা হিসেবে বিবেচনা করলেও, জাতীয় সংসদের পবিত্র অধিবেশনে দেশের একজন সচেতন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এমপির বক্তব্যের পর পুনরায় একই স্পর্শকাতর বক্তব্য প্রদান নিঃসন্দেহে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।
দেশপ্রেমিক নাগরিক ও রাষ্ট্রের অংশীজনদের সুনির্দিষ্ট দাবি-
১. জাতীয় সংসদের কার্যবিবরণী থেকে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের এই অসাংবিধানিক ও বিপজ্জনক বক্তব্য অতিবিলম্বে এক্সপাঞ্জ করতে হবে।
২. রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার স্বার্থে এই বিভ্রান্তিকর ও রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্যের জন্য তাঁকে দেশ ও জাতির সামনে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে এবং বক্তব্যটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে।
৩. ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারের সকল স্তরের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গকে এই ধরণের বিভ্রান্তিকর শব্দ প্রয়োগ থেকে বিরত রাখতে কঠোর আইনি কাঠামো নিশ্চিত করতে হবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।